মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৩০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
‘তোমাদের যা বলার ছিল, বলছে কি তা বাংলাদেশ? শেষ কথাটি সুখের ছিল? ঘৃণার ছিল? নাকি ক্রোধের, প্রতিশোধের, কোনটা ছিল?’ ‘শহীদদের প্রতি’ কবিতায় এই প্রশ্ন করে গেছেন কবি আসাদ চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের সময় লেখা হয়েছিল এই কবিতা। তারপর কেটে গেছে আরও ৫৫ বছর। আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এই দিনে এক কঠিন মুহূর্তে এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।

মুক্তিযুদ্ধের সেই সূচনালগ্নে পাক-হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ ও স্বাধীনতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাক-হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ ও স্বাধীনতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর আহ্বান ছিল মুক্তিকামী জনতার প্রতি। পরদিন মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি) চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শহিদ জিয়াউর রহমানের এই ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও অসম সাহসী করে তোলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উৎসর্গ করতে প্রেরণা জোগায়। পরে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

গত মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভয়-উদ্বেগ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে জাতি আজ ‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উদযাপন করবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘জাতি হিসেবে স্বাধীনতা আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। আমি সশ্রদ্ধচিত্তে ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি।’ রাষ্ট্রপতি দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এবার যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রভাবের কারণে গত বছর ২০২৫ সালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আয়োজন ছিল অত্যন্ত সীমিত। তখন ক্ষমতায় ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের এই শাসনামলে দেশ ছিল অস্থির ও ‘মব সন্ত্রাসের’ কবলে। একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় মদদে কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। নিপীড়নের শিকার হন মুক্তিযোদ্ধারা। এই গোষ্ঠীর আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান। এ সময় অপমান-অপদস্থ হয়েছেন অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা। অন্তর্বর্তী সরকারের সেই প্রতিকূল সময় কেটে গেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনমনে স্বস্তি ফেরায় এবার উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে।

আজ প্রত্যুষে ঢাকাসহ সারা দেশে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সূচনা হবে। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

আজ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে।

আজ সরকারি ছুটি। মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে। দেশের সব হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

কুচকাওয়াজে থাকছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ ২৬ মার্চ সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গত মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। আইএসপিআর জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানটি এবার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ জন্য ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ নম্বর প্রবেশ গেট ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছে আইএসপিআর।

অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানিয়েছে, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল ও ওয়ারফেজের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এ অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ