নির্বাচনের পরপরই দেশ ছাড়তে পারেন আইজিপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৫৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নির্বাচনের পরপরই দেশ ছাড়তে পারেন আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৪:২০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৪:২০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বাহারুল আলম কূটনৈতিক মর্যাদার (লাল) পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে চান। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি তিনি সরকারি পাসপোর্ট সমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।

তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে খোদ আইজিপির কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণের খবরে প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আরও প্রায় ৮ মাস বাকি থাকতে তিনি কেন এখনই সাধারণ পাসপোর্ট নিতে চান, তা নিয়ে সচিবালয়সহ পুলিশ সদর দপ্তরে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

এদিকে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ছাড়াই সহজে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূর্বের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে স্পষ্টীকরণ আকারে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাবেক সরকারের আমলে জারি করা বিধিনিষেধ আগের মতো বহাল থাকবে, তবে বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাহারুল আলম নিজেই তার ব্যবহৃত কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর জন্য পত্র দিয়েছেন। এ বিষয়ে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) চেয়ে তিনি (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর চিঠি পাঠান।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি বাহারুল আলম, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ। আমার ব্যবহৃত কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণপূর্বক সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। বর্ণিত কূটনৈতিক পাসপোর্টের পরিবর্তে সাধারণ পাসপোর্ট প্রাপ্তির জন্য অনাপত্তি সনদ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।’

রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নৈতিকভাবে দুর্বল ও বিশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দিতে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি বাহারুল আলমকে অবসর থেকে পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার (২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর) তাকে পুলিশ প্রধান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বর্তমানে চলতি বছরের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে। এর আগে (৭ আগস্ট) অতিরিক্ত আইজিপি মইনুল ইসলাম ৩০তম আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুক্তির বর্ধিত মেয়াদ পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাতিল না করলে বাহারুল আলমের আরও ৮ মাস আইজিপি পদে বহাল থাকার কথা। অথচ মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই সরকারি পাসপোর্ট সমর্পণের বিষয়টি সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, নির্বাচনের পরপরই আইজিপি দেশ ছাড়তে পারেন এমন আশঙ্কা তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। কারণ, নির্বাচনের আগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি উঠেছিল। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আনুকূল্যে নির্বাচন পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ প্রেক্ষাপটে আইজিপির পাসপোর্ট সমর্পণের বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য পাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার আইজিপির হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন পাঠান প্রতিবেদক। জবাবে তিনি পালটা প্রশ্ন করে লেখেন, ‘কি প্রশ্ন উঠেছে।’ এরপর প্রতিবেদক জানান, অনেকে ধারণা করছেন তিনি নির্বাচনের পর দ্রুত দেশ ছাড়তে পারেন বলেই সাধারণ পাসপোর্ট নিতে চাইছেন। তবে এ প্রশ্নের আর কোনো জবাব দেননি আইজিপি বাহারুল আলম।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ