কুটনীতির অন্তরালে বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের আগ্রাসননীতি!!! - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৩৪, শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কুটনীতির অন্তরালে বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের আগ্রাসননীতি!!!

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬ ২:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬ ২:৩৬ অপরাহ্ণ

 

নজরুল ইসলাম চৌধুরী

সম্প্রতি ভারতের দীনেশ ত্রিবেদী কুটনীতির অন্তরালে আগ্রাসননীতি মুলক আচরন একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশের জন্য খুবেই ভয়ানক আগ্রাসন বলে আমি মনর করি। এমন নিন্দনীয় আগ্রাসননীতির কারনে দেশের ২০ কোঠি মানুষ হৃদয়ে অসহনীয় রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বিশেষ ট্রেনিং নিয়ে নিজের জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে দীর্ঘ আট মাস একজন গ্যারিলা সোর্সের গুরু দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তখন আমি ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র । সেই সময় গুলোতে আমার বড়বোন জনাবা ফেরদৌস আরা বেগম চৌধুরানী (ওরফে মিনা) আপার অবদান ছিল আমার চাইতে বেশি। তিনি তখন নবম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছিলেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের একজন কিশোর গ্যারিলা মুক্তিযুদ্ধাদের সোর্সের অধিকারী হিসাবে দেশের কোঠি কোঠি মানুষের মত আমার হৃদয়ের গভীরে অসহনীয় রক্তক্ষরণের অনুভূতি নিযে সম্প্রতি ভারতের হাই কমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদীর আগ্রাশনমূলক বক্তব্য নিয়ে আমার একান্ত নিজস্ব অভিমত তুলে ধরার মনস্থ করেছি।
শুরুতেই বাংলাদেশের বিদ্রোহী ও জাতিয় কবি নজরুল ইসলামের রচিত বিদ্রোহী কবিতার মনে পড়ে গেল। বাংলাদেশের সুনামধন্য অভিনেতা প্রয়াত গোলাম মোস্তাফার আবৃত্তি করা সেই বিদ্রোহী কবিতা উল্লেখ করতে চাই —————–
————সেই বিদ্রোহী কবিতা ————-
রক্তচোখে জ্বলসে যাওয়া আমার বছর গুলো।
আজকে যখন হাতের মুঠোয় কন্ঠনালির খুন পিয়সির ছুরি।
কাজকি তোমার বুকের কাছে আগলে রেখে কাউকে সাঁপের ঝাঁপি!
আমার হাতে নিলাম আমার নির্ভরতার চাবি ;
তুমি আমার আমার আকাস থেকে সড়াও তোমারর ছায়া
তুমি বাংলা ছাড়ো।
অনেক মাপে, অনেক জুতোর দামে, তোমার হাতে দিয়েছি ফুল হৃদয় — সুরভীতে।
সে – ফুল খুঁজে পায়নি তোমার চিত্ত রসের ছোঁয়া ,
পেয়েছি শুধু কঠিন জুতোর তলা।
আজকে যখন তাদের স্মৃতি অসম্মনের বিষে তিক্ত প্রানের শাপদ মুখের জ্বালা ,
কাজ কি চোখের প্রসন্নতার লুকিয়ে রাখে প্রতের অট্টহাসি !
আমার কাঁধেই তুলে নিলাম আমার যত বোঝা।
তুমি আমার বাতাস থেকে মুচো তোমার ধুলো, তমি বাংলা ছাড়।
একাগ্রতার স্বপ্ন বিনিময়ে মেঘ চেয়েছে ভিজিয়ে দিতে যখন পোড়া মাটি ,
বারে বারেই তোমার খড়া আমার খেতে বসিয়ে গেছে ঘাঁটি।
আমার প্রতি , তোমার প্রতারনা , যোগ – বিয়োগে মিলিয়ে নিলে তোমার লাভের জটিল অংক গুলো ,
আমার কেবল হাঁড় জুড়ালো হতাশ্যাসের ধুলো।
আজকে যখন খুঁড়তে গিয়ে নিজের কবর খানা ,
আপন খুলির কোদাল দেখি সর্বনাশা বজ্র দিয়ে গড়া ,
কাজ কি দ্বিধায় বিষন্নতায় বন্ধী রেখে ঘৃনার অগ্নিগিরি।
আমার বুকেই ফিরিয়ে নেব ক্ষিপ্ত বাজের থাবা ;
তুমি আমার জল – স্থলের মাদুর থেকে নামো ,
তুমি বাংলা ছাড়ো।
দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলবদলকারী রাজনীতিক। কুটনৈতিক অংগনে ত্রিবেদীর বিন্দু বিষর্গ সংস্পর্শ নেই। তার পরেও ভারত সরকার তাকে পাঠিয়েছে তাদের তৈরী করা এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির নিকট পরিচয়পত্র হস্তান্তর করার পুর্বেই দীনেশ ত্রিবেদী বেনাপোল সীমান্ত অতিক্রম করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে যে জানান দিয়েছেন তা জেনেভা কনভেনশনের নিয়ম নীতি লংঘন করার শামিল।
দীনেশ ত্রিবেদী বেনাপোল সীমান্তে কর্মরত সাংবাদিকদের বলেছেন — আমার দেশের পপুলেশন ১৪০ কোঠি, তার সাথে আমি ২০ কোঠি এ্যড করে বলবো ১৬০ কোঠি। ত্রিবেদী আরো বরেছেন ” আমি এখানে যা করতে চাই সব একসংগে , আমি আলাদা ভাবে ভাবছি না। দেখেলে না আমি পায়ে হেঁটেই চলে এসেছি। আমার কাচে মনে হচ্ছে আমি ভারতেই আছি। আমরা মিলেমিশে কি করব তা আমার মাথায় আছে। আমি শুধু বলতে চাই – ” সবাই খুশি হবে ঐ কাজটা করলে “। ঐ মহুর্তে বেনাপোল সীমান্তের সাংবাদিক বকুল মাহমুদ ত্রিবেদীর কুটনৈতিক শিষ্ঠাচার লংঘনে কোন প্রকার প্রশ্ন না করে সাংবাদিক বকুল মাহমুদ চাটুকারিতা আর দাসত্বের আংগিনা থেকে আকতি মিনতি করে বলেছিল , আমরা ছোট রাষ্ট্র , আমাদের কে আপনারা লালন পালন করবেন “। আমার প্রশ্ন সেই সাংবাদিক কি এখনো তার স্বপদে বহাল আছেন?
দীনেশ ত্রিবেদীর এমন আগ্রাসনী মনভাবের প্রতিবাদ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কঠিন কোন ভুমিকা আমার দৃষ্টি গোচরে আসেনি। যা আমাকে খুবেই ভাবিয়ে তুলেছে। হাঁ এ প্রসংগে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ইনিয়ে বিনিয়ে বলেছেন দীনেশ ত্রিবেদীর এমন বক্তব্য দেয়া উচিত হয় নি। যা মোটেই সমর্থন যোগ্য নয়। বলা বাহুল্য – পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী তথ্য মন্ত্রনালয় থেকে বক্তব্য সমুচিন নয়।
দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে ডুকার সাথে সাথে যে কুটনৈতিক শিষ্টাচারী আচরন কিম্বা আগ্রাসী ভুমিকায় অবতীর্ন হযেছর তা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য শুধুই আগ্রাসী নয় , আক্রমনাত্মক।
বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের আগত নয়া রাষ্ট্রদূত আমার দেশের রাষ্ট্রপ্রদানের নিকট তার নিয়োগ পত্র প্রদান করার পুর্বে এমন ভয়ংকরী আগ্রাসী ভুসিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের কঠিন এবং কঠোর হুশিয়ারির পাশাপাশি দেশের দলমত নির্বিশেষে জাতিগত ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতের এমন আগ্রাসনমূলক আচরনের প্রতিবাদের ঝড় ফুঁসে উটবে এটাই আমার কাম্য ছিল। বিশেষ করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে দেশের লক্ষ লক্ষ জনাতাকে একিভুত করে ভারতিয় হাই কমিশন অফিসে অবস্থান নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী কে বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করবে।
আমি আশাকরি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার মন্ত্রনালয় থেকে ভারতের পাঠানো কুটনৈতিক প্রতিনিধি দীনেশ ত্রিবেদী কে কুটনৈতিক মেধা আর প্রজ্ঞা দিয়ে রাষ্ট্রপতির নিকট তার পরিচয়পত্র প্রদানের পুর্বে তাকে বাংলাদেশ ত্যাগের যথাযথ পদক্ষেপ নিবে।
যদি তা না করা হয় তা হলে বিদ্রোহী ও বাংলাদেশের প্রয়াত কবি কাজি নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার পংক্তি থেকে দেশের মহান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব প্রেমী আমজনাতা আর বীর মুক্তিযোদ্ধারা সমস্বরে বলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না —–
—— ” তুমি আমার বাতাস থেকে মুচো তোমার ধুলো —- কাজ কি দ্বিধায় বিষন্নতায় বন্ধী রেখে ঘৃনার অগ্নিগিরি , আমার বুকে ফিরিয়ে নেব ক্ষিপ্ত বাজের থাবা , তুমি আমার জলস্থলের মাদুর থেকে নামো , তুমি বাংলা ছাড়ো।
নজরুল ইসলাম চৌধুরী
কলামিস্ট , রাজনীতি ও সাংগঠনিক বিশ্লেষক।
সাবেক সভাপতি , ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ