গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ৬ মাস ধরে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৫ ৩:৩৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৫ ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ছবি প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় টানা ৬ মাস ধরে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
উৎপাদন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে সার আমদানির মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ করে দিতে একটি চক্রের নির্দেশে বছরের বেশিরভাগ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। ফলে প্রতিবছরই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে কারখানাটি।
আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা এলাকায় ৫০০ একরেরও বেশি জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত এ সার কারখানা ১৯৮৩ সালে চালু হয়। প্রথমদিকে দৈনিক ১৬শ’ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে দিনে গড়ে ১১শ’ থেকে সাড়ে ১১শ’ টন উৎপাদন করতে পারে। প্রিলড্ ইউরিয়া কৃষকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় কারখানার ডিলারদের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও কুমিল্লা, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় সরবরাহ করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন চালু রাখা যাচ্ছে না। সর্বশেষ চলতি বছরের (১ মার্চ) ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
পরিসংখ্যান বলছে, টানা কয়েক বছর ধরেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম সার উৎপাদন হয়েছে আশুগঞ্জ সার কারখানায়।
২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন, উৎপাদন হয় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৫৭ মেট্রিক টন।
২০২১-২২ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন, উৎপাদন হয় ৯৬ হাজার ৪৬ মেট্রিক টন।
২০২২-২৩ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ মেট্রিক টন, উৎপাদন হয় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ মেট্রিক টন, উৎপাদন হয় মাত্র ৪৮ হাজার ৪৫৩ মেট্রিক টন।
এ প্রসঙ্গে আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কাউসার বলেন, ‘‘একটি নতুন কারখানা স্থাপন করতে হলে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। অথচ আশুগঞ্জ কারখানা সচল রাখতেই সরকারের বিপুল লাভ হতে পারে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ও কিছু যন্ত্রপাতি সংযোজন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ কারখানা আবারও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে।’’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও কমিশন বাণিজ্যের জন্য সার আমদানি করা হতো। এখনো একইভাবে দেশীয় কারখানাগুলো বন্ধ রেখে বিদেশ থেকে সার আমদানি করা হচ্ছে। অথচ দেশীয় কারখানাগুলো সচল রাখা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো।’’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুগঞ্জ সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘‘গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাগুলোতে রেশনিং করে গ্যাস দেওয়া হয়। পূর্বে একটি চক্র এ সংকটকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে সার আমদানির দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তবে এখন আর সেই চক্র নেই। গ্যাস সংযোগ পাওয়া গেলে ১৫ দিনের মধ্যেই ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।’’
জনতার আওয়াজ/আ আ