ঠাকুরগাঁও ২-বিএনপি’র ঘরে কোন্দল কৌশলী জামায়াত গণঅধিকার পরিষদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:১৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁও ২-বিএনপি’র ঘরে কোন্দল কৌশলী জামায়াত গণঅধিকার পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৫ ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৫ ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

 

রেজাউল প্রধান, ঠাকুরগাঁও ও আবু সালেহ মুসা হরিপুর থেকে
ছবি: প্রতিনিধি
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও। এ জেলার পশ্চিমে ভারতের নাগরনদের সীমান্তঘেঁষা হরিপুর-বালিয়াডাঙ্গী ও আংশিক রাণীশংকৈল উপজেলাসহ মোট ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ বিশ হাজার ভোটার নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-২ আসন। এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে টানা সাতবারের নির্বাচিত এমপি আলহাজ দবিরুল ইসলামের শাসন আমলটা ছিল ভিন্ন। ইতিমধ্যে বিএনপিতে দলীয় কোন্দল দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াত, গণঅধিকারের একক প্রার্থীতা থাকায় কৌশলে এ সুযোগটা কাজে লাগাতে চায় তারা। এ কারণে সবার নজর এই আসনে। তবে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, বিএনপি থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে তাদের সব অঙ্গসংগঠনসহ বহিষ্কৃত নেতাদের একত্রিত করে প্রার্থিতা ঘোষণা করলে জয়লাভ করা সম্ভব- না হলে হাত ছাড়া হয়ে যাবে এই আসনটি। তারপরেও সময়ের তাগিদে আগামী নির্বাচনে বিএনপি তাকেই সামনে রাখবে বলে মনে করছেন বিএনপি’র তৃণমূলের ভোটার ও দলের সিনিয়র নেতারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর প্রার্থীরা জানান দিচ্ছেন তাদের প্রার্থিতার কথা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ আর গণসংযোগে প্রচার-প্রচারণা চালার পাশাপাশি গ্রীন সিগন্যালের আশায় চেয়ে আছেন দলের হাইকমান্ডের দিকে। কেউবা আবার চেষ্টা করছেন তদবির-লবিংয়ের। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ততই ঠাকুরগাঁও-২ আসনের তৃণমূল ভোটারের মনে বাড়ছে কামনা-বাসনা আর উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাদের মতে, সীমান্তঘেঁষা এই আসনটিতে দীর্ঘ আওয়ামী লীগের শাসনের ক্ষোভকে কাজে লাগানোর প্রচেষ্টায় মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যুতা নির্মূল করার পাশাপাশি উন্নয়ন এবং পরির্বতনের প্রত্যাশিত আশা যে পূরণ করতে পারবেন তাকেই বেছে নেবে ভোটাররা। সেইসঙ্গে সীমান্তঘেঁষা এই আসনের ইতিহাস নতুন করে লেখা হতে পারে। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রায় পাঁচ জন। তাদের মধ্যে জেলা বিএনপি’র সভাপতি, মির্জা ফয়সাল আমীন, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এডভোকেট জেড মর্তুজা চৌধুরী তুলা, ড্যাব এর সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম, দল থেকে বহিষ্কৃত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডক্টর টিএম মাহবুবর রহমান ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ আলম। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়নের ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র অনেকেই বলেন, ওই আসনে জয়লাভ করতে গেলে বিএনপি থেকে একজন শক্তিশালী সর্বজন সমাদৃত সজ্জন ব্যক্তি প্রয়োজন আছে তাই দলের হাইকমান্ড জেলা বিএনপি’র সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীনকে মনোনয়ন দিতে পারেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এডভোকেট জেড মর্তুজা চৌধুরী তুলা রাজপথের লড়াকু সৈনিক হয়ে অনেক মামলা হামলার শিকার হয়েছেন জেলও খেটেছেন আবারো মনোনয়ন চাইবেন এই আসনে। ড্যাব এর সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম দলের কেন্দ্র থেকে এই আসনের তৃণমূল ভোটারের কাছে একজন সুপরিচিত ব্যক্তি। পাশাপাশি বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)’র পক্ষ থেকে ২৪ জনকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য বিএনপি’র হাইকমান্ডকে অবগত করেছেন। তন্মধ্যে ডা. সালামও একজন।

এদিকে দল থেকে বহিষ্কৃত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডক্টর টিএম মাহবুবর রহমান, দলের দুর্দিনে বিপদে-আপদে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে মামলা-হামলা ও ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতাকর্মীর মামলা-মোকদ্দমা বিনা পয়সায় চালিয়ে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন। তবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলে তিনিও মনোনয়ন চাইবেন। অবশ্য এর আগে দল থেকে তাকে দু’বার মনোনয়নও দেয়া হয়েছিল। তাছাড়া ব্যক্তি হিসেবে তিনি সজ্জন এবং খোলামেলা। এককথায় একজন ভালো মানুষ হিসেবে তার যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার আশায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ আলমও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদিকে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে তাদের সাংগঠনিক কাঠামো জোরালো ও মজবুত করতে ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১৭ বছরে সারা দেশের ন্যায় এই উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম প্রকাশ্যে বন্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগের পতনের পর তারা মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। এ আসনে তারা দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অন্যতম সদস্য, অঞ্চল টিম সদস্য (রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল) অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল হাকিম ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী ছিলেন এবং ২০০১ ও ২০০৮ সালে ৪ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার পাশাপাশি ২০১৮ সালে ২০ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী ছিলেন। এই আসনে সর্বত্র তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রযেছে। দলের একক প্রার্থী হওয়ায় তার জন্য দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মী সমর্থকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৪ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল হাকিমকে বিটিভিতে বিজয়ী ঘোষণা করার পরেও ফলাফল পাল্টে দেয়া হয়। তবে গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র (বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) ফারুক হাসান এ আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে পোস্টার-ব্যানারে, জনসংযোগ পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক করে সরগরম করে রেখেছেন এই আসনের ভোটের মাঠ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ