মুন্সীগঞ্জ ১-বিএনপি’র গ্রুপিংয়ের সুযোগ নিতে চায় হেফাজত-জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:২৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মুন্সীগঞ্জ ১-বিএনপি’র গ্রুপিংয়ের সুযোগ নিতে চায় হেফাজত-জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২১, ২০২৫ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২১, ২০২৫ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

 

আরিফ হোসেন, শ্রীনগর ও নাছির উদ্দিন, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) থেকে

শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-১ আসন। যা বিগত দিনে বিএনপি’র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এ আসনে বিএনপি থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দলটির সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি ডা. বি চৌধুরী। তিনি দল ছাড়ার পর থেকে এখানকার নেতারা একাধিক ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে দলটির নেতাকর্মীরা ছিলেন কোণঠাসা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা হালে পানি পান। কিন্তু নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির কারণে দলের থেকে বড় হয়ে উঠেছে গ্রুপের নেতাদের স্বার্থ। এ কারণে পারস্পরিক সম্পর্কের তিক্ততা পৌঁছেছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। গ্রুপিংয়ের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে তৃতীয় পক্ষ।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মাঠে রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মমিন আলী, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফরহাদ হোসেন। মীর সরফত আলী সপু আওয়ামী লীগ আমলে প্রায় তিন শতাধিক মামলার আসামি হয়েছেন। ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি, ছাত্র রাজনীতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে তার পরিচিতি রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহেই তিনি শ্রীনগর বা সিরাজদিখানে দলীয় নানা অনুষ্ঠানে হাজির হচ্ছেন। তার নেতাকর্মীদের দাবি- দলের জন্য জেল-জুলুম খেটে ও হামলা-মামলার শিকার হয়ে মীর সরফত আলী সপু যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, দল এবার তাকে মনোনয়ন দিয়ে মূল্যায়িত করবে।

অপরদিকে, শেখ মো. আব্দুল্লাহ প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন জোরেশোরে। তিনি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আল মুসলিম গ্রুপের কর্ণধার। তার হাত ধরে শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপি’র কমিটি ও দুই উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন কমিটি গঠিত। এজন্য অধিকাংশ নেতাকর্মী তার সঙ্গে রয়েছেন। তিনিও দুই উপজেলায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। তার কর্মীদের দাবি- তিনি বিগত সময়ে হামলা-মামলার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। শান্ত স্বভাব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদেরকে অর্থনৈতিক সহায়তাসহ পাশে থাকার কারণে দল তাকে মূল্যায়ন করবে। ওদিকে, চেয়ারম্যান আলহাজ মমিন আলী বি চৌধুরী পরবর্তী সময়ে দলটির হাল ধরেন। শ্রীনগর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। অনেকদিন ধরেই তিনি মাঠে রয়েছেন। তার নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন তিনি বিএনপি’র সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। তার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এ কারণে দলমত বিবেচনার বাইরে শ্রীনগরে তার ভোট ব্যাংক রয়েছে। সিরাজদিখানে সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ নেতা আব্দুল কুদ্দুস ধীরণ তার পক্ষে রয়েছেন। এ কারণে তৃণমূলে তার অবস্থান বেশ শক্ত। এ ছাড়া, মো. ফরহাদ হোসেন প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। তার নেতাকর্মীদের দাবি- স্বচ্ছ রাজনীতি করেন বলে দল তাকে মূল্যায়ন করবে।

বর্তমানে এখানে প্রচারণায় থাকা একাধিক গ্রুপিংয়ের কারণে বিএনপি’র তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রায় সময়ই বিব্রত অবস্থায় পড়েন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে মনোনয়ন পাবেন? আবার কার অনুষ্ঠানে গিয়ে তার বিরাগ ভাজন হবেন? এ চিন্তা বিএনপি’র তৃণমূলের কর্মীদের টেনে ধরে। নেতাদের পৃথক পৃথক অনুষ্ঠান ঘিরে তৃণমূলের উপস্থিতি নিয়েও চলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। গ্রুপগুলোর মধ্যে তিক্ততা প্রকাশ্যে। এমনকি তারা সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানেও একজন উপস্থিত হলে অপরজন তা এড়িয়ে চলেন। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি’র এই গ্রুপিংয়ের সুযোগ নিতে পারেন হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ। এক্ষেত্রে দলটির সহ-সভাপতি ও খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির আমীর মধুপুরের পীর সাহেব আল্লামা আব্দুল হামিদ এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। বিগত সময়ে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর তেমন কোনো নাম গন্ধ ছিল না। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেকেই তাদের সদস্য হয়েছেন। দিচ্ছেন সমর্থন। বিএনপি’র দলটি ভোটে নীরব বিপ্লব করবে বলে নেতাকর্মীরা আশাবাদী। এ আসনে জামায়াত থেকে জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা এ কে এম ফখরুদ্দীন রাজীকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দলটির নেতাকর্মীদের দাবি, তিনি ভদ্র ও শিক্ষিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাকে গ্রহণ করেছে। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনেরও ভোট রয়েছে। দলটি থেকে প্রার্থী হচ্ছেন কে এম আতিকুর রহমান। জাকের পার্টি থেকে প্রার্থী হচ্ছেন সারোয়ার সানী। তিনিও ভোট প্রার্থনা করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, এ আসনে এনসিপি’র তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। সিরাজদিখানে কমিটি থাকলেও শ্রীনগরে কমিটিতে কারা রয়েছেন তা অজানা।
শেষ মুহূর্তে এ আসনে ইসলামী দলগুলোর জোট হলে ভোটের হাওয়া পরিবর্তন হতে পারে। যেকোনো দল বা জোটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তা ছাড়া, নতুন প্রজন্ম ও প্রবাসীদের ভোটও জয়-পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ