সুষ্ঠু ভোট হলে যেকোনো ফলাফলই বিএনপি মেনে নেবে : মাহাদী আমিন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫৪, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সুষ্ঠু ভোট হলে যেকোনো ফলাফলই বিএনপি মেনে নেবে : মাহাদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ ৩:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি

নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকা দিয়ে ভোট কেনাকে জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে একটি দল নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছে, কিন্তু তারা সেই প্রচারণাতেই মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক যে, স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের আসনেই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলছে; তাহলে চিন্তা করুন দেশব্যাপী ওই দলটি কী করছে। নির্বাচনি আচরণবিধির এই লঙ্ঘন একাধারে জনবিচ্ছিন্নতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।’

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, ‘যারা সারাক্ষণ সততা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইনসাফের বয়ান তৈরি করেন, তারাই যদি নির্বাচনের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। খোদ ওই দলীয় প্রধানের আসন ঢাকা-১৫-এ দাঁড়িপাল্লার ভোট চাইতে দলটির অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী নেতা প্রকাশ্যে টাকা দিয়েছেন এবং ভোট কেনার চেষ্টা করেছেন; সেই ভিডিও ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ভাইরাল হয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে দলটি প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই যদি ভোটের মাঠে, দুর্নীতির মাধ্যমে, টাকা ছড়িয়ে, দলীয় প্রধানের আসনসহ দেশব্যাপী এভাবেই জনগণের ভোট কিনতে চায়, তাহলে এর চেয়ে বড় দ্বিচারিতা ও নৈতিকতার লঙ্ঘন আর কী হতে পারে?’

মাহদী আমিন বলেন, ‘এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রণীত সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি-৪ অনুযায়ী: ‘কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কিংবা তার পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন-পূর্ব সময়ে উক্ত প্রার্থীর নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা উক্ত এলাকা বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা, অনুদান বা উপঢৌকন প্রদান করতে বা প্রদানের অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি-২৭ অনুযায়ী, এই লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। The Representation of the People Order, 1972-এর Article 91B (3) মোতাবেক: (ক) কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচন পূর্ব সময়ে এই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে, তা একটি অপরাধ এবং এজন্য তিনি সর্বাধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বাধিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন; (খ) কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে, তা একটি অপরাধ এবং এজন্য উক্ত রাজনৈতিক দল সর্বাধিক ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।’

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘একইভাবে আমরা দেখেছি, খুলনা-১ আসনের সেই দলের প্রার্থী ভোটারদের মাঝে নিজ হাতে টাকা বিলাচ্ছেন, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এভাবেই নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে দেশজুড়ে তারা টাকা দিয়ে ভোট কেনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এটি সবাই জানেন, তারা কীভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি, বিকাশ, নগদ ও রকেট নম্বর সংগ্রহ করে অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। আমরা জানতে পেরেছি, সেই দলের একজন শীর্ষ নেতার আসন কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রামে ওই দলের সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪নং থালতামাঝ গ্রামে সোমবার রাতে উক্ত দলের সাজাপ্রাপ্ত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী কর্মীরা স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপর হামলা চালিয়েছে; অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে, যা জনমনে ভীতি সৃষ্টি করেছে। আমরা এই ধরনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন, রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে, একটি নির্দিষ্ট দল ক্রমাগত অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, সহিংস রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে ভোট চাইছে এবং এমনকি জাল ভোটের প্রস্তুতিও দেখা যাচ্ছে। জনরায়ের শক্তির মুখে দাঁড়িয়ে এ ধরনের অপকৌশলই তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।’

মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয় নস্যাৎ করতে যত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অর্থনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতাই করা হোক না কেন, গণতান্ত্রিক জনগণ তা রুখে দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, ইনশাআল্লাহ।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ