চাই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন: শামা ওবায়েদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬ ১:৩১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬ ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। তিনি দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন। সম্প্রতি সংসদ নির্বাচন ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফরিদপুর প্রতিনিধি সঞ্জিব দাস।
খবরের কাগজ: সংসদ নির্বাচনের দিন তো ঘনিয়ে আসছে। এবার কেমন নির্বাচন চান?
শামা ওবায়েদ: এবারের নির্বাচন বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের একটি নির্বাচন। আমরা চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষকে উপহার দেবে নির্বাচন কমিশন। এমনটিই তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা।
খবরের কাগজ: বিভিন্ন দল থেকে অনেক দিন ধরে একটি ‘ভালো নির্বাচনের’ কথা বলা হচ্ছে। সেই ‘ভালো’ নির্বাচনের পরিবেশ দেখছেন এখন?
শামা ওবায়েদ: আমি একজন প্রার্থী হিসেবে মনে করি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ঠিক করতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটছে। বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা ঢাকায় একজন জনপ্রিয় প্রার্থী হাদিকে হারিয়েছি। প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রার্থীরা যাতে স্বাধীনভাবে ভোট চাইতে পারেন এবং ক্যাম্পিং চালাতে পারেন সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও বেশি উন্নত হওয়া প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।
খবরের কাগজ: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কোথায় আরও কাজ করতে হবে?
শামা ওবায়েদ: গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছিল। সেগুলোর অর্ধেকও এখনো উদ্ধার হয়নি। সেগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও বেশি শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে ও সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই দুষ্কৃতিকারীরা অঘটন ঘটিয়ে নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে। দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের আরও বেশি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের দেশের ৫১ শতাংশ নারী ভোটার। সেই নারী ভোটাররা যাতে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারেন, তাদের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশনের যারা মাঠপর্যায়ে রয়েছেন তাদের কিন্তু নিশ্চিত করতে হবে। ভোটার হিসেবে এই দাবি রাখছি।
খবরের কাগজ: নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেমন দেখছেন?
শামা ওবায়েদ: এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সব কাজে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট রয়েছি। নির্বাচন কমিশনের যারা মাঠপর্যায়ে রয়েছেন, তারা যাতে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষকে মনোনিবেশ করতে হবে। পুলিশ এবং সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে তাদের কাজ করতে হবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য। প্রশাসন নিরপেক্ষতা ও সততার সঙ্গে ভূমিকা পালন করবে¬–সেটিই আমি আশা করি।
খবরের কাগজ: সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?
শামা ওবায়েদ: সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হচ্ছে–এটি নির্বাচনকে আরও বেশি কমপ্লিকেটেড করবে বলেই মনে করি। বিশেষ করে ৩০০ নির্বাচনি এলাকার বেশির ভাগই গ্রামগঞ্জে অবস্থিত। সেসব জায়গায় ভোটারদের শিক্ষার হার বিবেচনা করে গণভোটের ব্যাপারটা তাদের বোঝানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেটি নির্বাচন কমিশন কতটুকু করতে পেরেছে, আমি জানি না। আমি আশা করব, এ ব্যাপারে সাধারণ ভোটার ও নারী ভোটারদের আরও বেশি অবগত করতে হবে। কী কারণে গণভোটে অংশ নিতে হবে, সেটি বোঝানো বড় প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো উদ্যোগ নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকেও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে আমি মনে করি।
খবরের কাগজ: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলো কী বলে মনে করেন?
শামা ওবায়েদ: আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। সেটিকে ফিরিয়ে এনে নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে। আমি মনে করি, এখনো নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ রয়েছে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, সেই চেষ্টা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জটি নির্বাচন কমিশন যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারবে বলে আমরা মনে করি। নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য অনেকে সচেষ্ট রয়েছে, সেই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে, অন্তর্বর্তী সরকারকে ও ভোটারদের সজাগ থাকতে হবে এবং দমন করতে হবে।
খবরের কাগজ: নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?
শামা ওবায়েদ: গণমাধ্যমের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে যেসব ভোট ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো গণমাধ্যম ভালোভাবেই তুলে ধরেছে বলে আমি মনে করি। সত্যটা তুলে ধরার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা পালন করেছিল সে সময়। এবার প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় কী ঘটছে, প্রার্থীদের কী অবস্থা, ভোটারদের কী অবস্থা, জনগণ কী ভাবছে–এই জিনিসগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলে ধরতে হবে গণমাধ্যমকে। প্রার্থীদের দুর্নীতি ও অনিয়মের খবরও তুলে ধরতে হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ