সুনামগঞ্জ ৫দ্বিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:৪২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জ ৫দ্বিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ২:২৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনটি ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনের ভোটের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপিই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে শেষমেষ এখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে। এ আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের জন্য উন্মুক্ত থাকায় এখানে ভোটের ভাগ বসিয়েছে ওই জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিসও। এখানে খেলাফত মজলিস কওমি ঘরানারই একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এতদসত্ত্বেও কওমি ঘরানার দলগুলোকে ভিন্ন মাত্রার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই নিজেদের ‘মূল প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
১১ দলীয় জোটের জন্য আসনটি উন্মুক্ত থাকায় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিস উভয় দলের প্রার্থীই ভোটের মাঠে সরব। তবে সাংগঠনিক শক্তি, তৃণমূল পর্যায়ের বিস্তৃতি ও সক্রিয় ভোট ব্যাংকের বিচারে জামায়াত খেলাফত মজলিসের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তবে কওমি ঘরানার অন্যান্য দলগুলোর ভোট ব্যাংক খেলাফতের দিকে ঝুঁকলে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীককে ছোট দল মনে করাও সমীচীন হবে না জামায়াতের এমন ধারণা অনেকের।
এদিকে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বর্তমানে এ আসনে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। শেষ মুহূর্তে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় দলটির অভ্যন্তরীণ ভোট বিভক্তির আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে বিএনপি এখন একক ও শক্তিশালী প্রার্থী নিয়ে মাঠে রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই বিএনপি’র সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের কৌশল নিয়েছে। দলটির প্রার্থী আব্দুস সালাম আল মাদানি (দাঁড়িপাল্লা) সাংগঠনিক কাঠামো, সক্রিয় কর্মীবাহিনী ও দীর্ঘদিনের ভোট ব্যাংকের ওপর ভর করে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে জামায়াতের ভোট ব্যাংক শক্তিশালী করতে তারা নানা কৌশলী পথে হাঁটছে। তৃণমূলে ইদানীং আওয়ামী লীগ ও তাদের ঘরানার অনেক নেতাকর্মীদের জামায়াতের মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতেও দেখা গেছে। জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, খেলাফত মজলিস কিংবা অন্যান্য কওমি ঘরানার দলগুলো তাদের জন্য বড় কোনো ফ্যাক্টর নয়, প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির সঙ্গেই। এদিকে ১১ দলীয় জোটের আরেক শরিক খেলাফত মজলিসও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়। দলটির প্রার্থী হাফিজ আব্দুল কাদির (দেওয়াল ঘড়ি) কওমি ঘরানার ভোট একত্রিত করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, কওমি ভোট একীভূত করা গেলে খেলাফত মজলিস এই আসনে ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কওমি ঘরানার অন্যতম দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীরের দল) জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও এ আসনে তাদের কোনো প্রার্থী নেই। ফলে তাদের ভোট ব্যাংকের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের দিকেই ঝুঁকতে পারে। একইভাবে মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা সাদিক সালীম প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় তার সমর্থকদের ভোটও দেওয়াল ঘড়ির দিকেই যেতে পারে বলে অনেকের অনুমান। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলহাজ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল) ও এনপিপি’র প্রার্থী মো. আজিজুল হক (আম) নির্বাচনী মাঠে থাকলেও তারা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাস্তবতায় তাদের ভোট ব্যাংক ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে এমন সম্ভাবনা কম। বিএনপি’র স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। তাদের মতে, কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। অপরদিকে জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিএনপি’র সঙ্গেই তাদের মূল লড়াই চলছে এবং শেষ পর্যন্ত তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে তারা বিজয়ী হবেন। খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা মনে করেন, ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের পক্ষে জনমত তৈরি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের প্রার্থী নিয়ে আশাবাদী। সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচন এখন স্পষ্টভাবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার শক্তি পরীক্ষার দিকে এগোচ্ছে। তবে কওমি ঘরানার বিচ্ছিন্ন ভোটগুলো এক বাক্সে আনতে পারলে জামায়াতের চ্যালেঞ্জ অনেকটাই দুর্বল হতে পারে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ