চট্টগ্রামে গ্রাফিতি মোছা নিয়ে রাতভর উত্তেজনা, মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৩২, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে গ্রাফিতি মোছা নিয়ে রাতভর উত্তেজনা, মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ১৮, ২০২৬ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ১৮, ২০২৬ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মোছা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

এনসিপি নেতাকর্মীদের গ্রাফিতি অংকন কর্মসূচি, সিটি করপোরেশনের মেয়রকে দোষারোপ, অপরদিকে মেয়র শাহাদাতের পাল্টা বক্তব্যে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করে।

রবিবার (১৭ মে) রাত ৯টায় নগরীর টাইগারপাসে নগর ভবনের প্রবেশমুখ বন্ধ করে দেয় এনসিপির নেতা-কর্মীরা। এরপর প্রবেশমুখে তারা রংতুলিতে লেখে- ‘জুলাইয়ের গাদ্দার, হুঁশিয়ার সাবধান’। পরে তারা চসিকের প্রবেশমুখের সামনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে লেখে- ‘শাহাদাত ডাক্তার, জুলাইয়ের গাদ্দার’।

এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরীর সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন রবিবার রাতে খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমান মেয়র হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র। কিন্তু উনার ব্রেনের মেয়াদ চলে গেছে সেটা আমরা জানতাম না। সে কীভাবে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে লিখে দেয়, বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন। এটা নিশ্চিত সিটি করপোরেশন থেকে করা হয়েছে। উনি এর আগে আমাদের শহিদ শান্তকে নিয়ে অবমাননা করেছিলেন। আমাদের একের পর এক গ্রাফিতি মুছে দিচ্ছেন। বিপ্লব উদ্যান যেটা বিপ্লবের সূতিকাগার, সেটা দখল করে সেখানে একটি চারতলা মার্কেট করতেছেন। উনি মেয়র হবার পর থেকে শহরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। উনাকে দেখা যায়- যেখানে টাকা আছে সেখানে। উনার ব্রেনের মেয়াদ চলে গেছে। উনার চিকিৎসা করা দরকার। আমরা আবারও জুলাইয়ের গ্রাফিতি অংকন করব। মেয়রকে বলতে চাই, আপনার মেয়াদ শেষ, আপনি নির্বাচনটা দিয়ে চলে যান। হাসিনার মতো বসে থাকবেন না।’

এদিকে রবিবার রাতে পাল্টা বক্তব্যে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরাম আমারই একজন অনুসারী। সে যখন নগরীর মুরাদপুরে গিয়েছে, সেখান থেকে ছবি আপলোড করে আমাকে পাঠিয়েছে। সে যখন হাসপাতালে যাচ্ছে, সে সময় আমার বৃদ্ধ মাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, আমার বাসায় বোমা মারা হয়েছে। আমার ১৬টা গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর চাইতে বেশি সাফারার (ভোগান্তি) জুলাই-আগস্টে আর কেউ হয়নি। আজকে যারা মায়াকান্না দেখাতে আসছে, এটা আমার সাথে দেখাবেন না।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ গ্রাফিতি আমি আমার টাকায় করে দিয়েছি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের ছেলেরা আমার কাছে এসেছে। আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। রঙ এর জন্য টাকা দিয়েছি, লেখার জন্য টাকা দিয়েছি। এই দেয়ালগুলোতে প্রচুর পোস্টার ছিল, তাই গ্রাফিতিগুলো মুছে গিয়েছিল। আমি এগুলো নান্দনিক করে, আবার সুন্দর করে আর্ট কলেজের ছেলেদের দিয়ে আমরা ওই গ্রাফিতিগুলো আবার সংযোজন করার কথা বলেছি। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে এনসিপির ছেলেরা আমার সাথে দেখা করেছিল। তাদেরকে আমি বলেছি, এটা আর্ট কলেজের ছেলেদের দিয়ে নান্দনিকভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আমরা করে দেব। করপোরেশন টাকা না দিলে আমি আমার ব্যক্তিগতভাবে নিজের পকেট থেকে টাকা দেব। এটা বলার পর তারা (এনসিপি) সেখান থেকে হাসিমুখে বের হয়ে যায়।’

মেয়র বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিবৃতিও দিয়েছি। আমরা গ্রাফিতি মুছি নাই। পোস্টারের কারণে মুছে গেছে। আমরা তো নান্দনিকভাবে গ্রাফিতি করে দেওয়ার কথাও বলেছি। এর পরেও আজকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এনসিপির একজন বিতর্কিত নেতা আরিফ মঈনুদ্দিন আমার বিবৃতি দেখার পরেও ইচ্ছা করে গ্রাফিতি অংকনের প্রোগ্রামটা দিয়েছে এই শরটাকে অশান্ত করার জন্য। আমরা মনে করি সে এ ধরণের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই শহরকে উত্তপ্ত করতে চায়। রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করছে সে। সে এগুলো করে একটা ফায়দা লুটতে চায়। সে নির্বাচন করেছে, কত ভোট পেয়েছে সেটা জনগণ জানে। আমি বলতে চাই আমাদের ছাত্রদল, যুবদলের ছেলেরাই এই গ্রাফিতি অংকন করবে। আর্ট কলেজের ছেলেদের দিয়ে নান্দনিকভাবে গ্রাফিতি করে দেব। আমরা ওয়াসিম আকরামের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।’

এদিকে সোমবার (১৮ মে) সকালে নগরীর জিইসি মোড় হতে দেওয়ানহাট পর্যন্ত জনসমাবেশ ও মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

সিএমপি কমিশনার মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ মে হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জিইসি মোড় হতে দেওয়ানহাট পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও আশেপাশের এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ এর ৩০ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব স্থানে যে কোনো ধরণের জনসমাবেশ ও মিছিল-মিটিং ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ