যশোর ২ : বিএনপি’র ঐক্য-অনৈক্যের দিকে তাকিয়ে জামায়াতনূর ইসলাম, যশোর থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫ ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫ ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত যশোর-২ আসন। দু’টি পৌরসভা আর ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটিতে ভোটার ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭২৩। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬২ আর নারী ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯। আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে পরিচিত ছিল। তবে, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগামী নির্বাচনে বিএনপি’র মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবে জামায়াত। জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তেমন কোনো অবস্থান নেই এ আসনে। দলীয় কোন্দল মিটিয়ে বিএনপি’র সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ যদি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন তাহলে বিজয় প্রায় নিশ্চিত। ভিন্নতায় জামায়াতের কব্জায় যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি’র একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা হলেন- যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মিজানুর রহমান খান, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল মুন্নি, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি, বারের সাবেক সভাপতি এবং যশোর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট মোহাম্মদ ইসহ্ক, চৌগাছা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম এবং ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ। অন্যদিকে, জামায়াত ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে লন্ডনপ্রবাসী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। মাঠপর্যায়েও ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। এর আগে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মাওলানা আরশাদুল আলমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি ফরিদকে প্রার্থী করেন। যিনি মাঠের রাজনীতিতে একেবারে নতুন মুখ। নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে অপরিচিত।
বিএনপি’র অবস্থান অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো। দলের নেতাকর্মীদের যেকোনো ধরনের বিপদ-আপদে কাণ্ডারির ভূমিকায় থেকে মিজানুর রহমান খান কর্মীদের সাহস যুগিয়েছেন। গত ১২-১৪ বছর একটানা তিনি মাঠেই পড়ে আছেন। কখনো জেলে, কখনো রাজপথে। এর বাইরে তার কোনো কর্মকাণ্ড ছিল না। আদালত, কারাগার, হাসপাতাল থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের যেকোনো বিপদে পাশে ছিলেন। ফলে আগামী নির্বাচনে যদি দল মিজান খানকে প্রার্থী করলে বিজয় ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেন চৌগাছা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক হোসেন। একই কথা বলেন জগদীশপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা আব্দুল লতিফ লতা, দূর্গাপুরের মিজানুর রহমান, ফুলসারার লিয়াকত আলী, পুড়োপাড়ার হযরত আলী, ঝিকরগাছার বাঁকড়ার হাজী মিজান, দিকদানার ইশারত আলী, কলেজ শিক্ষক আসাদুজ্জামান শাহিন, লিয়াকত আলীসহ অনেকেই।
তবে, মনোনয়নপ্রত্যাশী জহুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের কর্মকাণ্ডে নিজেকে উৎসর্গ করে রেখেছি এবং ভবিষ্যতেও রাখবো। চৌগাছা উপজেলা থেকে এ পর্যন্ত কেউ প্রার্থী হতে না পারায় এবার আমাকে প্রার্থী করা হবে বলে আশাবাদী। তবে, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে। কোনো গ্রুপিং বা প্রতিহিংসা নেই। আগামী নির্বাচনে দল যাকে প্রার্থী করবেন, আমরা সকলেই সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে দলের বিজয়কে নিশ্চিত করতে চাই। এদিকে, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মোর্তজা এলাহী টিপু বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। একাধিক নেতা একই আসন থেকে এমপি হওয়ার যোগ্য দাবিদার। কিন্তু দল যাকে মনোনয়ন দেবেন আমরা সবাই মিলে তার পক্ষেই কাজ করবো। এটা আমাদের অঙ্গীকার।
বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান খান বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আমি চৌগাছা এবং ঝিকরগাছা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সব স্তরের নেতাকর্মীদেরকে নানাভাবে বুকে আগলে রেখেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে দলের নিবেদিত নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে, ভবিষ্যতেও পাশে থাকবো। আশা করি, আগামী নির্বাচনে দল আমাকে মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দেবে- সেটা আমার প্রত্যাশা। সাবিরা নাজমুল মুন্নি বলেন, ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। জনগণের জন্য কাজ করেছি। আমি আশাবাদী, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে আমি দলের মনোনয়ন পাবো। প্রবীণ বিএনপি নেতা এডভোকেট মো. ইসহ্ক বলেন, আমি দীর্ঘদিন যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। দু’বার ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে আমি এই আসনে নির্বাচন করেছি। বিএনপি আমাকে প্রার্থী বিবেচনায় রাখবেন বলে আশা করি। ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ বলেন, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাই। এজন্য এলাকায় গণসংযোগ করছি। তবে দলের সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নেবো।
অপরদিকে, জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে আহতদের জন্য আমি লন্ডন থেকে ২৫ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়ে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দেয়ার পূর্বেই আমি আমার দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিবর্তন করবো। সবমিলিয়ে আমি ঝিকরগাছা-চৌগাছা সাধারণ মানুষের সেবক হিসেবে থাকতে চাই। এদিকে, বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্যান্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে এ আসনে গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে না।
জনতার আওয়াজ/আ আ