নির্বাচনে ১০ ভোট পেলেও এলাকা ছেড়ে যাব না: হাসনাত আব্দুল্লাহ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২৫ ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২৫ ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি
নির্বাচনে আমি যদি ১০টা ভোট পেলেও দেবিদ্বার ছেড়ে যাব না বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘যদি হেরে যাই, তারপরও দেবিদ্বারের মানুষের সঙ্গেই থাকব। এ দেবিদ্বারই আমার অস্তিত্ব। এখানকার মাঠ-ঘাট, আলো-বাতাসই আমার অক্সিজেন। আমি ভোট চাইতে আসিনি, এসেছি সবার সঙ্গে পরিচিত হতে, দোয়া চাইতে।’
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ছোটনা গ্রামে একটি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে সুলতানপুর ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকা থেকে পদযাত্রা শুরু করেন তিনি। দিনব্যাপী এ পদযাত্রায় সুলতানপুর ও মোহনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের পথঘাট ও বাড়ি বাড়ি ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
পথসভায় তিনি আরও বলেন, ‘নেতৃত্বের ফয়সালা আসমান থেকেই আসে। জমিনে বসে কেউ তা নির্ধারণ করতে পারে না। যে কেউ যত চেষ্টাই করুক, নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে পারবে না we are only ‘usila’ (উসিলা)।’
এ এনসিপি নেতা আরও বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে এ দেশের নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষের হাত ধরে। যারা শ্রমিক, যারা আমার বাবার মতো রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি ছিলেন- তারাই নেতাদের তৈরি করেছেন। অথচ সমাজের উচ্চবিত্তের কিছু মানুষ এসব পরিশ্রমী মানুষকে মানুষই মনে করেন না, ‘কামলা’ বলে অপমান করেন। আমি সেই অবহেলিত-বঞ্চিত মানুষের সন্তান হিসেবেই আজ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনাদের যাকে পছন্দ, তাকেই ভোট দেবেন- কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ভোট নিয়ে ঘরে ঘরে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। ভোট একদিনের, কিন্তু বিভেদ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।’
তিনি জানান, মাঠের মানুষের হৃদয়ের টানই তার শক্তি। ‘এনসিপি এক মা মুঠো ভর্তি টাকা দিয়ে বললেন, ‘বাবা, নির্বাচনে খরচ করবা।’ প্রবাসী ভাইয়েরা ফোন করে বলছেন-‘ভাই, টাকা নিয়ে চিন্তা করবেন না।’ এসব পরিশ্রমী মানুষের ভালোবাসাই আমার সাহস। আমি আপনাদের থেকে নিতে এসেছি, আপনাদের দিতে নয়।’
নারীদের শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ দেশে এখনও নারীদের ঘরে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা রয়েছে। যে ঘরের মা শিক্ষিত, সে ঘর অন্য সব ঘরের চেয়ে সুন্দর। মেয়েদের পড়ালেখা করাবেন, অল্প বয়সে বিয়ে দেবেন না। একজন শিক্ষিত মা-ই পারে তার সন্তানকে শিক্ষিত করতে।’
দেবিদ্বারের মাদক সমস্যা নিয়ে তিনি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘এখানে মাদক একটি বড় সমস্যা। মাঝে মাঝেই দেখি এ নেতার-কর্মী ধরা পড়ে, আবার অন্য নেতার-কর্মী ধরা পড়ে। এগুলো অনেক সময় নেতাদের ছত্রছায়ায় হয়। আমরা চাই যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে দেবিদ্বারের মাদক বিস্তার রুখে দিতে। একার পক্ষে সম্ভব নয়- আপনাদের সবাইকে নিয়ে এটি প্রতিহত করা হবে।’
জনতার আওয়াজ/আ আ