বাংলাদেশে ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৩৩, শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬ ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬ ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

 

ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন, ১৭ জুন ২০২৬।

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো রেলপথ। সড়ক পরিবহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে দেশের মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই যানজট, দুর্ঘটনা এবং সময় অপচয়ের ঘটনা ঘটে। অথচ নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন হিসেবে রেলব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে এখনো রেলসেবার পরিধি ও মান জনসাধারণের চাহিদার তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

বর্তমানে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে প্রতিদিন মাত্র দুটি বা তিনটি ট্রেন চলাচল করে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং টিকিট পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। তদুপরি, বেশ কিছু রুটে এখনো পুরোনো ও সেকেলে কোচ ব্যবহৃত হচ্ছে, যা আধুনিক যাত্রীসেবার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল বহু দেশে যেখানে দ্রুতগতির, আরামদায়ক এবং নির্ভরযোগ্য ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় বা নির্দিষ্ট বিরতিতে চলাচল করে, সেখানে বাংলাদেশের রেলব্যবস্থা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেল যোগাযোগকে জাতীয় উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইউরোপ, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে আধুনিক রেল নেটওয়ার্ক মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে। এসব দেশে রাজধানী থেকে বিভিন্ন শহরে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ট্রেন ছেড়ে যায়, ফলে যাত্রীরা সহজেই নিজেদের যাতায়াত পরিকল্পনা করতে পারেন। এতে সড়কপথের চাপ কমে, জ্বালানি সাশ্রয় হয় এবং পরিবেশ দূষণও হ্রাস পায়।

বাংলাদেশেও রেলপথ সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন রেললাইন নির্মাণ, সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক কোচ সংযোজন এবং ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে দেশের জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং যাত্রী চাহিদার তুলনায় এসব উদ্যোগ এখনো যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে জেলা শহরগুলোর সঙ্গে রাজধানীর নিয়মিত ও ঘন ঘন ট্রেন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা কোনো অসাধ্য কাজ নয়। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিয়মিত বিরতিতে আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা গেলে পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রেলব্যবস্থার উন্নয়ন কেবল যাত্রীসেবা বৃদ্ধির বিষয় নয়; এটি একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি আধুনিক, সময়নিষ্ঠ ও বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্ক দেশের আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আমরা আশা করবো, সরকার জনস্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। দেশের প্রতিটি জেলা শহরের সঙ্গে রাজধানীর দ্রুত, আধুনিক এবং নিয়মিত রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। জনগণের প্রত্যাশা—বাংলাদেশের রেলব্যবস্থা একদিন এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে নিরাপদ, আরামদায়ক ও সময়নিষ্ঠ ট্রেনসেবা দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সহজলভ্য হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ