সংসদ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার অপেক্ষায় মুরাদনগরবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫ ২:১৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫ ২:১৫ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
শুধুমাত্র মুরাদনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৩ আসন। ২২টি ইউনিয়নে ভোটার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৪১ জন, মহিলা ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৯৯ জন। এ ছাড়া হিজড়া ৪ জন। ভোটার কেন্দ্র সংখ্যা ১৫৭টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা ৯৩১টি। ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৯ সালে এ আসনটি ধরে রাখেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মাঝে আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় ছিল। এবার আসনটি পুনরুদ্ধারে জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে লড়তে যাচ্ছেন পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এবার বিএনপি’র প্রতিপক্ষ জামায়াত। জামায়াতের পক্ষ থেকে লড়তে যাচ্ছেন মুরাদনগর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হাকিম সোহেল। এ ছাড়া স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মীদের মুখে রয়েছে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম। তিনি নির্বাচনে লড়বেন কিনা তা স্পষ্ট করেননি। তালিকায় আরও রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আবদুল কাইয়ুম। দলীয় নেতাকর্মীরা সভা, পথসভা, জনসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে ভোট চাইছেন।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মুরাদনগরে শুরু হয়েছে ভিন্ন এক আমেজ। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ভোটে ভোট দিতে পারেনি এ এলাকার জনগণ। তাই এবার ভোট দিতে উৎফুল্ল হয়ে আছেন তারা। স্থানীয়রা বলছেন, এবারের নির্বাচনটা যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। তারা যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারেন। ভোটের মাঠে লড়াই দেখার অপেক্ষায় মুরাদনগরবাসী। আর তাদেরকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিগত নির্বাচনগুলো বলে মুরাদনগর উপজেলাটি বিএনপি’র ভোটব্যাংক। দলটির দিকে তাকিয়ে আছেন সাধারণ ভোটাররা। দলটির প্রতি বিপুল পরিমাণ নারী-পুরুষের জনসমর্থন রয়েছে। এখানে জামায়াতের জনসমর্থন ও সাংগঠনিক অবকাঠামো খুবই সুদৃঢ় রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে মুরাদনগর উপজেলা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। কেন্দ্রীয় মহাসমাবেশসহ বেশ কিছু সভা-সমাবেশ করেছে দলটি। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে নেই জামায়াতের প্রার্থী। ওদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি’র) সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করছে।
সাধারণ মানুষ বলছেন, গণতন্ত্র ফিরে আসুক। দেশ দুর্নীতিমুক্ত হোক। সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠুক। আইনের শাসন গড়ে উঠুক। স্থানীয়রা বলছেন, এ আসন থেকে যিনি ধানের শীষ প্রতীক পাবেন, তার জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বেশি। ত্রয়োদশ নির্বাচনে কায়কোবাদ ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পাবেন এবং নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী তার অনুসারীরা। প্রতিটি দলের নেতাকর্মীরা দিচ্ছেন উন্নয়নের আশ্বাস। মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তারা। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন বলেন, মুরাদনগর উপজেলায় কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের বিকল্প নেই। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য। গত ৪০ বছর ধরে মুরাদনগরের মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, মন্দির হাজারো কাজের বিষয়ে মানুষ অবগত আছেন। গরিব দুঃখী মানুষের সেবা করছেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। জামায়াত মনোনীত ইউসুফ হাকিম সোহেল বলেন, জামায়াত একটি আদর্শ নিয়ে চলে। আমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের কাছে যাচ্ছি। তাদের সাড়াও পাচ্ছি। আল্লাহ্ সহায় হলে ইনশাআল্লাহ্ জামায়াত মানুষের সেবা করার সুযোগ পাবে। আমি জনগণের সেবক হওয়ার চেষ্টা করছি। জনতাই আমাদের শক্তি। সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমৃত্যু মুরাদনগরবাসীর সেবা করে যেতে চাই। আল্লাহ্ চাইলে আমরা সেই সুযোগ পাবো। ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম (এমএ) বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা মার্কায় ভোট চেয়ে পথসভা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া যুব ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন হাট-বাজারে দোকানদারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাতপাখার ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করছে। আমরা ভালোই সাড়া পাচ্ছি। মুরাদনগর উপজেলা এনসিপি’র প্রধান সমন্বয়কারী মিনহাজুল হক বলেন, এ আসন থেকে এনসিপি’র প্রার্থী থাকবে। আমরা এ আসনে নির্বাচন করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির লোকজন এনসিপিকে ভোট দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ