জনগণের বিশ্বাস আগামী দিনে তারেক রহমান দেশের কর্ণধার হবেন: দুদু
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ৩:০৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ৩:০৩ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আজ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, বিএনপি আগামী দিনে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে এবং তারেক রহমান হবেন এ দেশের কর্ণধার।’
সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া-মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘গণতন্ত্রের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে ১৬ বছর ধরে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আজ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, বিএনপি আগামী দিনে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে এবং তারেক রহমান হবেন এ দেশের কর্ণধার। এই বিশ্বাস শুধু অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ নয়—নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই তার বাস্তব প্রমাণ মিলবে। তাই আসন্ন ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য করতে দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি— এই ঐক্যের মাধ্যমেই বাংলাদেশ রক্ষা পাবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।’
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। তিনি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি। অথচ পতিত সরকারের সময় তাঁকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় এ দেশের নারীরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে অবহেলিত ছিল। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে এ দেশের কন্যাসন্তানরা বিনা বেতনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। শুধু নারী শিক্ষা নয়, সামগ্রিকভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম।’
দুদু বলেন, ‘যেভাবে বেগম সুফিয়া কামাল নারী শিক্ষার অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত, তেমনি শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করেছেন। শিক্ষা, শিল্প, কৃষি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান গবেষণার দাবি রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও সম্মানিত শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে— এই মহান নেত্রীর জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা পরিচালনা করার জন্য।’
ছাত্র দলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘কৃষিখাতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আমি নিজে কৃষকদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বারবার দাবি করেছিলেন—এ দেশের কৃষকদের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করতে হবে। কিন্তু তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদ তা করেননি। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর প্রথম কাজ হিসেবে কৃষকদের সেই ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বেগম খালেদা জিয়া তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কারাগারে বন্দি ছিলেন। তবুও তিনি মাথা নত করেননি। কারণ তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, যিনি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে এ দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন।’
এসময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
দোয়া-মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, আয়োজক কমিটির সভাপতি নূর আফরজ বেগম, দোয়া-মাহফিলে আয়োজক কমিটির সভাপতি নূর আফরজ জ্যোতি সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ মাইনুল ইসলাম, কৃষক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চালক দলের সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন কবির, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রফিকুল ইসলাম রিপন সহ প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ