নির্বাচনি হলফনামা বাড়ি-গাড়ি নেই, দ্বৈত নাগরিক নন তারেক রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:১১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নির্বাচনি হলফনামা বাড়ি-গাড়ি নেই, দ্বৈত নাগরিক নন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১, ২০২৬ ৫:৪৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১, ২০২৬ ৫:৪৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিজের নামে কোনো বাড়ি বা গাড়ি নেই, তিনি ভিনদেশের নাগরিক (দ্বৈত নাগরিক) নন এবং তার একমাত্র পেশা রাজনীতি। এ ছাড়া তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। নির্বাচনি হলফনামায় তারেক রহমানের দেওয়া বিবরণ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দীর্ঘ ১৭ বছরে প্রবাসে থাকা তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নিতে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। ওই দুটি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি এ তথ্য দিয়েছেন।

হলফনামায় তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের এন ই-ডি-৩/বি নম্বর বাসা। শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক পাস এবং বয়স ৫৭ বছরের বেশি। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করলেও নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনার জবাবে তিনি স্পষ্ট করেছেন—তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি।

হলফনামা অনুযায়ী, বিদেশে তার কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদও নেই। সম্পদ বিবরণীতে আরও দেখা যায়, তারেক রহমানের নামে কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা বাণিজ্যিক স্থাপনা নেই। নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়িও। কৃষিজমির মালিকানা নেই বললেও তার নামে রয়েছে ২ দশমিক ০১ একর জমি, ১ দশমিক ৪ শতাংশ অকৃষিজমি এবং ২ দশমিক ৯ শতাংশ আবাসিক জমি।

তারেক রহমানের ব্যাংকে ও নগদ অর্থ মিলিয়ে রয়েছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা। এর বাইরে নিজ নামে রয়েছে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকার এফডিআর এবং অন্যান্য আমানত। শেয়ার ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের অংশে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, কোম্পানিতে অংশীদারত্বসহ কয়েকটি খাত দেখানো হয়েছে, যার মোট মূল্য কয়েক লাখ টাকা। গহনা ও আসবাবপত্রের মূল্য তুলনামূলকভাবে কম।

হলফনামায় স্ত্রী জুবাইদা রহমানের সম্পদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পেশায় চিকিৎসক জুবাইদা রহমানের বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ টাকার বেশি এবং তার নামে রয়েছে ১ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। যৌথ মালিকানায় তাদের রয়েছে জমি ও ৮০০ বর্গফুটের একটি দোতলা ভবন।

তবে হলফনামার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হিসেবে আলোচনায় এসেছে তারেক রহমানের মামলাসংক্রান্ত তথ্য। তার দাখিল করা নথি অনুযায়ী, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন নেই। অথচ অতীতে তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল ৮৪টি মামলা। ২০০৭ সালের পর বিভিন্ন সময়ে এসব মামলার কোনোটি থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন, কোনোটি প্রত্যাহার হয়েছে, কোনোটি খারিজ হয়েছে কিংবা অব্যাহতি পেয়েছেন।

আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তারেক রহমানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা এবং তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা। তার নিজের, স্ত্রীর বা নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তির নামে কোনো ঋণ, সরকারি পাওনা বা দায় নেই বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, আপিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও প্রচারের নির্ধারিত সময়সূচি সামনে রেখে তারেক রহমানের এই হলফনামা এখন কেবল একটি নির্বাচনসংক্রান্ত দলিল নয়; বরং তার আর্থিক স্বচ্ছতা, আইনি অবস্থান এবং রাজনীতিতে সক্রিয় প্রত্যাবর্তনের বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ