সত্য ও ন্যায়ের পথে জনগণের বিজয় অনিবার্য : মির্জা ফখরুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ২৭, ২০২২ ২:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ২৭, ২০২২ ২:৪৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে গুম, খুন, বিনাবিচারের হত্যার ভয়ংকর মানবাধিকার লংঘন কর্মকান্ডের জন্য র্যাব এবং র্যাবের ৭ জন কর্মকর্তার উপরে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের পরে জাতিসংঘের পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে বাংলাদেশের ডেলিগেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদ এর নাম রয়েছে। এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদকে যুক্তরাষ্ট্র শর্ত সাপেক্ষে ভিসা প্রদান করায় জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার জতিসংঘকে যে ডেলিগেশনের তালিকা প্রদান করে সেখানে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার লক্ষ্যে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম, খুন, বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডের মত ভয়ংকর মানবাধিকার লংঘনএর নির্দেশদাতাদের একজন বেনজির আহমেদকে এই তালিকা ভূক্ত করে সরকার এই সব মানবাধিকার লংঘণকারীদেরকে বৈধ্যতা প্রদান করার চেষ্টা করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শর্ত সাপেক্ষে ভিসা প্রদান করায় উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা জাতিসংঘের এই নির্দিষ্ট সম্মেলন ব্যতিত অন্য কোন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাতিসংঘের ১৯৪৭ চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত কোন ব্যক্তি শুধুমাত্র জাতিসংঘের সুনির্দিষ্ট উক্ত সম্মেলনে যোগ দিতে পারবেন এবং তার অবস্থান সীমিত থাকবে জাতিসংঘের প্রাঙ্গনে।
আমরা মনে করি, এই ধরনের শর্ত সাপেক্ষে ভিসা প্রদান বাংলাদেশের জন্য অবমাননাকর। সরকারের এই ধরনের দায়-দায়িত্বহীন উদ্ধত্তপূর্ণ আচরণের কারনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে ঝুকির মধ্যে ফেলছে।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
আপনারা সকলেই জানেন, আমরা দীর্ঘ দিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’সহ দেশের প্রায় সকল গণতান্ত্রিক দল এই সরকারের হিংস্র আচরণ নিয়ে কথা বলে আসছি। ইতমধ্যেই আমাদের দেশের অসংখ্য নেতাকর্মীকে এ সরকার গুম করেছে, ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে, বিনা বিচারে গ্রেফতার করে নির্যাতন করেছে।
দেশে কোন গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই, মিটিং মিছিল করার কোন অধিকার নেই, বিনা অনুমতিতে এমনকি কোন সমাবেশ পর্যন্ত করতে দেয়না ও গণমাধ্যমগুলীর উপর একটা সেলফ সেন্সরশিপে বাধ্য করা হয়েছে। সেরকম প্রেক্ষিতে দেশের মানুষের কথা কর্ণপাত করাতো দূরে থাকুক এমনকি জাতিসংঘের মত বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শক্তিশালী সংস্থার পক্ষ থেকেও বার বার উদ্বেগ ব্যক্ত করা হলেও তারা তোয়াক্কা করছে না।
হত্যা, গুম-খুন তারা চালিয়েই যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের আইন অনুযায়ী একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদেরকে তারা চিহ্নিত করেছে যারা ক্ষমতাসীনদের পক্ষে থেকে এইসব মানবাধিকার বিরোধী অপতৎপরতা চালাচ্ছে এবং সেই অভিযোগেই আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠান র্যাব এর উপর এবং র্যাব ও পুলিশের কয়েকজন ব্যক্তিদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, ভিসা বাতিল এবং তাদের স¤পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।
সর্বশেষ এ ধরনের একটি পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষ আশা করেছিল এই সরকারের বোধোদয় হতে পারে। কিন্তু আমরা অবাক বিস্ময় ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম জাতিসংঘের প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত এই অপরাধীকে প্রতিনিধি দলে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে সরকার প্রমান করলো তারা তাদের হিংস্র, মানবতা বিরোধী অপতৎপরতা চালিয়েই যাবে বিশ্ব বিবেক ও মতামতকে তোয়াক্কা না করে।
ইতমধ্যে ভোলায় গুলি করে দুই জনকে হত্যা, ঢাকা এবং কুমিল্লায় পুলিশের হেফাজতে দুই জনের মৃত্যু ও সারা দেশে জ¦ালানী তেল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির প্রতিবাদে বিএনপি’র চলমান আন্দোলনে পুলিশ ও সরকারী দলের হামলাতে এটাই প্রতিয়মান হয় সরকারের এই অপরিণামদর্শী ফ্যাসিবাদী সিদ্ধান্তের দায়দায়িত্ব কেবল সরকারকেই বহন করতে হবে। সত্য ও ন্যায়ের পথে জনগণের বিজয় অনিবার্য।
জনতার আওয়াজ/আ আ