এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য পাগল হবেন না : গয়েশ্বর - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৩১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য পাগল হবেন না : গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫ ২:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫ ২:৪৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদের হাত থেকে যদি দেশকে রক্ষা করতে চান, তাহলে জনগণের জন্য রাজনীতি করুন, এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য পাগল হবেন না। যদি নিঃস্বার্থভাবে গণতন্ত্র উপহার দিতে চান, দেশকে একটি জায়গায় আনতে চান, তাহলে আগে নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করুন। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে পারবেন।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে হিউম্যান রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন (হিউরাফ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লব এবং আগামীর গণতন্ত্র ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, আমাদের অবস্থা এখন এমন, মুসল্লির চেয়ে ইমাম বেশি। আমরা বোধ হয় সেই পরিস্থিতিতে চলে যাচ্ছি। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা একেকজনের কাছে একেক রকম। আমার মনে হয় ৫ আগস্টের পর জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। একসঙ্গে থেকেছি, একসঙ্গে জেল খেটেছি, কিন্তু এখন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য আগের মতো এক সুরে কথা বলতে পারি না।

ইতোমধ্যে বিএনপিকে ভারতের দালাল বলা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন, তারা নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি করছেন। তাহলে আমরা কী স্বপ্ন দেখলাম, আর কোন পথে এগোচ্ছি?

তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ কতদিন তা লেখা নেই। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ নির্ধারিত ছিল ৯০ দিন। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ হলো অনন্তকাল। যতদিন থাকবে, ততদিন বৈধ। যদি তাই না হয়, তবে একটি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাদের সময় কেনো হয় না? যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ৯০ দিনে নির্বাচন দিতে পারে, তাহলে তাদের দুই বছর কেনো লাগে?

তিনি আরও বলেন, মৌলবাদীরা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে। তাদের যুক্তি হলো, সঙ্গে থাকলে স্বর্গে যাবেন, না থাকলে দোজখে যাবেন। অথচ নিজেরা বেহেশতে যাবে কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। আমি বলব, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটছে। আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে এখন সাম্প্রদায়িক উগ্র উন্মাদনার সৃষ্টি হচ্ছে। এর মাধ্যমে মব তৈরি হয়। আমরা যদি রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের পথে রাখতে না পারি, তবে সাম্প্রদায়িকতা ফ্যাসিবাদের চেয়ে দ্বিগুণ কঠিন ও জনবিরোধী হবে। আধুনিক বিশ্বে তারা মুক্তচিন্তা ও প্রতিভার বিকাশ হতে দেবে না।

তিনি আরও বলেন, ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোনো সাংঘর্ষিক ব্যাপার নেই, আছে অপব্যাখ্যা। এই অপব্যাখ্যার কারণে মানুষ ন্যায়ের কথা বলতে পারে না। অনেকগুলো দল আছে যারা ট্রাভেল এজেন্সির মতো বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের গান গাইতে গাইতে অনেক কুসংস্কার চাপিয়ে দিচ্ছে। বিদেশ থেকে বুদ্ধিমান লোক আনা হয়েছে, কিন্তু এত বুদ্ধিমান এক জায়গায় হলে যা হয় তাই হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ৩১ দফার ভিত্তিতে প্রায় ৬০টি দল একত্র হয়েছিলাম ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে। সেই ৩১ দফায় পিআর শব্দটি ছিল না। গণতন্ত্রের জন্য যদি এটা জরুরি হতো, তাহলে আজ যারা পিআরের কথা বলছেন, তারা তখনই মতামত দিতেন।

হিউরাফের আহ্বায়ক আহমেদ হুসেইনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফাত আলী সফু প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ