ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:০৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ৩:০০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে ব্যবসায়ীরা দেশে ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা-চাঁদাবাজি, ব্যাংকের উচ্চ সুদ, আমলাতান্ত্রিক হয়রানির এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির কথা তুলে ধরেন। তারেক রহমানও তাদের কথা শুনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ব্যবসার প্রতিবন্ধকতাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

রবিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগ সংকট, বেকারত্ব বৃদ্ধি, শিল্পকারখানার স্থবিরতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আড়াই ঘণ্টার আলোচনায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান বড় সমস্যাগুলো ব্যবসায়ীরা তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরেছেন। বিনিয়োগ কমে যাওয়া, কর্মসংস্থান হ্রাস, পুঁজিবাজারের সংকট—সবকিছুই আলোচনায় এসেছে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ব্যবসার কস্ট কমানো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, চাঁদাবাজি, ব্যাংক সুদ ও দুর্নীতিজনিত সমস্যার সমাধানে কাজ করবে। বিএনপি একটি বিজনেস ফ্রেন্ডলি রাজনৈতিক দল।”

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, “আমরা ব্যবসা ক্ষেত্রে চলমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। শিল্পকে সচল রাখা, কর্মসংস্থান ধরে রাখা ও বাড়ানো—এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছি। যেকোন সরকারই আসুক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। কারণ ব্যবসায়ীদের সাফল্যই সরকারের সাফল্য।”

তিনি বলেন, “তারেক রহমান আমাদের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়গুলো নোট করেছেন। সব জায়গায় হয়তো সব কিছু সম্ভব হবে না, তবে আন্তরিকভাবে কাজ করার আগ্রহ তাঁর মধ্যে আমরা দেখেছি।”

বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, “অর্থনীতি ঠিক করতে হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে—এই কথাই আমরা তারেক রহমানকে বলেছি। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। বর্তমানে বেকারত্ব বাড়ছে, অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এগুলো কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার যেই আসুক, অর্থনীতিকে এক নম্বর অগ্রাধিকার দিতে হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে হবে। তারেক রহমানও একমত হয়েছেন যে, ক্ষমতায় এলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করবেন।”

এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, “ব্যবসার কস্ট কমানো, পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর করা, ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো—এগুলো সঠিক দিকনির্দেশনা। আমরা মনে করি, এটি একটি ইতিবাচক ও সঠিক পথ।”

তিনি বলেন, “সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। মব কালচার থেকে বের হতে হবে। এটি না হলে ব্যবসা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের জীবনযাপনও স্বাভাবিক থাকে না।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে মীর নাসির হোসেন বলেন, “তারেক রহমানের বডি ল্যাংগুয়েজে আমরা ইতিবাচক মনোভাব দেখেছি। তিনি আন্তরিকভাবে শুনেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন—ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করবেন।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিজেএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিকেএমএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিএসএমএর সভাপতি মইনুল ইসলাম স্বপন, বিএবির সভাপতি আবদুল হাই সরকার, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, স্টিল মিল মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বিএপিআইয়ের আবদুল মুক্তাদির, বিএসআরএমের সভাপতি আলী হুসাইন আকবর আলী এবং এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।

এছাড়া স্কয়ার গ্রুপের তপন চৌধুরী, উত্তরা মোটরসের মতিউর রহমান, ট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমান, মেঘনা গ্রুপের মোস্তফা কামাল, প্রাণ গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, সিকম গ্রুপের আমিরুল হক, পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার টিটু ও ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান শরীফ জহির উপস্থিত ছিলেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও ফজলুল হক, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন চৌধুরী, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নাহিদ কবির এবং ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ