বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বিনষ্ট হচ্ছে : সাইফুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৫ ৯:২৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৫ ৯:২৩ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বিনষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম সংগঠক সাইফুল হক।
তিনি বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে হঠকারিতার কোন অবকাশ নেই। বিচার ও সংস্কারের ধারায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথকে প্রশস্ত করতে হবে। এ জন্য গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা সমাবেশ ও গণমিছিল কর্মসূচিতে এ সব কথা বলেন তিনি। জনগণের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত, বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সমগ্র প্রশাসন ঢেলে সাজানো, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ, বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশি কম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার তৎপরতা বন্ধ, গণঅভ্যুত্থানের গণআকাঙ্খা বাস্তবায়ন ও নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবিতে ওই সমাবেশ ও গণমিছিলের আয়োজন করা হয়। সমবেতকন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সাইফুল হক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অদূরদর্শীতায় নানা অংশের মধ্যে লোভ আর ক্ষমতালিপ্সা জেগে উঠেছে।
গত ১৪ মাসেও আমরা প্রতিবিপ্লবের আশঙ্কা ও ভয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। আমাদের সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য উপলব্ধিতে নিতে পারেনি। যে কারণে বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপুল সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের একাংশ নিজেরা যেমন লোভে পড়েছে, তেমনি গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মধ্যেও তারা লোভ ও ক্ষমতালিপ্সা জাগিয়ে তুলেছে।
প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার অভাবে তারা রাজনৈতিক দল ও জনগণের নজিরবিহীন সমর্থনকে কাজে লাগাতে পারেনি। বরং এই সমর্থনকে তারা দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করেছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকারের অকার্যকারিতায় সামাজিক নৈরাজ্যের বিস্তার ঘটছে। গণঅভ্যুত্থান বিরোধী নানা অপশক্তির তৎপরতাও বাড়ছে। এমনকি রাজনৈতিক নৈরাজ্য বৃদ্ধি ও গণঅভ্যুত্থানের অর্জন পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, গণভোট ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের অনেকটা নির্ভর করছে, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। তাই একদিকে সরকারকে যেমন যাবতীয় পক্ষপাতমূলক ভূমিকা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, অন্যদিকে সবাইকে আস্থায় নিয়ে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দৃঢ়চিত্ত ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনই কেবল এই সরকারকে মুক্তি দিতে পারে।
সমাবেশে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, চাকরিচ্যুতি ও অভুক্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। বাজারের আগুনে মানুষ দিশেহারা। এই সময়কালে নারীবিদ্বেষ নতুন চেহারা নিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবর কারণে এবারো সংসদে নারীদের প্রত্যক্ষ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।
পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান বলেন, উন্নত ব্যবস্থাপনার নাম করে আমাদের সমুদ্র বন্দর বিদেশি কম্পানির কাছে তুলে দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ নয়। তিনি অবিলম্বে দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জনতার আওয়াজ/আ আ