ভো লা ২বিএনপি’র হাফিজ ইব্রাহীম জামায়াতের ফজলুল করিম - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:০১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভো লা ২বিএনপি’র হাফিজ ইব্রাহীম জামায়াতের ফজলুল করিম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২১, ২০২৫ ১:১৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২১, ২০২৫ ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

 

জাকির আলম, দৌলতখান (ভোলা) থেকে
বাংলাদেশের বৃহত্তম ব-দ্বীপ, পান-সুপারি-ইলিশের গোলা জেলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা। এ দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-২ আসন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা সৈনিক রেজা-এ-করিম চৌধুরী (চুন্নু মিয়া)। ১৯৭৩ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তীতে তার ছেড়ে দেয়া আসনে উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান (বাঘা ছিদ্দিক)। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৯১ সালে ভোলা-১ ও ২ আসন থেকে নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। পরে এ আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোশারেফ হোসেন শাহজাহান। ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নিজাম উদ্দিন নির্বাচিত হন। একই বছর ১২ই জুন নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের নির্বাচনে তোফায়েল আহমেদকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি’র প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহীম। ২০০৮ সালের ২৯শে নভেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তোফায়েল আহমেদ পুনরায় আসনটি ফিরে পান। দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা আলী আজম মুকুল নির্বাচিত হন।

এদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর পাল্টে গেছে ভোটের হিসাবনিকাশ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের গণসংযোগে সরব হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এলাকা। এ আসন থেকে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ হাফিজ ইব্রাহীম। তিনি সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও বিএনপি’র মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম তালুদার, জাহাঙ্গীর এম. আলম ও এডভোকেট এবিএম ইব্রাহিম খলিল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনীত হয়েছেন কেন্দ্রীয় গবেষণা ইউনিটের সদস্য ও ভোলা জেলার সাবেক আমীর মাওলানা ফজলুল করিম। প্রার্থী আগেভাগেই চূড়ান্ত হওয়ায় তাদের নেতাকর্মীরা সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন থেকে মাওলানা রেজাউল করিম বোরহানী, খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা আবদুস সালাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট মিহবুল্ল্যাহ খোকনও সম্ভাব্য প্রার্থী। তারাও চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষের পক্ষে হাফিজ ইব্রাহীম ও তার পরিবারের সদস্যরা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গণসংযোগ, ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ ও মিছিল সমাবেশের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীরা বিএনপি’র সাবেক এ সংসদ সদস্যকে সামনে রেখেই ভোট প্রার্থনা করছেন। এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুক হোসেন তালুকদার বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে হাফিজ ইব্রাহিম গত ১৭টি বছর শত অত্যাচার সহ্য করেছেন। দলের জন্য কাজ করেছেন এবং আমাদের খোঁজ-খবর রেখেছেন। বিপদে-আপদে পাশে থেকেছেন। তার নেতৃত্বে আমরা এখন প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন এবং আগামীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখবেন। হাফিজ ইব্রাহীম বলেন, আমি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় নির্বাচনী এলাকায় নদী ভাঙন রোধে ব্লক স্থাপন, শিক্ষা বিস্তারের জন্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমাদের সরকারের সময়ের উন্নয়নের বিষয়কে সামনে রেখেই ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করবে বলে শতভাগ আশাবাদী। আগামীতে নির্বাচিত হলে গ্যাস সমৃদ্ধ ভোলায় শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবো। এতে আমার নির্বাচনী এলাকার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

অপরদিকে জামায়াতের দৌলতখান উপজেলা আমীর হাসান তারেক হাওলাদার জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের কেন্দ্র কমিটি, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো নিয়মিত গণসংযোগ, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সভা সমাবেশগুলোতে তরুণ ভোটার ও জনসাধারণের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষণীয়। ভোটাররা আমাদেরকে আন্তরিকভাবেই গ্রহণ করছে। জয়ের ব্যাপারে আমরা অনেকটাই আশাবাদী। জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম বলেন, নির্বাচনী মাঠে আমরা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমরা প্রতিযোগিতায় আসবো। প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, দলের পক্ষ থেকেই মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বাৎসরিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। সেক্ষেত্রে আমার মতামতগুলো আমি দলীয় ফোরামে উপস্থাপন করবো। এলাকাবাসী জানান, সততা, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই ভোলা-২ আসনের ভোটাররা আগামীর জনপ্রতিনিধি নির্ধারণ করবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ