বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে উদার পাঠ ড. শামারুহর
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
দেশান্তরী হওয়ার হিড়িক নতুন কোনো ঘটনা নয়। উন্নত জীবন আর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় মানুষ প্রতিনিয়ত পাড়ি জমাচ্ছে এক দেশ থেকে অন্য দেশে। তবে সেই যাত্রাপথেও যে ধর্মের অদৃশ্য কাঁটাতার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা দেখে বিস্মিত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জ্যেষ্ঠ কন্যা ড. শামারুহ মির্জা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে দিয়েছেন পরধর্মসহিষ্ণুতা এবং একটি আদর্শ রাষ্ট্রের চারিত্রিক গুণাবলি নিয়ে এক জরুরি বার্তা। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত এই গবেষক ও সমাজকর্মী স্পষ্ট করেছেন—রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মানবিকতা ও আইনের শাসন, বিভাজন নয়।
শামারুহের পোস্ট শুরু হয়েছে একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার বয়ান দিয়ে। তার এক বন্ধুর পরিচিত কেউ একজন অমুসলিম দেশে পাড়ি জমাতে নারাজ। সেই ব্যক্তির ‘নিয়ত’ বা সদিচ্ছাকে সম্মান জানিয়েও শামারুহ প্রশ্ন তুলেছেন—ধর্মের ভেদাভেদের চেয়েও কি বড় নয় মানবিকতা ও আইনের শাসন?
তিনি নিজে বর্তমানে যে দেশে (অস্ট্রেলিয়া) বসবাস করছেন, তাকে একটি সার্থক ‘সেক্যুলার’ বা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
শামারুহের ভাষায়, সেই প্রবাসে বিভেদের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে ব্যক্তি স্বাধীনতা। তিনি লিখেছেন, এখানে মুসলিমরা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালন করছেন, হিন্দুরা করছেন, ক্যাথলিকদেরও কোনো অসুবিধা নেই। আবার যারা সেক্যুলার, তারাও শান্তিতে আছেন।
একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত বিশ্বাস যাই হোক না কেন, প্রকাশ্য স্থানে বা কর্মক্ষেত্রে কেউ কাউকে হেনস্থা (বুলিং) করলে শাস্তির হাত থেকে রেহাই মেলে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা সেখানে কার্যত বিরল।
আধুনিক সমাজ ও প্রযুক্তির কালো ছায়া থেকেও নবীন প্রজন্মকে বাঁচাতে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তারও প্রশংসা ঝরে পড়েছে শামারুহের পোস্টে।
১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করা কিংবা শিশুদের সুরক্ষায় সাইবার পুলিশের পৃথক ইউনিটের সক্রিয়তা—এই সব মিলিয়েই এক নিরাপদ আশ্রয়ের জয়গান গেয়েছেন তিনি।
শামারুহের এই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে উঠে একটি মানবিক ও সহনশীল সমাজ গড়ার যে প্রত্যাশা করেছেন তিনি, তা বর্তমান অস্থির বিশ্ব ও দেশীয় প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জনতার আওয়াজ/আ আ