লন্ডন বৈঠকেই নির্বাচনের তারিখ হয়েছিল, এটাই বাস্তবতা: মির্জা ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:২৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

লন্ডন বৈঠকেই নির্বাচনের তারিখ হয়েছিল, এটাই বাস্তবতা: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মে ১, ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মে ১, ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “লন্ডনে যে সভা হলো, যে ঐতিহাসিক বৈঠক আমাদের চেয়ারম্যান এবং তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে হলো, সেই বৈঠক সম্পর্কে তারা বিদ্রুপ ও কটাক্ষ করে বলেছেন, সেখানে নাকি একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত হয়েছে। যার ফলে আজ বিএনপি এই পার্লামেন্টে মেজরিটি নিয়ে বসে আছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের কথা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। লন্ডনে বৈঠক হয়েছিল বলেই আজ আমরা এখানে সবাই। কারণ লন্ডন বৈঠকেই নির্বাচনের তারিখ হয়েছিল। ওই বৈঠকেই প্রধান উপদেষ্টা রাজি হয়েছিলেন যে দ্রুত ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি নির্বাচন দেবেন। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। এটাও আমাদের সবাইকে স্বীকার করে নিতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমাদের দুর্ভাগ্য যে ৫ আগস্টের পর তারা (জামায়াত) বলছেন যে আমাদের চেহারা বদলে গেছে। আমাদের চেহারা বদলায়নি, তারা (জামায়াত) হঠাৎ করেই বদলে গেলো। হঠাৎ করে মনে হলো যে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একটা ইঙ্গিত পেয়ে গেছেন এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সব কিছু তৈরি হয়ে গেছে। তখন তারা যেসব উক্তি এবং যেসব কথা বলেছেন বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে, এই বক্তব্যগুলো গণতন্ত্রকে সাহায্য করেনি। আজ যে দূরত্ব, এই দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার একটা কারণ ছিল। আপনারা নির্বাচনকে অস্বীকার করছেন, নির্বাচনকে বলছেন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এটা কেউই মেনে নেবে না, মেনে নেয়নি। এই দেশের মানুষ সেটি মেনে নেবে না।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “গণহত্যা চালাচ্ছিল—সেই সময়ে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনে (স্পিকার) যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেই সময়ে সেই বাংলাদেশি সেনাদের সঙ্গে নিয়ে সব বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি (স্পিকার) যুদ্ধে নেমে গিয়েছিলেন।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “অভিযোগ উঠেছে আমাদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে আমাদের সম্মানিত এক সদস্য বলেছেন যে আমি সংবিধানকে ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করেছি এবং সংবিধান যেন ঠিক থাকে সেই ব্যাপারে আমি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে আপনারা, সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি— হ্যাঁ, করেছি। কারণ এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত, এই সংবিধান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত। এই সংবিধান ১৯৭১ সালে লাখ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে জড়িত।”

মন্ত্রী বলেন, “এই সংবিধানের অনেকগুলো আর্টিকেল আছে, অনেকগুলো অধ্যায় আছে, যেগুলো বারবার পরিবর্তন হয়েছে এবং এই সংবিধানকে কেটেছেঁটে একটা কাটাছেঁড়া পাতায় পরিণত করা হয়েছে। এই সংবিধানের জন্য যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি—এটা স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান।”

রাষ্ট্রপতির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অত্যন্ত সত্য কথা বলেছেন সালাহ উদ্দিন সাহেব, আজকে যে রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আমরা কথা বলছি, রাষ্ট্রপতি যে-ই হোন না কেন, তিনি একটি ইনস্টিটিউশন, কোনও ব্যক্তি নন। একটা প্রতিষ্ঠান, সেই প্রতিষ্ঠানকেই আমরা রক্ষা করেছি আমাদের প্রয়োজনে। কারণ ৫ আগস্টের পরে যদি এই রাষ্ট্রপতি না থাকতেন তাহলে এই রাষ্ট্রে একটা অরাজকতা, একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হতো।”

জুলাই আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস, আমাদের বুকেই আমরা ধারণ করি, এই দেশের সব মানুষই ধারণ করে। যখন এই কথাগুলো এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনও কটাক্ষ করা হয়, তখন তো অবশ্যই আমরাও কষ্ট পাই। এই লাখো মানুষ যারা সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে—তারাও কিন্তু একইভাবে কষ্ট পায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংস্কারবিরোধী বলে চিহ্নিত করবার চেষ্টা করেন, পোস্টার নিয়ে এসেছেন, পার্লামেন্টে বলেছেন আমরা সংস্কার চাই না। সংস্কারের জনক তো আমরাই।”

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ