চাপের কারণে এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দিতে সাহস পাচ্ছে না ইসি: সারজিস
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ ১০:০২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ ১০:০২ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
চাপের কারণে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) শাপলা প্রতীক দিতে সাহস পাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলে মন্তব্য করেছেন দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সারজিস আলম বলেন, তার দল আইন মেনে যথাযথভাবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও ইসি শাপলা প্রতীক না দেওয়ার পেছনে কোনো আইনি কারণ দেখাতে পারেনি। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হয়েও কমিশন চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে, যা আগামী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি আরো বলেন, আবেদন করার সময় সব আইন-কানুন মেনেই কাগজ জমা দেওয়া হয়েছে। শুরুতে বলা হয়েছিল, শাপলা যেহেতু জাতীয় প্রতীক, তাই এটি দেওয়া যাবে না। কিন্তু আইনগতভাবে বিষয়টি সঠিক নয়। শাপলা জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ হলেও এটি এককভাবে জাতীয় প্রতীক নয়। জাতীয় প্রতীক-সংশ্লিষ্ট অনেক প্রতীকই আগে থেকেই বিভিন্ন দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ রয়েছে। তাহলে শাপলা কেন দেওয়া হবে না?
এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ইসি দাবি করছে তাদের তালিকায় শাপলা নেই। অথচ তালিকা হালনাগাদ করা কমিশনেরই দায়িত্ব। কয়েক মাস আগে আবেদন করা হলেও তখনও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নতুন আবেদন জমা দেওয়ার পরও আইনগত কোনো কারণ না দেখিয়ে কেবল এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মানেই হলো, চাপের কারণেই কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, অভ্যুত্থানে যারা গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির চ্যাপ্টার এখন ক্লোজ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বড় মিছিল আসলে বিভ্রান্তিকর। বিদেশে পাচার করা হাজার কোটি টাকা দেশে এনে ভাড়া করা লোক দিয়ে মিছিল করানো হচ্ছে। এগুলো আওয়ামী লীগের প্রকৃত শক্তি নয়। সত্যিই যদি এত লোকবল থাকত, তাহলে জুলাই-আগস্টে সাধারণ মানুষ ও ছাত্ররা রাস্তায় নামলে তারা কোথায় ছিল?
তিনি আরো অভিযোগ করেন, টাকা দিয়ে ভাড়া করা টোকাইদের ভোরবেলা নামিয়ে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। অথচ দেশের মানুষ জানে আসল রাজনৈতিক কর্মসূচি আর ভাড়াটে শোডাউনের পার্থক্য।
তরুণ প্রজন্মের ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সারজিস আলম বলেন, আমরা সমমনা তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করছি। জনগণও চায় তরুণরা এক হোক। রাজনৈতিক দলের পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে মাঠ পর্যায়ের মানুষও স্বয়ংক্রিয়ভাবে একত্রিত হবে।
তিনি জানান, গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনা চলছে। পাশাপাশি এবি পার্টির সঙ্গেও জোটভিত্তিক আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। সারজিস আলম বলেন, একা নয়, ঐক্যবদ্ধভাবেই তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। ইনশাআল্লাহ, জনগণের সমর্থন নিয়েই সংসদে গিয়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ