লালমনিরহা ট ১-মাঠে সরব বিএনপি-জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:০১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

লালমনিরহা ট ১-মাঠে সরব বিএনপি-জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৫ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৫ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। গ্রাম থেকে শহর, চায়ের আড্ডা থেকে বাজার, ঘাট, প্রতিটি জায়গায় এখন ভোট নিয়েই চলছে আলোচনা। ভোটাররা নির্বাচনী প্রস্তুতি, সম্ভাব্য প্রার্থী ও দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে সরাসরি মতামত বিনিময় করছেন।
গণ-অভ্যুত্থানের পর এটি দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। তাই ভোটারদের আগ্রহ, প্রত্যাশা এবং অংশগ্রহণের উচ্ছ্বাস স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থবিরতার পর ফের নির্বাচনী চাঞ্চল্য এ আসনে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে এসেছে।
মাঠপর্যায়ে সবচেয়ে সক্রিয় দু’টি দল হলো- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দুই দলের নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিদিন গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক এবং মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন। তারা ভোটারদের কাছে ‘পরিবর্তন, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন’- এই প্রতিশ্রুতির মন্ত্র নিয়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন তুলনামূলক স্বাভাবিক। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য নির্বাচনের সময় হিসেবে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
লালমনিরহাট-১ আসনের বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন- ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, শাহিন আকন্দ এবং মাজেদুল ইসলাম পাটোয়ার উজ্জ্বল। রাজনৈতিক মহলে বলা হচ্ছে, ব্যারিস্টার রাজীব প্রধান এগিয়ে আছেন। তিনি ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে নতুন কমিটি গঠন ও সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করেছেন। ফলে দলীয় মনোনয়ন তার পক্ষেই আসতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম রাজু। সাবেক ছাত্রনেতা রাজু হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম- দুই উপজেলাতেই নিয়মিত কর্মসূচি চালাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে জামায়াতের সংগঠন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। এবি পার্টির ব্যানারে সাবেক জামায়াত নেতার সন্তান আবু রায়ান রচি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তুরস্ক প্রবাসী শিহাব আহমেদ ও সাইদুজ্জামান কোয়েল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এ ছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে মুফতি ফজলুল করিম শাহরিয়ার মাঠে রয়েছেন।
বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় নেতারা বলছেন, ‘এখনই মাঠে নামার সময়। জনগণ পরিবর্তন চায় আর সেই পরিবর্তনের সেøাগানকে সামনে রেখে আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাচ্ছি।’
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৩। দু’টি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই এলাকা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ ত্রিদেশীয় সংযোগস্থল থাকার কারণে রাজনৈতিক দলগুলো এই আসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আসনটি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবারের নির্বাচনে বিএনপি ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ব্যর্থ হলে জামায়াত, জাতীয় পার্টি বা অন্যান্য দল সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। বিএনপি’র অভ্যন্তরে মনোনয়ন ঘিরে তৈরি জটিলতা ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দলের প্রবীণ নেতারা মনে করছেন, এখনই মাঠে অবস্থান শক্ত করতে না পারলে দলটির প্রার্থী জিতেও হেরে যেতে পারে।
এবার আসনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে। মাঠপর্যায়ে বিএনপি’র প্রার্থীরা জনসংযোগে এগিয়ে থাকলেও দলীয় ঐক্যই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণের মূল উপাদান হবে। অন্যান্য দল যেমন- আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রাথমিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারে সবচেয়ে দৃশ্যমান বিএনপি ও জামায়াতের উপস্থিতি।
নির্বাচন শুরুর আগেই প্রতিটি রাজনৈতিক দল ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও অনলাইন প্রচারণা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী এই আসনে ভোটাররা এবার একাধিক বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন- প্রার্থী ক্ষমতা, দলীয় ঐক্য, স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট।
সুন্দর আয়োজন, সরাসরি জনসংযোগ এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় প্রচারণার মধ্যদিয়ে এই আসনের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের আশা- দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপড়েনের পর এবার তারা দেখতে পাবেন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ