সিলেটের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভাগ্যনির্ধারণ কী আজ?
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৫ ১:২৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৫ ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আগামী জাতীয় নির্বাচনি হাওয়ায় উত্তপ্ত সিলেট বিএনপি। সামনের নির্বাচনে জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ডাক পেয়েছেন ঢাকায়। এ মনোনয়ন নিয়ে সিলেটজুড়ে চলছে আলোচনার ঝড়। নির্বাচনী এলাকায় নিজেদের প্রচার-প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের মুখোমুখী হবেন তারা। সিলেট জেলা বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে কে কে ঢাকায় ডাক পেয়েছেন সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি সূত্রটি।
অন্যদিকে সিলেটে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় এইবার প্রবাসীদের দৃশ্যমান দাপট রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা পড়া প্রাথমিক তালিকার প্রায় অর্ধেকই প্রবাসী। গত ২০ অক্টোবর সিলেটের সব মনোনয়ন প্রত্যাশীকে তলব করেছে কেন্দ্র। সেখানেই প্রার্থীদের আমলনামা বিবেচনা করা হয় এবং পরবর্তীতে সোমবার (২৭ অক্টোবর) মনোনয়নের ফয়সালা চূড়ান্ত হতে পারে এমন গুঞ্জনে আবার ঢাকায় ডাকা হয়। মনোনয়নের চূড়ান্ত ফয়সালা আসার শেষ মুহুর্তে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও গনসংযোগ করছেন সিলেটের নেতাকর্মীরা।
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে- মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বড় একটা অংশ যুক্তরাজ্য, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বিএনপি নেতাকর্মী। নির্বাচনি মাঠে তাদের এই হঠাৎ সক্রিয়তায় স্থানীয় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা উদ্বেগে। প্রবাসীরা সম্প্রতি দেশে ফিরে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে মাঠে থাকা স্থানীয় নেতারা বলছেন, দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও জনসম্পৃক্ততার অভাব প্রবাসী প্রার্থীদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দল, আশঙ্কা রয়েছে বিএনপির নিশ্চিত-সম্ভাবনার আসন হারানোর।
জানা গেছে, সিলেটের ৬টি আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা অনেক। সিলেটের ছয়টি আসনে বিএনপির ৩১ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী এখন ভোটের মাঠে তৎপর। প্রবাসী নেতা থেকে স্থানীয় সংগঠক— সকলে ধানের শীষের টিকিটের আশায় মাঠে নেমেছেন। তার মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশী এই সব প্রার্থীরা মাঠে তাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় ব্যস্ত রয়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানো ও দলীয় সমর্থন সংগঠনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তারা নির্বাচন যতো নিকটে আসছে তারাও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা, ফলে সিলেটের রাজনীতি এখন পুরোদমে নির্বাচনী আমেজে উষ্ণ হয়ে উঠেছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-১ আসনে দীর্ঘদিন থেকে যারা ভোটের মাঠে মনোনয়ন প্রত্যাশার আশায় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা দুজনেই বিএনপির চেয়ারপার্সনের দুই উপদেষ্টা। একজন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। যিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। অপর প্রার্থী সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দুইবারের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর। তাদের এই মনোনয়নের লড়াই ইতোমধ্যে বাস্তব লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের লড়াইয়ে পুরো সংসদীয় আসনের বিএনপি এখন প্রকাশ্যে দ্বিধাবিভক্ত।
সিলেট-৩ (বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিণ সুরমা) আসনে বিএনপির ৬ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ মালিক, দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহানগর বিএনপি সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান।
সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও গোয়াইনঘাটের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সাবেক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, প্রয়াত সাংসদ দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী অ্যাডভোকেট জেবুন্নাহার শেলিন, সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা হেলাল উদ্দিন আহমদ।
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, কানাইঘাটের উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব) ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির সভাপতি জাকির হোসাইন।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মো. এনামুল হক চৌধুরী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, টাওয়ার হেমলেটের সাবেক কাউন্সিলর আ.ম. অহিদ আহমদ, সাবেক এমপি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেছু মিয়ার মেয়ে ব্যবসায়ী সামিরা হোসেন, সিলেট জেলা বিএনপির সহ শিল্প ও বাণিজ্যক বিষয়ক সম্পাদক তামিম ইয়াহিয়া আহমদ, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি জিয়া পরিবারের ঘনিষ্টজন মরহুম কমর উদ্দিনের মেয়ে যুক্তরাজ্যে কাউন্সিলার পপি খান।
এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘কাল আমরা ঢাকার গুলশানে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সাথে বসবো। তবে কে কে ঢাকার ডাক পেয়েছেন তা আমি জানিনা। সেটি ঢাকা থেকে সরাসরি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।’
এর আগে ২০ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের ১২৯ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মির্জা ফখরুল মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় সংগঠন শক্তিশালী করা এবং প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি প্রার্থিতা নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং জানান দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে তাকে বিজয়ী করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাইকে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও জানান, চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ত্যাগী, যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।’
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি আসনে ত্যাগী, যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাকেই দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে। বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জানিয়ে দেন, প্রতিটি আসনে একজনকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে। দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে অবশ্যই সবাইকে কাজ করতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় দল মেনে নেবে না।
জনতার আওয়াজ/আ আ