বিএনপির শরিকদের জন্য রাখা হলো যে আসনগুলো - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৬:৫৯, শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপির শরিকদের জন্য রাখা হলো যে আসনগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২৫ ৩:২৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২৫ ৩:২৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ৩৬টি আসন এবং আগে ২৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। এখনো ২৮টি আসন ফাঁকা রেখেছে বিএনপি।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই ২৮ আসনের বেশির ভাগই বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে যুগপৎভাবে অংশ নেওয়া শরিক দলগুলোর জন্য রাখা হয়েছে। তবে কয়েকটি আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় সেসব আসনে আপাতত প্রার্থী দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারে বিএনপি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই আসনগুলোর মধ্যে আমাদের জোটের (অ্যালায়েন্স) সঙ্গে যারা আছেন, তাদের আসনসহ দলের দু-একটা বিষয়ে ডিসিশন হবে। সেগুলো আমরা যথাসময়ে ঘোষণা করব।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য খবরের কাগজকে বলেন, দুই দফায় বিএনপি ২৭২টি আসনে সম্ভব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি ২৮টির মধ্যে বেশির ভাগ আসন শরিকদের দেওয়া হবে। এখানে বিএনপির ৮ থেকে ১০টি আসন রয়েছে। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে।

কার জন্য কোন আসন ফাঁকা
পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক, কুমিল্লা-৭ আসনে দলটির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ঝিনাইদহ-২ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের নাম জোটের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে। এই ১০ আসনে কাউকে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে এ ১০ জন প্রার্থী বিএনপির ‘সবুজ সংকেত’ পেয়েছেন। কয়েকজনকে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতেও বলা হয়েছে। এদের সবারই জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করে বিএনপির হাইকমান্ড।

যদিও মাহমুদুর রহমান মান্নার ইসলামী ব্যাংকের ৩৮ কোটি টাকার ঋণখেলাপির তথ্য প্রকাশ হওয়ায় তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

গণতন্ত্র মঞ্চের শরিকদের মধ্যে জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব শারীরিক অসুস্থতার জন্য এবার নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইছেন না। তিনি স্ত্রী জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রবের জন্য লক্ষ্মীপুর-৪ আসনটি চাইছেন। কিন্তু এ আসনটি ছাড়তে রাজি নয় বিএনপি। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি বিএনপির সহশিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক। তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে হাইকমান্ড।

জানা গেছে, এই কারণে জেএসডি এখন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এবি পার্টির সঙ্গে জোটভুক্ত হতে চাইছে। ইতোমধ্যে এনসিপি ও এবি পার্টির সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছে দলটি।

অন্যদিকে সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক, নীলফামারী-১ আসনে মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মনির হোসেন কাসেমী, সুনামগঞ্জ-২ আসনে শোয়ায়েব আহমদ মনোনয়ন চাইছেন। এ ছাড়া নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিকের নাম আলোচনায় রয়েছে।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও-পাগলা) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী এলডিপির (অলি) প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি জোটের প্রার্থী ছিলেন। এসব আসনে কাউকে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, শরিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই নিজেদের মতো প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এতে জোটবদ্ধ নির্বাচন নিয়ে স্পষ্টতা কমে গেছে এবং বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়েছে।খবরের কাগজ

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ