লক্ষ্মীপুর ২ বিএনপি’র একাধিক প্রার্থীর গুঞ্জন জামায়াতের একক - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৪৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুর ২ বিএনপি’র একাধিক প্রার্থীর গুঞ্জন জামায়াতের একক

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৫ ১:১৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৫ ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি : প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-সদর আংশিক) সংসদীয় আসন। এটি আলোচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসন। আসনটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে, বিএনপি’র এ দুর্গ এবার জামায়াত দখলের চেষ্টা করছে।

জানা যায়, ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে যাওয়ায় আপাতত দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেছে ১৬ বছর ‘জোর করে ক্ষমতা দখলে রাখা’ দলটি। তাদের সহযোগী জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ সাইন বোর্ড সর্বস্ব রাজনৈতিক দলগুলোরও কোনো অস্তিত্ব নেই লক্ষ্মীপুরের আসনগুলোতে। তাই ভোটের মাঠে আপাতত রাজত্ব করছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ছোটখাটো ইসলামী দলগুলো। ইতিমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ভোটের মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত বিএনপি’র নির্বাচনী মাঠ এখনো অগোছালো। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগা দলটি মাঠে এসেছে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের লন্ডনে বৈঠকের পর থেকে। কিন্তু পুরোপুরিভাবে মাঠ গোছাতে পারেনি এখনো। দলটির মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন একাধিক প্রার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুইবারের এমপি ও বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ (ভিপি হারুন), শিল্পপতি সোলাইমান রুবেল, লায়ন হারুনুর রশিদ হিরু। ভোটারদের কাছে আলোচনায় থাকার পাশাপাশি হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় মরিয়া তারা। এর মধ্যে বিএনপি’র নারী ভোটারদের বিশাল একটি অংশ জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রমে ধাবিত হচ্ছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে এ আসনের নারী ভোটারদের প্রতি বিএনপি’র একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকলেও এখন তা জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে। বিএনপি’র ঘাঁটিতে এবার থাবা দিতে চায় জামায়াত। ৫ই আগস্টের পর সাংগঠনিক কর্মসূচি ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে জামায়াত। ইতিমধ্যে সব ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠনসহ সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছে তারা। আর জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়তের আমীর এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় জনগণ ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল। জুলাই বিপ্লবের পর অভূতপূর্ব ভোট উৎসব দেখার অপেক্ষায় দেশের মানুষ। তবে এবার আর দুর্নীতিগ্রস্ত, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির মতো কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত কাউকে তারা ভোট দেবে না। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা বেশ সচেতন, তারা সৎ, দক্ষ, দেশপ্রেমিক মানুষকে মূল্যায়ন করবে। আরেক ভোটার মুক্তার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ভোটার বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচন হয়েছে। সেগুলোকে নির্বাচনই বলা যাবে না। ওই তিন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আর আওয়ামী লীগ ভাই ভাই হিসেবে ভাগাভাগির নির্বাচন করেছে। ভোটাররা কেন্দ্রে ভোট দিতে না গেলেও তাদের ভোট কারচুপি করে ব্যালটে মেরে নেয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলে জনগণ তাদের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। খেলাফত মজলিসের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানুষ এখন খুব সচেতন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া, দখলবাজিতে বিশ্বাসী নয়। গত ১৭ বছর কোনো ভোটের পরিবেশ ছিল না। আমাদের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। তাই মানুষ সুযোগ পেলে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবে। আমি আশা করি আমার সংসদীয় রায়পুর আসনে আমার দল খেলাফত মজলিসের একজন প্রার্থী হিসেবে আল্লাহ্‌র মেহেরবানিতে বিজয়ী হলে ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলবো।

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। নির্যাতনের শিকার হয়ে বছরের পর বছর মামলার ঘানি টেনেছি, জেল খেটেছি। এরপরেও এক মিনিটের জন্যও লক্ষ্মীপুর ছেড়ে পালিয়ে কোথাও যাইনি, গত ১৬ বছর এদেশের জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। ভোটের কোনো পরিবেশ ছিল না। আমাকে আমার দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছে। নির্বাচিত হলে আমি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করে জনগণের আমানত জনগণের কাছে পৌঁছে দেবো। আমার জনগণ ও সকল নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবো। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী, ইনশাআল্লাহ্‌। বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-সদর আংশিক) আসন থেকে বিগত সময়ে বিপুল ভোট পেয়ে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী। আমি আশা করি ও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। দুর্দিনে আমি সব সময় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। বিএনপি নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতা কেউই ফ্যাসিস্টদের নির্যাতন ও জেল-জুলুম থেকে রেহাই পায়নি। বিএনপি’র দুর্গখ্যাত আসনটি বিএনপি’র হাতেই থাকবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ