নিউইয়র্কে ড. ইউনূসের আগমন ঘিরে উত্তেজনা—যা বললেন মোস্তফা ফিরোজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:১১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসের আগমন ঘিরে উত্তেজনা—যা বললেন মোস্তফা ফিরোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন বাংলাদেশে তেমনভাবে শক্তি প্রদর্শন করতে না পারলেও নিউইয়র্কে তারা শক্তি দেখিয়েছে। যেহেতু প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন রয়েছে, সেহেতু বিএনপিও পাল্টা শোডাউন করেছে। এই শোডাউনে পাল্টাপাল্টি স্লোগান চলেছে এবং পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে উভয়পক্ষকে সরিয়ে দেয়। এতে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।


সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মোস্তফা ফিরোজ এসব কথা বলেন।

মোস্তফা ফিরোজ বলেছেন, জ্যাকসোন হাইট হচ্ছে এটা বাংলাদেশীদের একটা কেন্দ্রবিন্দু। যত রাজনীতি সরকারকে একবার ফেলাচ্ছে, নামাচ্ছে, উঠাচ্ছে সবকিছু জ্যাকসন হাইটে। জ্যাকসন হাইটে গেলে বাংলাদেশের রাজনীতির একটা ফিল আপনি পাবেন।

সেটাই দেখা গেল যে এয়ারপোর্টে কোনো কিছু নেই। জ্যাকসন হাইটেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আগমন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কপ্রবাসী বাংলাদেশি–অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটসে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে রবিবার দিবাগত রাতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টার এই সফর সামনে রেখে নিউইয়র্ক সময় রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। তখন বাঙালি–অধ্যুষিত এলাকাটিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় একই সময়ে সমাবেশ করেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দুই পক্ষই স্লোগান দিয়ে দিয়ে জ্যাকসন হাইটস এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
এ অবস্থা চলার মধ্যে রাত দশটার দিকে আওয়ামী লীগের এক কর্মী ও আওয়ামী লীগবিরোধী ভিডিও ব্লগার মাসুদুর রহমান পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে পুলিশকে ফোন করেন। ‌পাঁচ মিনিটের মধ্যে অন্তত ১০ জন করে পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে আসে। একপর্যায়ে পুলিশ জ্যাকসন হাইটসের ওই এলাকা থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
মোস্তফা ফিরোজ বলেন, ‘দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনারও নিশ্চয়ই ভালো লাগছে এত সংকট ও বিপর্যয়ের পরও নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ কর্মীরা তার পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে। অন্যদিকে, বিএনপিও এখন এক ধরনের উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাসে আছে—তারা মনে করছে, সাম্প্রতিক কিছু অর্জন বা ‘বিজয়’-এর মাধ্যমে রাজনীতিতে একটি পরিবর্তন এসেছে। বিএনপি এখন যেন এক ধরনের ‘ছায়া সরকার’ বা ক্ষমতাসীন দলের বিকল্প রূপে আবির্ভূত হয়েছে। কারণ, ড. ইউনূস বিএনপির কেউ না হলেও এখন বিএনপিকেই তাকে সামলাতে হচ্ছে। এখানে তো এনসিপি বা জামায়াতের সেই ধরনের সাংগঠনিক শক্তি নেই যে তারা এই দায়িত্ব নিতে পারবে। তাছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির ধরন এমন না যে তারা প্রকাশ্যে এমন ক্ষোভ বা বিক্ষোভে জড়ায়—তাদের পদ্ধতি অন্যরকম।

তিনি বলেন, ‘গণসংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সবসময়ই মুখোমুখি হয়। এখনো, বিএনপি যদিও সরকারে নেই তবু তারা ড. ইউনূসকে তাদের অংশীদার বা মুখপাত্র হিসেবে উপস্থাপন করছে এবং এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ইউনূসকেই। এটা অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। পরিস্থিতির মাত্রা আরো বাড়তে পারত কিন্তু নিউইয়র্কে কনস্যুলেটে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে কয়েকজন গ্রেপ্তার ও মামলা হওয়ায় সেসব কারণে আওয়ামী লীগ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সম্ভবত এই সতর্কতাই বড় ধরনের সংঘাতকে এড়াতে সাহায্য করেছে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ