র‌্যাবের মানবিকতা ১৫ বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে গেল নেয়ামুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:০৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

র‌্যাবের মানবিকতা ১৫ বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে গেল নেয়ামুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ধারালো ব্লেড দিয়ে সাত বছর বয়সের শিশু নেয়ামুলের অঙ্গহানি করা হয়েছিল। ২০১০ সালের এ ঘটনায় মামলা হলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন (আমৃত্যু) কারাদন্ড দেন আদালত। কিন্তু সেই শিশু নিয়ামুল ভিকটিম হিসেবে তখন থেকে রয়ে গিয়েছিল মামলার তদন্তকারি সংস্থা র‌্যাব-১ ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে।

অবশেষে নেয়ামুলকে বিদেশে চিকিৎসা করিয়ে সম্পূর্ন সুস্থ অবস্থায় দীর্ঘ ১৫ বছর পরে মঙ্গলবার (৫ মে) তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে র‌্যাব।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাব-১ ব্যাটালিয়নের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপস্ অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম জানান, গত ২০১০ সালের ৬ সেপ্টম্বর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় শিশু মো. নেয়ামুলকে (তখন বয়স ছিল ৭ বছর) ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ধারালো ব্লেড দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন করাসহ গলা, বুক, পেট ও মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়।

এ ঘটনায় ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. উমেদ আলী বাদী হয়ে নারী ও শিশু আদালতে পিটিশন মামলা করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন— শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান আলী, সালাহউদ্দিন, খন্দকার ওমর ফারুক, ইমরান ও আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

আদালতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিএমপি কামরাঙ্গীরচর থানায় পরে ২০১১ সালের ৩ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। র‌্যাব-১ ওই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে হাইকোর্টের আদেশে র‌্যাব-১ ওই মামলার তদন্তভার গ্রহন করে। তদন্ত নেমে র‌্যাব-১ মামলার প্রধান আসামি শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান আলীসহ এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। এরমধ্যে আদালতে তিনজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। এ অবস্থায় হাইকোর্ট ভুক্তভোগী শিশু নেয়ামুলকে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাব হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, গত ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন এ্যাডভোকেট এলিনা খানের সহযোগীতায় শিশু নেয়ামুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমেরিকার ‘জন হপকিনস হসপিটালে’ পাঠানো হয়। দুই মাস উন্নত চিকিৎসা শেষে সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে আসে নেয়ামুল।

এরই মধ্যে র‌্যাব-১ মামলাটির তদন্ত শেষ করে আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ১৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেখে গত মাসে তথা গত ২ এপ্রিল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ ওই পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন (আমৃত্যু) কারাদন্ড দেন। এছাড়া গত ৯ এপ্রিল ওই ট্রাইব্যুনাল র‌্যাব হেফাজতে থাকা ভুক্তভোগী নেয়ামুলকে (বর্তমানে বয়স ২৩ বছর) তার বাবা উমেদ আলীর জিম্মায় দিতে নির্দেশ দেন। সেই আদেশ অনুসারে মঙ্গলবার নেয়ামুলকে এ্যাডভোকেট এলিনা খানসহ একাধিক মানবাধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে নেয়ামুলকে সম্পূর্ন সুস্থ অবস্থায় তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ