শহীদ জিয়া, বেগম জিয়া ও তারেক জিয়া - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:০৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শহীদ জিয়া, বেগম জিয়া ও তারেক জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ

 

ব‍্যারিস্টার রফিক আহমেদ, ইস্তাম্বুল ১৯ এপ্রিল ২০২৬।

১৯৭৫-এ মুজিব হত্যার বেনিফিশিয়ারী বিএনপি। জাতিকে যারা উদ্ধার করেছিল, তাদের রক্ষা করার শক্ত কোন ব্যবস্থা করলো না। ১৯৯০ সালে ৩ জোটের আন্দোলনে এরশাদের পতনের পর ৩ জোটের রূপরেখা বাস্তবায়নে কোন কিছুই করেনি। বলা হয় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা। কিন্তু সেটাও ছিল শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর নাম বসানো। ক্ষমতার কোন অদলবদল করা হয়নি। আগে ছিল প্রেসিডেন্টের হাতে সকল ক্ষমতা আর এখন হলো প্রধানমন্ত্রীর হাতে সকল ক্ষমতা। আর এটার মাধ‍্যমে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঐ দুই মহিলাই ক্ষমতায় যাবার ও থাকার বন্দোবস্ত হয়েছিল। ১৯৯১ সালে জামায়াতের নিঃশর্ত সমর্থনে ক্ষমতায় গিয়ে জামাতকেই বাঁশ দিয়েছিল। রাজাকার, স্বাধীনতা বিরোধী তকমা, গোলাম আযমকে জেলে পুরে রাখা, শিবির জামাতের অনেক নেতা কর্মী বিএনপি ও ছাত্রদলের হাতে খুন হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে হাসিনা ক্ষমতায় এসে জাতির সূর্যসন্তান ১৯৭৫ সালের নায়কদের মুজিব হত্যার বিচার করার উদ্যোগ নিয়ে অনেককে জেলে পুরেছিল। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে তাদের মুক্তি না দিয়ে জেলেই রেখেছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে হাসিনা ক্ষমতায় এসেই তড়িগড়ি করে তাদের ফাঁসি কার্যকর করেছিল। আমি বিএনপি ও জামাতের লোকদের বলতে শুনেছি ১৯৭৫ সালে মুজিব হত্যাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলেন, এটা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কিছুই নয়। ১৯৭৫ সালে মুজিব হত্যা ছিলো আকাঙ্কিত। মুজিবকে হত‍্যা ছাড়া আর কোন পথ খোলা ছিল না, যেমনটা হাসিনাকে সরাতে গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের বিকল্প ছিল না। বিএনপি জিয়ার আদর্শে নেই, কিন্তু আওয়ামীলীগ মুজিবের আদর্শে আজও টিকে আছে। জিয়া ব‍্যক্তিগতভাবে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন বলেই আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি একজন ভাগ্যবান ব্যক্তিও ছিলেন। উন্নতমানের রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তার নীতি ও আদর্শ ছিলো দেশের মানুষের জন্য। আর জিয়া পরবর্তী বিএনপি জিয়ার আদর্শ থেকে দূরে, বহু দূরে।

মরহুমা বেগম জিয়া শহীদ জিয়ার বিএনপিকে নোয়াখালি সমিতি বানিয়েছিলেন – কথাটা বিএনপি নেতাদের। উদাহরণস্বরূপ বলছি, শহীদ জিয়ার কয়জন ভাই বা বোন ছিলেন বা আছেন – দেশের মানুষ তো দূরের কথা খোদ বিএনপির কয়জনই তা জানে? শহীদ জিয়ার ভাই বোনদের কয়জনকে তিনি দেশের বা নিজ দল বিএনপির কোন পদে বসিয়েছিলেন? সমান প্রশ্নে মরহুমা বেগম জিয়ার বেলায় উত্তরটা নিজেই ভেবে দেখুন। তারেক রহমানের অতীত অনেকে জানেন আবার অনেকে জানেন না। যারা জানেন না তাদের জন্য বলছি, বিএনপির ক্ষমতায়নকালীন সময়ে তারেক জিয়ার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দেশবাসী ওয়াকিবহাল। তিনি অনেক সিনিয়র নেতাদের অপমান করতেন। প্রয়াত সাইফুর রহমানের মতো নেতারাও তারেকের সাথে দেখা করার জন্য হাওয়া ভবনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতেন বলে তৎকালীন সময়ে অনেক বিএনপি নেতা অভিযোগ করতেন। তিনি সবকিছু নিজের ইচ্ছায় পরিচালনা করতেন।

ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে অত‍্যাচারিত হয়ে দেশ ছাড়েন তারেক। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে তিনি বৃটিশ সরকার বা হাউজ অফ লর্ডসে হাসিনার ফ‍্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লবিং করা কিংবা কুটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত ছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম বৃটিশ সরকার, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং আমেরিকায় নানা পদক্ষেপ নিয়ে হাসিনার উপর চাপ প্রয়োগে নানা পদক্ষেপ তিনি নিবেন। আর এতে তিনি আওয়ামীলীগ ছাড়া সকল দলের সার্বিক সমর্থন পেতেন। কিন্তু না, তিনি কিছুই করতে পারেননি। শুধুমাত্র কিছু অযোগ্য অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত লোক নিয়ে কমিটি গঠন করা এবং দলীয় কর্মীদের ছোটখাটো মিটিংয়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতেন। এই ছিল তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে টাকা কামানোর অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত।

১৭ বছর লন্ডনে থেকে আত্মোন্নয়নের লক্ষ্যে কিছুই করেননি। চাইলে পড়াশুনা করতে পারতেন। বিলেতে পড়াশুনা করার অবারিত সুযোগ নেননি বা নিতে পারেননি। কেউ কেউ বলেন বৃটেনে পড়াশুনা করতে হলে যে মেধা লাগবে, সে মেধা তার নেই। দেশে যাবার পর নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে কতটা কথা বলেছে আর কতটা সঠিক কথা বলেছে সেটা বিবেচনায় নিলে একটা সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়। তার না আছে ইতিহাস জ্ঞান, না আছে দেশ সম্পর্কে সঠিক ধারণা, না আছে নিজ দলের ব‍্যাপারে সঠিক তথ্য। সব মিলিয়ে এটা বলা যায় যে, তিনি মরহুম জিয়া ও মরহুমা বেগম জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। আবারও চামচাদের কবলে পড়ে তিনি পথহারা হয়ে যাচ্ছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ