কিশোর গঞ্জ ৩-ফুরফুরে বিএনপি, উজ্জীবিত জামায়াত, ঘুরছে হাতপাখা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে
ছবি: প্রতিনিধি
তাড়াইল এবং করিমগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৩ আসন। যা আগে কিশোরগঞ্জ-৪ ছিল। এ আসনে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান। তবে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর সঙ্গে সমঝোতার কারণে ২০০৮ থেকে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে দলটির নিজস্ব কোনো প্রার্থী ছিল না। হাসিনা সরকারের পতনের পর অদ্যাবধি মুজিবুল হক চুন্নু নিজ এলাকায় পা রাখেননি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও আত্মগোপনে। ফলে বর্তমানে দু’টি দলই আলোচনার বাইরে। অন্যদিকে, আসনটিতে মাত্র একবার জয়ের মুখ দেখেছে বিএনপি। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চারদলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে ড. এম ওসমান ফারুক নির্বাচিত হন। অবশ্য ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ড. এম ওসমান ফারুকের পিতা ড. এম ওসমান গণি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরইমধ্যে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গেছে। এ অবস্থায় ফুরফুরে রয়েছে বিএনপি। আর উজ্জীবিত জামায়াতের সঙ্গে ঘুরছে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালে ২০১৬ সালের মে মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠার পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ৫ই আগস্টের পর তিনি দেশে ফিরলেও দলীয় রাজনীতিতে তাকে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। তবে এখনো নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি’র মূল ভরসা তিনি। এলাকায় এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বিএনপি’র তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ সমীকরণের বাইরেও বিএনপি’র একাধিক নেতা এ আসনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- ২০০৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়া জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও জিপি এডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র বিকল্প প্রার্থী করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) প্রফেসর ডা. জেহাদ খানকে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে তিনি গণসংযোগসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি পতিত আওয়ামী শাসনামলে টানা দু’বারের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের শ্যালক। ফলে আওয়ামী ভোটারদের মাঝেও তাকে নিয়ে বেশ সহানুভূতি রয়েছে। এ কারণে নির্বাচনে তিনি একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে উজ্জীবিত জামায়াতের জেহাদ খানকে ঘিরে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফেজ মাওলানা প্রভাষক আলমগীর হোসাইন তালুকদারকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে। তার নেতৃত্বে দুই উপজেলা তাড়াইল ও করিমগঞ্জে দলটি ঘর গোছাচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনমুখী তৎপরতা বেশ জোরেশোরেই চালাচ্ছে। দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে হাফেজ মাওলানা প্রভাষক আলমগীর হোসাইন তালুকদার অনবরত কাজ করে চলেছেন। তার হাত ধরে এখানে ঘুরছে হাতপাখা। এ পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে এ আসনে আলমগীর হোসাইন তালুকদার নিজেকে একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। এ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি প্রভাষক আতাউর রহমান শাহান। গণঅধিকার পরিষদ এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা দেয়নি। তবে দলটির জেলা কমিটির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম প্রার্থী হতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। যদিও দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) খায়রুল কবির এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত কুমার সরকারের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রবাসী ব্যবসায়ী একেএম আলমগীর। দুই উপজেলার রাস্তাঘাট, বাজার এবং বিভিন্ন পয়েন্টে তার নির্বাচনী পোস্টার ও ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। রাষ্ট্র যেনো সবার পাশে থাকে এবং কৃষক, শ্রমিক ও প্রবাসীরা যেনো তাদের শ্রমের মূল্যায়ন পায়, এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান তিনি। এদিকে, ড. এম ওসমান ফারুক দেশের বাইরে অবস্থান করায় ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউসকে। বিকল্প প্রার্থী করা হয়েছিল করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমনকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অবতীর্ণ হন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) প্রার্থী শিক্ষাবিদ ও কৃষিবিদ ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। আগামী নির্বাচনেও এডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস ও ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশা করছেন। তারা নিজ নিজ বলয় থেকে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় গণসংযোগসহ ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ড. এম ওসমান ফারুক ৫ই আগস্টের পর দেশে আসা-যাওয়া করছেন। তার সমর্থক নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, শিগগিরই এলাকামুখী হবেন। করিমগঞ্জ পৌর বিএনপি’র সভাপতি হাজী আশরাফ হোসেন পাভেল বলেন, ড. ওসমান ফারুক সাধারণ মানুষের মাঝেও বিপুল জনপ্রিয়। তার এ ইমেজ বিএনপি’র জন্য ইতিবাচক।
জনতার আওয়াজ/আ আ