চট্টগ্রামে এনসিপির চমক কী, কেন এলেন না সাবেক মেয়র মনজুর
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ৪:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ৪:১০ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত
চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) বিভিন্ন দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ছিল। বিশেষ করে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন– এমন গুঞ্জন নানা মহলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার (৭ মে) অনুষ্ঠিত যোগদান অনুষ্ঠানে মনজুর আলমকে দেখা যায়নি।
মনজুর আলমকে এনসিপির চট্টগ্রামের ‘সবচেয়ে বড় চমক’ হিসেবে উপস্থাপন করার কথা ছিল এবং তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনাও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। ফলে বড় চমক দেওয়ার কথা থাকলেও দিতে পারেনি এনসিপি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পর এবার মনজুর আলমের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চায় এনসিপি। এমনকি আসছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তাকে প্রার্থীও করতে চায় দলটি।
বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর জামালখানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে এ বিশেষ যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং সঞ্চালনা করেন আরিফ মঈনুদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ ছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম সমন্বয়কারী মীর শোয়াইব। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে মনজুর আলমকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয় মূলত গত ১৪ এপ্রিলের এক বৈঠকের পর। ওইদিন নগরীর কাট্টলি এলাকায় মনজুর আলমের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। পরে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদও ব্যক্ত করেন দুই নেতা।
তখন থেকেই যোগদান ঘিরে আলোচনায় ছিলেন ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম। এনসিপি ঘিরে তাকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে কথাবার্তা চলছে।
ওই বৈঠকের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ওঠে যে, মনজুর আলম হয়তো এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন কিংবা ভবিষ্যতে দলটির হয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নিতে পারেন। তবে বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে তার অনুপস্থিতি সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির উদ্যোগে যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মনজুর আলমকেও যোগদান অনুষ্ঠানে আনতে দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে যোগাযোগ রাখা হয়। সেদিনের জন্য এটিকে ‘চমক’ হিসেবে রাখলেও শেষ পর্যন্ত তা ছিল না।
অনুষ্ঠানের আগের দিন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় জানিয়েছিলেন, ‘মনজুর আলমের সঙ্গে এনসিপির একটি ভালো সম্পর্ক রয়েছে। চট্টগ্রামের যোগদান অনুষ্ঠানে তাকে উপস্থিত করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এখনই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই না। এটাকে আমরা চমক হিসেবে রাখতে চাই।’
তবে অনুষ্ঠানে মনজুর আলমের না আসা প্রসঙ্গে রিদুয়ান হৃদয় বলেন, ‘দেশব্যাপী এনসিপিতে যোগদানের যে জোয়ার চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম মহানগরেও রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের প্রায় দেড় হাজার সাধারণ নাগরিক আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তবে সাবেক মেয়র মনজুর আলম এনসিপিতে যোগদান করবেন– এমন কথা এনসিপির পক্ষ থেকে কাউকে বলা হয়নি।’
রিদুয়ান হৃদয়ের দাবি, অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তি, সামাজিক কর্মী, কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া এলডিপি, আপ বাংলাদেশ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন এবং জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক নেতাকর্মীও নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম-সমন্বয়কারী জসিম উদ্দিন ওপেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাবেক মেয়র মনজুর আলম এনসিপিতে যোগদান করবেন কিংবা এনসিপির হয়ে তিনি মেয়র নির্বাচন করবেন, এ ধরনের কোনও আলোচনা আমাদের সঙ্গে হয়নি। এ নিয়ে যেসব কথা রটেছে, তা গুজব মাত্র।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার এনসিপিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অন্তত দেড় হাজার লোকজন যোগদান করেছেন। চট্টগ্রামের প্রতিটি থানা পর্যায়ে আরও অনেক মানুষ যোগদানের অপেক্ষায় আছেন। আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি থানায় যোগদান অনুষ্ঠান করবো। আগামী দিনে এনসিপি চট্টগ্রামে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
যোগদান অনুষ্ঠানে না যাওয়ার বিষয়ে মনজুর আলম বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, শরীরও ভালো যাচ্ছে না। তাই নতুন করে আর কোনও রাজনীতিতে জড়াতে চাই না।’
জনতার আওয়াজ/আ আ