খুলনা সওজ এর হিসাবরক্ষক বাদশা মিয়ার বহুতল বিশিষ্ট বাড়িসহ বিপুল সম্পদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, আগস্ট ৮, ২০২২ ৪:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, আগস্ট ৮, ২০২২ ৪:২১ অপরাহ্ণ

খুলনা ব্যুরোঃ
খুলনা মহানগরীর মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার ১২ নম্বর সড়কে ঢুকলে দেখা মিলবে চোখ ধাঁধানো বহুতলবিশিষ্ট “কবি কুঞ্জ” নামক একটি বাড়ি। বাইরের ফটক দেখলে মনে হবে বাড়ির মালিক আমেরিকা অথবা ইউরোপ প্রবাসী কিংবা কোনো ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। কিন্তু না , বিলাসবহুল এই বাড়িটি খুলনা সড়ক ও জনপদ’র বিভাগের হিসাবরক্ষক মোল্যা বাদশা মিয়ার। একজন হিসাবরক্ষক হয়ে কিভাবে কেডিএর প্লটের বাড়ির মালিক হলেন তা ভাবনাতীত। শুধু বাড়ি নয়, তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ ও সম্পদ গড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রে জানা যায়,আন্ডার টেবিল বানিজ্যে করে ঠিকাদারদের ফাইল আটকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা দিলে তবেই স্বাক্ষর হবে ঠিকাদারদের বিলের ফাইলে। সম্প্রতি এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে কানাঘোষা হওয়ায় বাদশা মিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
খালিশপুরের মুজগুন্নী এলাকায় কবি কুঞ্জ নামে এ বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেন তিনি। তার এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে – বেনামে সম্পদ ও ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (এফ ডি আর) ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে । বর্তমানে তিনি খুলনা জেলখানা ঘাট রোডস্থ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সওজে যোগদানের আগে তিনি ছিলেন খুলনা গনঃপূর্ত বিভাগ ১ এবং ২ এর হিসাবরক্ষক ছিলেন। অর্থ মন্ত্রনালয়ের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত বাদশা মিয়া ডেপুটেশনের মাধ্যমে খুলনা গণপূর্তে হিসাব শাখায় বদলী হওয়ার পরই ঘুড়ে যায় তার ভাগ্যের চাঁকা। তিনি গণপূর্তের হিসাবরক্ষক থাকাকালীনই গড়ে তোলেন সম্পদের পাহার । তার মাসিক বেতনের সাথে তার এবং পরিবারের জীবনযাপন অনেক বড় বড় ব্যাবসায়ীদের হার মানিয়েছেন । তার কর্ম জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কত টাকা বেতন ও বোনাসসহ আনুসাংঙ্গিক অর্থ পেয়েছেন দুদক তার সঠিক তদন্ত হলেই বেড়িয়ে যাবে এই বিপুল সম্পদ তিনি কিভাবে গড়ে তুলেছেন ।
জানা যায়, গনপূর্ত কার্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে ঠিকাদারদের নিকট থেকে অবৈধভাবে আদায় করেছেন বিপুল অর্থ। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক গণপূর্তের বিভিন্ন কন্সট্রাকশন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানর মালিকরা জানান, বিলে স্বাক্ষর করাতে হলে বাদশা মিয়াকে টাকা না দিয়ে বিল পাওয়া য়ায়না । আর তাকে নির্দিষ্ট একটা পার্সেন্ট টাকা দেয়া নাহলে বিল পাওয়া নিয়ে হয়রানী হওয়ার ভয় থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান, বাদশা মিয়া কে টাকা না দিলে বিলের কপিতে স্বাক্ষর করেন না । তাকে মোট বিলের নির্দিষ্ট পার্সেন্টে টাকা না দিলে স্বাক্ষর হয় না বিলে। তবে টাকা দিলে ঘোরাঘুরি করতে হয়না।
এছাড়া বিলের টাকা আটকে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই সেসময় মুখ খুলতে সাহস পায়নি বলে জানান এক ঠিকাদার। বর্তমানে সড়ক ও জনপদ কার্যালয়ের বিভাগীয় হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত থেকেও একই অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে বাদশা মিয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন ” আমি একজন হাজী এবং কবি মনের মানুষ। তাছাড়া এ বহুতল বাড়িটি নির্মাণ করা লোনের মাধ্যমে, এখন পর্যন্ত লোনের কিস্তি পরিশোধ করে আসছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।একটি কুচক্রীমহল আমার সম্মানহানি করার জন্য এরুপ অপপ্রচার চালাচ্ছে ।
বাদশা মিয়ার এই বহুতল বাড়ি ও বিপুল সম্পদের তথ্য সংগ্রহকালে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাসহ একটি বিশেষ পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে যেন সংবাদ প্রচার না হয় তার জন্য তিনি বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ করেন এবং তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিবেদকে নানা ভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হন ।
জনতার আওয়াজ/আ আ