পটুয়াখালী-১ আসন: দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়ে বিএনপির প্রার্থী ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:৩০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পটুয়াখালী-১ আসন: দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়ে বিএনপির প্রার্থী ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫ ৫:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫ ৫:২১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
মির্জাগঞ্জ, দুমকি ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-১ আসন। প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে এই আসন নিয়ে বাড়তি চিন্তায় থাকতে হয়। কে হতে চলেছেন আসনটির পরবর্তী সংসদ সদস্য— তা নিয়ে চলে জল্পনা-কল্পনা। তবে এবারের দৃশ্যপট পুরোপুরি ভিন্ন। আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই। অন্য দল থেকেও শক্তিশালী প্রার্থী উঠে আসেনি। এতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও তৃণমূলের জনপ্রিয়তা তাকে এগিয়ে রেখেছে, স্থানীয়দের ভাষায় যা ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’।

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত এ আসনটি পাঁচবার আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। নির্বাচনের সালগুলো হলো- ১৯৭৩, ১৯৭৯, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৮। বিএনপির দখলে ছিল ১৯৯১ ও ২০০১ সালে। এ ছাড়া ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০১৪ এবং ২০২৪ সালে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী। এই পরিসংখ্যান বলছে, কোনো দলই পটুয়াখালী-১ আসনে শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে তুলতে পারেনি।

প্রথমবারের মতো এই সুযোগ কাজে লাগাতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে মাঠে নেমেছেন জামায়াতের প্রার্থী দলটির জেলা শাখার আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর মেজর (অব.) ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় উচ্চতর পরিষদের সদস্য কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম ফাহিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। তাদের মধ্যে অনেকেই এলাকায় গণসংযোগ করছেন, প্রচার চালাচ্ছেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে তারা সুযোগ হিসেবে দেখছেন। জামায়াতসহ অন্যান্য দল মনে করছে— প্রথমবারের মতো বিএনপির বিভাজন তাদের জন্য একটি কার্যকর রাজনৈতিক পথ তৈরি করেছে।

এক সময় পটুয়াখালী-১ আসনে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া। ভোটের মাঠ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দুজনের ছিল মুখোমুখি লড়াই। তবে শাহজাহান মিয়া মারা যাওয়ার পর এবং আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকায় আলতাফ হোসেন রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। বর্তমানে তিনি প্রতিটি এলাকায় সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মাঠে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও নিজ দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পাশাপাশি পুরোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার মুখে তাকে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনে দলের একপক্ষ অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলে ধরছে। গত ২৬ নভেম্বর বিকেলে সদর উপজেলার বদরপুর শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমাকে হারাতে জেলা বিএনপির বাজেট ১০০ কোটি টাকা।’ এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ নভেম্বর বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, ‘ওনার (আলতাফ হোসেন চৌধুরী) বয়স হয়েছে। তাই অনেক সময় খেই হারিয়ে দলের বিরুদ্ধে কথা বলে ফেলেন।’ এ অবস্থায় স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে পুঁজি করে মাঠে সুবিধা নিতে পারে জামায়াতসহ অন্য দলের প্রার্থীরা।

জানতে চাইলে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয় জনমত জরিপ ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। মনোনয়নের আগে-পরে আমি সাধারণ ভোটারের কাছে গিয়েছি, জনগণকে পাশে পেয়েছি।’ জেলা বিএনপির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জেলা বিএনপি বলতে এখন শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই আছেন। তারা নির্বাচনি প্রচার শুরু করেননি। তবে শিগগিরই করবেন।’ বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার বলেন, ‘আমরা সব সময় ধানের শীষের পক্ষে কাজ করি। ভবিষ্যতেও করব। কেন্দ্র থেকে প্রাথমিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। নাম চূড়ান্ত হলে নির্বাচনি প্রচারে নামব।’

গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকেই পটুয়াখালী জেলাজুড়ে জামায়াত সক্রিয় হয়েছে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। আসনটিতে দলটি অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসানকে মনোনয়ন দিয়েছে। বর্তমানে তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নাজমুল আহসানের। নাজমুল আহসান বলেন, ‘আমরা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছি। প্রতিটি ওয়ার্ডের গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রতিদিন নিজেদের প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব।’

এদিকে ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ সম্প্রতি এই আসনে প্রার্থী বদল করেছে। এখানে আগে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মুফতি হাবিবুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি পটুয়াখালী-৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হন। ৮ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে দলটির জেলা শাখার সদস্য মাওলানা আবুল হাসান বোখারীকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ১০ ডিসেম্বর থেকে তিনি নির্বাচনি প্রচারে নামেন।

তিনি বলেন, ‘মনোনয়ন পেয়ে এরই মধ্যে ৫০০ মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন দিয়েছি। ভোট চাইতে আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে যাব। মসজিদ-মাদ্রাসায় যাব। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে হাতপাখার জয় হবে ইনশাআল্লাহ।’

গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশ এখন তরুণনির্ভর। তরুণরাই এখন ভোটারদের বিরাট অংশ। আমি নিজে যেহেতু তরুণ, তাই তারা আমার ওপর আস্থা রাখবে। এ ছাড়া সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেও পাশে পাব।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ