স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি পুনর্গঠন: শীর্ষ পদে আলোচনায় ত্যাগী নেতারা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৪৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি পুনর্গঠন: শীর্ষ পদে আলোচনায় ত্যাগী নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬ ৩:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬ ৩:৪৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত
দলীয় কার্যক্রম গতিশীল করতে ও তৃণমূল পর্যায়ে তা জোরদার করতে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটির নেতৃত্বে কে আসতে পারেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।ইতোমধ্যে লবিং তদবির শুরু করে দিয়েছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা।

বিএনপি স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
বর্তমান শীর্ষ নেতারা এমপি হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব আনার আলোচনা চলছে।
ত্যাগী ও আন্দোলনে সক্রিয় নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সভাপতি-সম্পাদক পদে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের কাজ চলছে। কমিটির সুপার ফাইভে কারা স্থান পেতে পারেন, সে বিষয়ে হাইকমান্ড খোঁজখবর নিচ্ছে। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে শিগগিরই কমিটি চূড়ান্ত হতে পারে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে রাজীব আহ্সান রেলপথ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, সরকারের কাজের ব্যস্ততার কারণে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের সময় দেওয়ার বিষয়টি সীমিত হয়ে পড়েছে। তিন বছর মেয়াদি স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে–এমন আলোচনা রয়েছে দলের অভ্যন্তরে।

এমন প্রেক্ষাপটে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি আরও গতি পায়। এ ছাড়া সরকার ও দল পৃথকভাবে পরিচালনা করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ এমপি-মন্ত্রীরা যদি আঁকড়ে থাকেন, তাহলে দল ও সরকার উভয়ের কাজ ব্যাহত হয়।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গত নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রার্থী হন। দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

নেতারা যা বলছেন:
সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। সেখানে কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

ওই আলোচনা সভায় বলা হয়, এবারও নতুন ও পুরোনো নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠন করা হবে। যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তারাই শীর্ষ পদে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে বর্তমান কমিটির ‘সুপার টু’ থেকে কারও কমিটিতে আসার সম্ভাবনা নেই।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সারা দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে, কোথাও সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো এক এক করে দেওয়া হবে। সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা স্থান পাবেন।

কমিটি পুনর্গঠন প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

শীর্ষ পদে আলোচনায় এগিয়ে যারা:
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পুনর্গঠনে আলোচনা শুরু হলে নতুন কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের কেউ দায়িত্ব পাবেন নাকি সংগঠনের বাইরে থেকে অঙ্গদল থেকে নেতৃত্ব আসবে, এ নিয়েও রয়েছে জোর আলোচনা। সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলী, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন প্রমুখ।

সাধারণ সম্পাদক পদে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোক্তার হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদল বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, উত্তরের সভাপতি শেখ ফরিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল্লাহ ফয়েজসহ কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন।

এ ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে একাধিক নেতার নাম রয়েছে আলোচনায়। এদের মধ্যে আছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির নেতারা।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন বলেন, বিগত সময়ে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন, যারা তৃণমূলকে সংগঠিত করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে পারবেন, আমার বিশ্বাস আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান তাদের মূল্যায়ন করবেন।

সভাপতি পদে দৌড়ে এগিয়ে থাকা বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের অবদান ও সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনা করে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেই সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল থাকব।

তিনি বলেন, আমরা যারা জেল-জুলুম-নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েও রাজপথে ছিলাম, তাদের মূল্যায়ন করা হোক। আমার বিশ্বাস দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন দেশনায়ক তারেক রহমান। আমাকে দায়িত্ব দিলে মেধা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা পালন করব।

স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোক্তার হোসেন বলেন, যারা ত্যাগী, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে গতিশীলতা ফিরে আসবে।

বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, দীর্ঘ ২৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ৪৭টি মামলায় ৭ বারে ৭ মাসের বেশি কারাগারে ছিলাম। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বহুবার হামলার শিকার হয়েছি। জাতীয়তাবাদের আদর্শকে বুকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত। দলের চেয়ারম্যান সাংগঠনিক অভিভাবক যে দায়িত্ব দেন সেটাই ঈমানের সঙ্গে পালন করব–ইনশাআল্লাহ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, দীর্ঘদিন রাজপথে ছিলাম, আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। তাই আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন সেটাই পালন করব।

প্রসঙ্গত, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিভিন্ন দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা চিন্তা করে ১৯৮০ সালের ১৯ আগস্ট জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল প্রতিষ্ঠা করেন। পরে সাংবাদিক কাজী সিরাজকে আহ্বায়ক করে ২৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ১৯৮৫ সালের ১৯ আগস্ট কাজী আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ