শাওন লিখেছিলেন, কর্মীর চেয়ে বড় কোনো পদ নাই - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:০২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শাওন লিখেছিলেন, কর্মীর চেয়ে বড় কোনো পদ নাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২ ৪:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২ ৪:২১ অপরাহ্ণ

 

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র নেতাকর্মীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত রাজা আহমেদ শাওন ওরফে শাওন প্রধান যুবদলকর্মী। বহু আগ থেকেই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শাওন নিজেকে যুবদলকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতো। তার ফেসবুক আইডি ঘেঁটে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। তাছাড়া বিএনপি ও যুবদলের নেতারা জানিয়েছেন, শাওন যে যুবদলের রাজনীতি করতো তার প্রমাণ হিসেবে দলীয় কর্মসূচিতে আমাদের সঙ্গে তার অসংখ্য ছবি আছে। যার মধ্যে বেশকিছু ছবি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এদিকে শাওনকে যুবলীগকর্মী দাবি করে মিছিল করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। নিহতের ঘটনায় শাওনের পরিবার হত্যা মামলা করেছে অজ্ঞাত ৫ হাজার জনকে আসামি করে। ময়নাতদন্ত শেষে গভীর রাতে কড়া পুলিশ পাহারায় শাওনের জানাজা ও লাশ দাফন করা হয়েছে।

নিহত শাওন যুবদলকর্মী: বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে মিছিলের অগ্রভাগে ছিল শাওন। শুধু তাই নয়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে শহরের ২ নম্বর গেট এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা যায় শাওনকে।

এমন একটি ভিডিও ক্লিপিং এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। শাওনের মৃত্যুর কিছুক্ষণ পর যুবদলের মিছিলে সামনের সারিতে থাকা শাওনের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, চেক টি-শার্ট পরা শাওন মিছিলের অগ্রভাগে আছেন। টি-শার্টে একটি সানগ্লাস ঝুলানো। তার পাশে ছিল কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য সাদিকুর রহমানসহ অন্যরা। গতকাল সকালে নিহত শাওনের বড় ভাই ফরহাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমরা তিন ভাই এক বোন ছিলাম। শাওন সবার ছোট। তাই সে সবার আদরের ছিল। তাকে হারিয়ে মা পাগল প্রায়। কাল থেকেই বার বার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন। ফরহাদ আরও বলেন, আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাদের জানা ছিল না শাওন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। বৃহস্পতিবার ছবি দেখার পর জানতে পারলাম সে যুবদল করে। শাওন প্রধানের বড় ভাই ফরহাদ প্রধান বলেছেন, আমরা ভিডিওতে দেখলাম ও সেদিন প্রোগ্রামে ছিল। কাশিপুরের বাংলাবাজার এলাকার যুবদল নেতা সাদেকুর রহমান সাদেক ভাইয়ের নেতৃত্বেই ও রাজনীতি করতো। বাসায় আমরা জিজ্ঞেস করলে বলতো না। এর আগেও কয়েকবার সে বিএনপির কর্মসূচিতে গিয়েছে। আমরা তাকে শাসন করেছি। তারপরেও সে গোপনে রাজনীতি করতো। ফরহাদ আরও বলেন, আমি সেদিন ঘটনাস্থলে ছিলাম না, কাজে ছিলাম। সেখান থেকে খবর পেলাম ও ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে আছে। সেখানে গিয়ে দেখি সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।
শাওনের ফেসবুক আইডিতে যা পাওয়া গেলো

শাওনের পরিবার সূত্রে পাওয়া তার ফেসবুক আইডি ঘুরে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে তার যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। shwan ahmed (রাজা)’ নামে তার ফেসবুক আইডির ‘বায়ো’তে শাওন লিখেছেন, ‘কর্মীর চেয়ে বড় কোনো পদ নাই, সাক্ষী দেহের ঘামে ভেজা নগরীর রাজপথ, ফতুল্লা থানা যুবদল জিন্দাবাদ।’ গত ৩১শে মে শাওনের ফেসবুকে দেয়া সর্বশেষ পোস্টে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও যুবদল নেতা সাদেকুর রহমানের একটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘নিশি রাতের ভোট চোরদেরকে বলে দিও ২০২৩ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল নারায়ণগঞ্জ জেলা।’ এ ছাড়া শাওনের আইডি ঘেঁটে সেখানে দেয়া দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া তার বেশকিছু ছবি, ভিডিও ও নিজের নামে (রাজা প্রধান) করা পোস্টার দেখা গেছে। পোস্টারগুলোতে তিনি নিজেকে ফতুল্লা যুবদলকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ জানিয়েছেন, শাওন যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিল। আমার সঙ্গে তার অসংখ্য ছবি আছে। শাওন প্রধান নাম হলেও রাজনীতিতে সে রাজা প্রধান নামে পরিচিত ছিল।

গভীররাতে পুলিশ পাহারায় শাওনের লাশ দাফন:

বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিতে নিহত যুবদলকর্মী রাজা আহমদ শাওন ওরফে শাওন প্রধানের জানাজা ও লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। লাশ হস্তান্তরের পৌনে এক ঘণ্টার মধ্যে তড়িঘড়ি করে শাওনের লাশ দাফন করা হয়। এ সময় ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের উপস্থিতিতে নিহত শাওনের বড় ভাই মিলন প্রধান ও মামা মোতাহার হোসেনের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পাহারায় শাওনের লাশ বাড়িতে নেয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে চিকিৎসকরা শাওনের লাশের ময়নাতদন্ত করেন। ময়নাতদন্তের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

শাওনকে যুবলীগকর্মী দাবি করে আওয়ামী লীগের মিছিল:

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শাওন প্রধানকে যুবলীগকর্মী দাবি করে বৃহস্পতিবার রাতে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাস্টারের নেতৃত্বে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জাহাঙ্গীর মাস্টার জানান, শাওন আমাদের এলাকার ছেলে এবং ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর ভাতিজা। তারা ৪ ভাইয়ের মধ্যে বড়জনের অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে। আর ৩ ভাই তাদের চাচা শওকত আলীর সঙ্গেই থাকেন এবং শাওন যুবলীগের রাজনীতি করেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল সংবাদ মাধ্যমে দাবি করেছেন, নিহত শাওন যুবদলকর্মী নয়, সে আওয়ামী লীগ নেতার ভাতিজা। তবে শাওন যে যুবলীগের কর্মী নয়, তা নিশ্চিত করেছেন তার চাচা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী। তিনি জানান, তার চাচাতো ভাই মৃত সাহেব আলীর ছেলে শাওন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় সদর উপজেলার বক্তাবলীতে শাওনের বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানকালে শওকত আলী সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শওকত আলী বলেন, শাওন যুবলীগ কর্মী নয়, যুবদল কর্মীও নয়। সে কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সদস্যও নয়। যদি যুবদল কর্মী হয়ে থাকে, বৃহস্পতিবার মিছিলে গিয়ে থাকে, তবে সেটা আমি জানি না। এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যুবদলের মিছিলে সামনের সারিতে থাকা শাওনের ছবি দেখালে শওকত আলী ছবিটি শাওনের বলে শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ছবিতে শাওনকে দেখা যাচ্ছে। এই ছবিতো মুছে ফেলা যাবে না।’ শাওনকে যুবলীগকর্মী দাবি করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ বিষয়ে বলেন, যারা এটা বলতেছে, তারা সঠিক তথ্য জেনে বলেনি। তবে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।

শাওন হত্যায় পরিবারের মামলা, আসামি ৫ হাজার:

এদিকে শাওন নিহতের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে শাওনের বড় ভাই মো. মিলন হোসেন বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় এই হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত পাঁচ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা জানান, এই মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এছাড়াও পুলিশের উপর হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে আরও একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। সেইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাও করা হচ্ছে। সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, নিহত শাওন (২১) ফতুল্লার নবীনগর বাজারে ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে শাওন ওয়ার্কশপের মালামাল কেনার জন্য বাসা থেকে বের হন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনুমান পাঁচ হাজার নেতাকর্মী ইটপাটকেল, লোহার রড, হকিস্টিকসহ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় মিছিল করে পুলিশের উপর ইটপাটকেল ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে ২ নম্বর রেলগেট এলাকা দিয়ে শাওন প্রধান যাওয়ার সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর আক্রমণ করতে থাকাকালে অবৈধ অস্ত্রের গুলি ও ইটের আঘাতে শাওন মাথায় ও বুকে গুরুতর আঘাত পেয়ে রাস্তায় পড়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তার লোকজন শাওনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের বক্তব্য:

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. আমীর খসরু গতকাল বিকালে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পুলিশ এবং বিএনপিকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শাওন নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বড় ভাই মিলন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আসামি অজ্ঞাত। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় আমাদের ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট এবং তদন্ত সাপেক্ষে আমরা বলতে পারবো শাওন কীভাবে মারা গেছে। কোন অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় আমরা ১০ জনকে আটক করেছি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ভিডিও ফুটেজ আছে আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করবো। যারা দোষী সে যে কেউ হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় পুলিশ ৭ শতাধিক শার্টগানের গুলি ও টিয়ারশেল ব্যবহার করেছে। এদিকে বিএনপি’র নেতাকর্মীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৭ থেকে ৮শ’ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আানিচুর রহমান।

শাওন গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য প্রাণ দিয়েছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ গুলি করে যুবদল কর্মী শাওনকে হত্যা করেছে। শাওন গণতন্ত্রের জন্য গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য প্রাণ দিয়েছে । সে যুবদলের কর্মী নয় বলে পুলিশ ও সরকার এখন মিথ্যাচার করছে। সরকার সারা দেশে বিএনপির কর্মসূচিতে গুলি করে মানবাধিকার লংঘন করছে। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পূর্ব গোপালনগর এলাকায় নিহত শাওনের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। পরে মির্জা ফখরুল নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। দুপুর বারোটায় নিহত শাওনের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রায় বিশ মিনিট সেখানে অবস্থান করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, শাওন যুবদলের প্রমাণিত ও পরীক্ষিত একজন সক্রিয় কর্মী। দলীয় কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের অনেক ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। তার চাইতে বড় পরিচয় সে এদেশের নাগরিক তাকে পুলিশ এভাবে গুলি করে মারতে পারে না। অবিলম্বে শাওন হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় অচিরেই দেশব্যাপী সরকার পতনের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করি না, বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাস করি না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করি। নারায়ণগঞ্জে একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ যেভাবে গুলি চালিয়েছে একটা স্বাধীন দেশে তা চলতে পারে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, পুরো রাষ্ট্রকে সরকার নরকে পরিণত করেছে। কথা বলার অধিকার নেই। বললেই গুম করা হচ্ছে, খুন করা হচ্ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বহু মায়ের বুক খালি হয়েছে। একদিন না একদিন এইসব হত্যার বিচার হবেই।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ