যশোর ৬-মাঠে সরব বিএনপি’র ৩, জামায়াতের এক সম্ভাব্য প্রার্থী - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৫৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যশোর ৬-মাঠে সরব বিএনপি’র ৩, জামায়াতের এক সম্ভাব্য প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৫ ১২:২১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৫ ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

 

যশোর থেকে
ছবি : প্রতিনিধি
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে যশোর-৬ নির্বাচনী আসন গঠিত। আসনটি মূলত জামায়াত ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। দেশের সকল গণতান্ত্রিক নির্বাচনে এই আসন থেকে কখনো আওয়ামী লীগ আবার কখনো জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা জয় লাভ করেছেন। এখানে ধানের শীষের অবস্থা বরাবরই তিন নম্বরে ছিল। কিন্তু এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চিরাচরিত সেই তৃতীয় অবস্থান থেকে বিএনপি এবার এক নম্বরে উঠে আসার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। তবে, সেই ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন তার ওপর পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করছে। ৩৬শে জুলাই আন্দোলনের পর গোটা উপজেলার রাজনীতির চিত্র রাতারাতি পাল্টে গেছে। আওয়ামী লীগের ডাক সাইডের সব নেতাই অধরা। বর্তমানে গোটা উপজেলায় জামায়াতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিএনপি তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সাধারণ ভোটারদের সাফ কথা পুরনোদের দিয়ে হবে না, এবার এই কেশবপুরের জনগণ বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখকে দেখতে আগ্রহী। আর সেই জায়গাটি ইতিমধ্যে দখল করতে সক্ষম হয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তরুণ রাজনীতিক কাজী রওনোকুল ইসলাম শ্রাবণ। আওয়ামী পরিবারে জন্ম নিয়েও কাজী রওনোকুল ইসলাম শ্রাবণ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে ধারণ ও লালন করেছেন। যার কারণে ২০১৫ সালে কাজী রফিকুল ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলন করে ছেলে কাজী শ্রাবণকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেন এবং তার সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন। ভিন্নমতের রাজনীতি করার কারণে তিনি গত ১৫ বছর নিজের বাড়িঘরে পর্যন্ত আসতে পারেননি। পিতা-মাতা-ভাই-বোন সকলেই তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেধাবী ছাত্রনেতা টিউশনি করে লেখাপড়া করেছেন এবং একইসঙ্গে রাজপথে সংগ্রাম করেছেন। ৩৬শে জুলাই আন্দোলনেও কাজী রওনোকুল ইসলাম শ্রাবণ ছিলেন সামনের যোদ্ধা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর সম্প্রতি কাজী শ্রাবণ তার জন্মভূমি কেশবপুরে গেলে সেখানে এক মহা জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। সকল মত-পথের মানুষ তার সংবর্ধনায় যোগ দিয়ে প্রমাণ করে কেশবপুরের মাটি শ্রাবণের ঘাঁটি। অপরদিকে, কেশবপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ ও কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপুর কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানাবিধ অভিযোগ। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এসব নেতাকর্মীকে সামলাতে ব্যর্থতার দায় উঠছে এই দুই নেতার ঘাড়ে। যা থেকে সহসায় মুক্তি পাচ্ছেন না দলের এই দুই সিনিয়র নেতা। এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত তাদের দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলী এলাকায় একজন সৎ ও যোগ্য শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত। তা ছাড়া, তাদের সাংগঠনিক কাঠামো অন্য যেকোনো দলের তুলনায় অধিক শক্তিশালী। দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা দলের প্রতি চরমভাবে অনুগত। এ ছাড়া, ৩৬শে জুলাই পরবর্তী সময়ে এই দলের নেতাকর্মীরা দলীয় সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন বা এখনো দিচ্ছেন তা যেকোনো লড়াইয়ের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় সাধারণ লোকজন। তাদের অনেকেই বলেন, গত ১৫ বছরে রাজনীতির যে কালচার তার তো তেমন কোনো পরিবর্তন দেখছি না। আগে ক্ষমতাসীনরা যা করতো, এখন অপর একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও তাই করছে। তাহলে পরিবর্তন কোথায়? ফলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ কেশবপুর আসনে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলীর জয়ের সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল বলে মনে করছেন তার দলের কর্মী-সমর্থকরা। এদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের সম্ভাব্য প্রার্থী কাজী রওনোকুল ইসলাম শ্রাবণ এই প্রসঙ্গে বলেন, আমি বিশ্বাস করি, দল আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আন্দোলন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং ত্যাগের জন্য আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিয়ে আমার কাক্সিক্ষত স্বপ্ন পূরণের সুযোগ দান করবেন এবং এলাকাবাসীর সেবা করার সুযোগ দেবেন। ধানের শীষের অপর দাবিদার অমলেন্দু দাস অপু বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতি, যুব রাজনীতি করে বর্তমানে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হয়েছি। আমি মনে করি রাজনীতি মানে মানুষের সেবা করা, আর বৃহত্তর পরিসরে মানুষের সেবা করতে হলে জনপ্রতিনিধিদেরই সবচেয়ে বেশি সুযোগ থাকে। একমাত্র সেই কনসেপ্ট থেকেই আমি প্রতিটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করি। অপরদিকে, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ একজন পৌঢ় খাওয়া রাজনীতিবিদ। তিনিও গত কয়েকটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কিন্তু বিজয় তাকে বঞ্চিত করেছে। তাই আগামী নির্বাচনেও তিনি এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের যোগ্য দাবিদার বলে মনে করেন। তিনি বলেন, দল নিশ্চয়ই তার বিগত দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিচার বিবেচনা করবেন। এদিকে, জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলী বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ যদি মনে করেন যে, তারা একজন সৎ যোগ্য লোককে তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান তাহলে তারা তাই করবেন। এখানে জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। আমি মনে করি জনগণের রায়ে যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে সেটা হবে আমার ওপর রাষ্ট্রীয় গুরু দায়িত্ব, কোনো ক্ষমতা নয়।
এদিকে, এখন পর্যন্ত এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কোনো প্রার্থীর তেমন নির্বাচনী তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এ ছাড়া, এবি পার্টির নেতা ব্যারিস্টার মাহামুদ হাসানের নামে নির্বাচনী পোস্টার এলাকায় সাঁটানো হলেও কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ