রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুষ্ঠানিক অভিষেক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২২ ৯:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২২ ৯:৩১ অপরাহ্ণ

বৃহস্পতিবার রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে ব্রিটেনের নতুন রাজা হলেন তার বড় ছেলে তৃতীয় চার্লস। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে রাজধানী লন্ডনের সেন্ট জেমসেস প্যালেসে অ্যাকসেশন কাউন্সিলের বৈঠকের পর ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজা হিসেবে তৃতীয় চার্লসের অভিষেক হয়।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসি’র মতে, ব্রিটেনের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ক্যান্টারবুরির আর্চ বিশপ, বিচারক, সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে অ্যাকসেশন কাউন্সিল গঠিত। সেন্ট জেমসেস প্রাসাদ সার্বভৌম রাজার সরকারি বাসভবন হিসেবে ঘোষিত।
তৃতীয় চার্লসকে রাজা ঘোষণার আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের নেতা পেনি মর্ডান্ট রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু ঘোষণা করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সময় তার পাশে স্ত্রী কুইন কনসোর্ট খ্যাত ক্যামিলা ও বড় ছেলে প্রিন্স উইলিয়ামও উপস্থিত ছিলেন। এসময় সেন্ট জেমসেস প্রাসাদে থ্রোন কক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, থেরেসা মে, ডেভিড ক্যামেরন, গর্ডন ব্রাউন, টনি ব্লেয়ার এবং জন মেজরসহ প্রিভি কাউন্সিলের অন্তত ২০০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
রাজা তৃতীয় চার্লসের পরে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবেন প্রিন্স উইলিয়াম। বর্তমানে তিনি ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ নামেই পরিচিত হবেন।
প্রাসাদের বাইরে সমবেত মানুষেরাও ‘ঈশ্বর রাজাকে রক্ষা করুন’ আর্শীবাণী গেয়ে ওঠেন। ট্রাম্পেটের তুর্যনিনাদের সঙ্গে লন্ডনের হাইড পার্ক ও টাওয়ার অব লন্ডন থেকে তোপধ্বনি করে নতুন রাজাকে স্বাগত জানানো হয়। রাজার তৃতীয় চার্লস অ্যাকসেশন কাউন্সিলে রানিকে শ্রদ্ধা জানান। ব্যক্তিগত ঘোষণায় রাজা চার্লস বলেছেন, আমার উপর যে গুরু দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তার জন্য আমি এখন আমার বাকি জীবন উৎসর্গ করছি। আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের নির্দেশনা ও সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করছি।
ঘোষণায় ব্রিটেনের নতুন এই রাজা বলেন, তার মায়ের মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার এই কাজ জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক এক দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমি জানি আপনারা, সমগ্র জাতি এবং আমার মনে হয় আমি সমগ্র বিশ্বকে বলতে পারি, আমরা সবাই যে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তাতে আপনারা আমার প্রতি কতটা গভীরভাবে সহানুভূতিশীল।
‘আমার বোন এবং ভাইদের প্রতি এতো মানুষ সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, যা আমার জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনার।’
ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানটি এর আগে কখনো ক্যামেরায় দেখানো হয়নি। ১৯৫২ সালে রানির বাবার মৃত্যুর পর সর্বশেষ এই কার্যক্রমটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এবার রাজা তৃতীয় চার্লসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অ্যাকসেশন কাউন্সিলে কার্যক্রম প্রথমবারে মতো টেলিভিশনের মাধ্যমে জনগণ দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়।
প্রথমে মৃত রানির জন্য পতাকাগুলো অর্ধনমিত অবস্থায় থাকলেও নতুন রাজার সম্মানে সেগুলো পুরোপুরি উত্তোলন করা হয়। এরপর রোববার পর্যন্ত যুক্তরাজ্যজুড়ে তৃতীয় চার্লসের রাজা হওয়ার ঘোষণা প্রচার করা হবে, তারপর পতাকাগুলো ফের অর্ধনমিত হবে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস ও পার্লামেন্টের সিনিয়র সদস্যরা রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুগত্যের জন্য নতুন করে শপথ নিয়েছেন। কমন্সের স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েল ও দীর্ঘ সময়ের এমপি স্যার পিটার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন কার্যপ্রণালীর উদ্বোধন করেন। যদিও সময়ের স্বল্পতার কারণে মাত্র কয়েকজন এমপি এই শপথ গ্রহণ করেছেন।
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে দ্বিতীয় দিনের মতো পার্লামেন্টের এমপিরা একত্রিত হলে রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুগত্য স্বীকারের শপথ নেন।
এসম প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস শপথ বাক্য পাঠ করেন, ‘আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের শপথ করে বলছি, আমি বিশ্বস্ততার সাথে আইন স্বীকৃত মহামতি রাজা (তৃতীয়) চার্লস ও তার উত্তরাধিকারীদের আনুগত্য স্বীকার করছি, মহান ঈশ্বর আনুগত্য পালনে আমার সহায় হোন।’
রানির শেষকৃত্য ও জাতীয় শোকের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিই শেষবারের মতো পার্লামেন্ট অধিবেশন।
৭৩ বছর বয়সী চার্লস ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের যুবরাজ হন। মায়ের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চার্লসকে অনুষ্ঠানিকভাবে রাজা ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন সিংহাসনে অধিষ্ঠিত থাকার পর বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকালে ৯৬ বছর বয়সে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ