বিএনপি ক্ষমতায় এলে এক কোটি মানুষকে কর্মসংস্থান দেবে: তারেক রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:৩৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপি ক্ষমতায় এলে এক কোটি মানুষকে কর্মসংস্থান দেবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ ১১:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ ১১:১৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি ক্ষমতা গেলে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় নির্বাচনি প্রচারণার শেষে দিনে ঢাকা-৮ আসনে পীরজঙ্গি মাজার সড়কে এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান এই প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, ‘‘ এই এলাকায়(ঢাকা-৮ আসন) তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে, এই সমস্যা শুধু ঢাকা নয়, সমগ্র বাংলাদেশে এই সমস্যা। এর জন্য আপনাদের প্রিয় দল বিএনপি এই ব্যাপারে কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ইনশাল্লাহ এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব।”

‘‘ আমরা দেশে বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করবে, বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে আমরা আমন্ত্রণ জানাবো দেশে মিল কারখানা তৈরির মাধ্যমে যেমন আমরা একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করব। ”

তারেক রহমান বলেন, ‘‘ একইভাবে আমরা এই ঢাকা-৮ আসনসহ যত জেলা আছে, সর্বত্র ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং আইটি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইনস্টিটিউট আমরা তৈরি করব সেখানে আমাদের তরুণ সমাজের ছেলে হোক মেয়ে হোক তাদেরকে আমরা দক্ষ নাগরিক হিসেবে ধীরে ধীরে গড়ে তুলবো। যার ফলে তারা দেশেই হোক নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করে নিবে পারবে, দেশেই হোক তারা নিজেদের বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে। ”

‘‘ একই সাথে তারা বিদেশেও যেতে পারবে। যারা বিদেশে যাবেন… আমরা দেখেছি আমাদের প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বিদেশে আছেন। এর মধ্যে অনেক মানুষ বিদেশ যাবার আগে অর্থ সংকটের জন্য তারা নিজেদের বাপ-দাদার জমি বিক্রি করতে হয়। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, ইনশাআল্লাহ আগামীতে যারা এই দক্ষ মানুষ যারা বিদেশে যাবে আমাদের তরুণরা, যুবকেরা যারা বিদেশে যাবে, যারা অর্থ সংকটের কারণে যেতে পারছে না তাদেরকে আমরা জমি বিক্রি করতে দেবো না। তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করে দেবো। যেই টাকা সে ধীরে ধীরে ওখানে কর্মসংস্থান করে পরিশোধ করবে। কিন্তু আমরা বাপ দাদার জমি যাতে বিক্রি করতে না আমরা সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।”

একই সঙ্গে বিএনপি নির্বাচিত হলে এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার কথাও বলেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য সেবা, ইমাম-মোয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রবর্তন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার বিষয়ে দলের পরিকল্পনাও তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমি আমার বক্তব্যে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরলাম। ১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী আমি জানতে চাই?”

হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক সমস্বরে বলে ‘‘ধানের শীষ, ধানের শীষ।”

বিএনপি নির্বাচিত হলে ঢাকা-৮ আসনে খেলা মাঠ নির্মাণ, কবরস্থানের জন্য জায়গা প্রদান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।

পরে মির্জা আব্বাসের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তাকে নির্বাচিত করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

বনানীর কামাল আতাতুর্ক মাঠে জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর তিনি ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনি এলাকায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখার পর আসেন ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের আসনে।

‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং রুখতে হবে’

ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘ সারাদেশের জনগণ ভোট দেয়ার অপেক্ষায় আছে। ১৭ বছর উত্তপ্ত রাজপথে হেটে,নির্যাতিত হয়ে, গুম-খুন সহ্য করে আমরা এই ভোটের অধিকার আদায় করেছি। আমরা জানতে পা্রছি, আমরা শুনতে পারছি, আমার বক্তব্য ওদের উদ্দেশ্যে যারা ষড়যন্ত্র করছেন। আমরা বুঝতে পারছি বিভিন্ন কর্ণার থেকে বিভিন্ন মহল বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে পাস করানোর জন্য চিন্তাভাবনা্ করছে। এরমধ্যে ঢাকায় কয়েকটি সিট ও বাংলাদেশে কয়েকটি সিট জোরজবরদস্তি করে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ছিনতাই করার চেষ্টা করবে।”

‘‘ আমরা ১৭ বছর রাজপথে সংগ্রাম করেছি, বহু রক্ত ঝরিয়েছি। আর একটা দিন কষ্ট করে আমরা ভোট দেবো, পোলিং সেন্টার পাহারা দেবো। ওই পোলিং সেন্টারে যদি কেউ বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করতে চায়, সরকারি কর্মকর্তা হোক, বেসরকারি কর্মকর্তা হোক কাউকে কিছু করার সুযোহ দেয়া হবে না। অনেকে বিদেশ থেকে চক্রান্ত করছেন এদেশে একটা হানাহানি হোক। আমরা এর কোনো সুযোগ আমরা দেবো না।”

তিনি বলেন, ‘‘ আমরা বিশ্বাস করি, উনি প্রধানমন্ত্রী হবে। সেজন্য আমরা এলাকায় কিছু দাবি আছে গ্যাস-পানি-জলাবদ্ধতা, তরুনদের বেকার সমস্যা, খেলার মাঠ এবং কবরাস্থানে জন্য জায়গা সম্প্রসারণ… সেগুলো উনি সমাধান করে দেবেন এই প্রত্যাশা আমি করি।”

এই জনসভায় মির্জা আব্বাসের সহধর্মিনী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসও উপস্থিত ছিলেন।

‘গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন’

ঢাকা-১০ আসনে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘‘ আমরা দেখেছি, একটি মহল তাদের নেতা-কর্মীরা ধরা পড়েছে নকল ব্যালেটের সিল বানাতে গিয়ে। কাজেই আজকে ঢাকা-১০ সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ যারা চায়ে এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে আপনাদেরকে আজকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে এইসব নকল সিল বানায় তাদের বিরুদ্ধে।”

‘‘ যারা বাসাবাড়িতে গিয়ে মা-বোনদেরকে বিভ্রান্ত করে তাদের বিকাশ নাম্বার চায়, তাদের এনআই নাম্বার চাই …এই সকল ষড়যন্ত্র গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে আজকে সজাগ থাকতে হবে। তানা হলে শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা যেই ভোটের অধিকারকে আজকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি সেই অধিকার আবার হারিয়ে যাবে। সেই অধিকারে আবার ষড়যন্ত্রের বেড়াজলে আটকে যাবে।”

তিনি বলেন, ‘‘ কাজেই আমরা যদি সতর্ক থাকি তাহলে বাংলাদেশকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না, আমরা যদি সতর্ক থাকি বাংলাদেশের সেই গতি কেউ রোধ করতে পারবে না, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের গতি কেউ করতে পারবে না।”

‘‘ আজকে এই নির্বাচনী জনসভায় আমাদের সকলকে শপথ নিতে হবে, প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে যে কোন মূল্যে আমরা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করবো, যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের বাংলাদেশের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে আমরা সকলে কাজ করবো।”

সারাদেশে নির্বাচনে প্রচারণা শেষ করে রোববার ঢাকা মহানগরে প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। গতকাল ঢাকার ৭টি নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি।

পরে তারেক রহমান ধানের শীষ প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবিকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করে দিয়ে তার জন্য ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘‘ রবিকে আমরা ধানের শীষের প্রার্থী করেছি। রবি তার বক্তব্যে এই এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন, সমাধানের কথা বলেছেন। ইনশাল্লাহ রবির সাথে আমিও বলে যাচ্ছি ঢাকা-১০ ধানের শীষ নির্বাচিত হলে সরকার গঠন করলে রবি যেসব ওয়াদা করেছে সেটি বাস্তবায়নের জন্য আমিও রবির সাথে কাজ করব। কারণ ঢাকা-১০ আসনের বাসীদের সাথে কিন্তু আমার আত্বীয়তা সম্পর্ক আছে।আমরা দায়িত্ব এই এলাকায় সমস্যার ইনশাল্লাহ সমাধান করব।”

ঢাকা-৮ আসনের জনসভা শেষ করে তারেক রহমানের গাড়িবহর যাচ্ছে ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশীদ হাবিবের আসনে বাসাবো তরুন সংঘ মাঠে, ঢাকা-৫ আসনে নবী উল্লাহ নবীর যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে, ঢাকা-৪ আসনে তানভীর আহমেদ রবিনের জুরাইন দয়াগঞ্জ রোডে, ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেনের ধূপখোলা মাঠে এবং ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান হামিদের লালবাগ বালুর মাঠের পথসভায় বক্তব্য দেবেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ