গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে পোশাক খাতের উৎপাদন ব্যাহত: বিজিএমইএ পরিচালক - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:২০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে পোশাক খাতের উৎপাদন ব্যাহত: বিজিএমইএ পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ৪:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ৪:২১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক রুমানা রশীদ বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের পোশাক শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তার মতে, জ্বালানির অনিয়মিত সরবরাহ এবং ঘাটতির কারণে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না, যা সরাসরি রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ড্যানিশ দূতাবাস এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি সার্বভৌমত্ব: টেকসই ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় তিনি দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

রুমানা রশীদ বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেও বর্তমানে এটি জ্বালানি সংকটের কারণে চাপের মুখে রয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কারখানা বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যেমন সোলার সিস্টেম ব্যবহারের দিকে আগ্রহ বাড়ছে, যাতে উৎপাদন ধারাবাহিক রাখা যায়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনের ক্ষেত্রেও পরিবেশগত ও উৎপাদন মানদণ্ড পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব শর্ত পূরণে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজসহ পুরো উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।

বিজিএমইএর এই পরিচালক বলেন, টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। কারণ উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন। এই ঘাটতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে রুমানা রশীদ জানান, পোশাক খাত ইতোমধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিজিএমইএ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মিলে ডিকার্বনাইজেশন কার্যক্রমে কাজ করছে। পাশাপাশি অনেক কারখানায় এনার্জি অডিট করা হচ্ছে, যেখানে ব্র্যাক, বিআইজিডি এবং ড্যানিডার মতো সংস্থাগুলো সহযোগিতা করছে। প্রায় ৫০০ কারখানায় এ ধরনের অডিট চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, সোলার বা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আগ্রহ থাকলেও উচ্চ করহার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষায়, সোলার প্যানেল, ইনভার্টার এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ওপর কর অনেক বেশি, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২৮ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। বিশেষ করে সোলার প্যানেলে প্রায় ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ইনভার্টারে প্রায় ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ কর রয়েছে। এই কর কমানো গেলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও ঋণ সুবিধা ব্যবহার করে কারখানাগুলো সহজেই এই খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রপ্তানি বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে হলে জ্বালানি স্থিতিশীলতার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া জরুরি বলে মত দেন রুমানা রশীদ। তিনি বলেন, ইউরোপসহ উন্নত বাজারে টেকসই উৎপাদন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। পোশাক খাত শুধু রপ্তানি নয়, দেশের অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। তাই এই খাত টিকিয়ে রাখতে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তার মতে, জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা না থাকলে বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং রপ্তানি—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। তবে এই রূপান্তর সফল করতে নীতিগত সহায়তা, কর সংস্কার এবং সহজ অর্থায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে গার্মেন্ট খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।

সবশেষে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধান করা গেলে পোশাক শিল্প আরও এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। এজন্য এখনই কার্যকর নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ