জানুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন চায় গণঅধিকার পরিষদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:১৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জানুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন চায় গণঅধিকার পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২০, ২০২৫ ৮:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২০, ২০২৫ ৮:০৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
দেশে ধারাবাহিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে পারে। এ কারণে আগামী জানুয়ারি মাসেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের মুখপাত্র হাসান আল মামুন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন চায় গণ অধিকার পরিষদ। আমরা শুরু থেকেই এই সরকারকে একনিষ্ঠভাবে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে আসছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, সরকার সেই আশার প্রতিফলন দেখাতে পারেনি। আইন-শৃঙ্খলাসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অবনতির দিকেই যাচ্ছে। বিগত শেখ হাসিনা সরকার এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। আমরা দেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা দেখতে চাই না। তাই আগামী জানুয়ারি মাসেই জাতীয় নির্বাচন দিয়ে, নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানায় গণ অধিকার পরিষদ।

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা কেটে গেছে। এখন অতি দ্রুত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করতে হবে। জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি দিয়ে আপনার ওয়াদা বাস্তবায়ন করেন। নির্বাচন যত বিলম্ব হবে চক্রান্তের পরিমাণ তত বাড়বে। আগামী জানুয়ারি মাসে জাতিকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিন।

তিনি বলেন, সরকার যদি দলগুলোর প্রস্তাবে যতটুকু মিল ছিল সেগুলো নিয়ে সংস্কার শুরু করত তাহলে এত আলোচনা হতো না। নির্বাচন চলে এসেছে, অথচ সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

গোয়েন্দা বাহিনীগুলোর সংস্কার না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, যে এনএসআই, এসবি ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালে নির্বাচন করেছে সেই হাসিনাকে তুষ্ট করা গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা এখনো বহাল আছে। এই অবস্থায় কি সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব? এনএসআই এবং ডিজিএফআইকে যদি সংস্কার করা না হয় তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। নির্বাচনের আগে তিনটা গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার করতে হবে। যারা গত তিন নির্বাচনে দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিচার করতে হবে, চাকরিচ্যুত করতে হবে। তাদের অধীনে কোনোভাবেই নির্বাচন করা যাবে না।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে অধিকাংশ দল স্বাক্ষর করেছে। যারা করেনি আমরা আশা করি, তারা হঠকারী না হয়ে তারাও স্বাক্ষর করবে।

রাশেদ খাঁন বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে দেখছি বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে হাসিনার দোসররা নির্বাচন বানচাল করতে উদ্‌গ্রীব হয়ে উঠবে। বিমানবন্দরে যা ঘটেছে তা ষড়যন্ত্রের অংশ। স্বৈরাচারের দোসরদের চিহ্নিত করুন। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্বাভাবিক নয়। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে আওয়ামী লীগের গুপ্ত হত্যা শুরু হবে।

আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ১৪ দল অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। আগামী নির্বাচনে ডামি, স্বতন্ত্র কোনো নামেই আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী অংশ নিতে পারবে না। তারা নির্বাচনে অংশ নেবে আর আমরা কি ললিপপ খাব?

সংবাদ সম্মেলনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রাশেদ খান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিলু খান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম আজহার, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রিদওয়ান উল্লাহ খান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ