তারা এখন এনসিপির সমালোচক - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:১৯, শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তারা এখন এনসিপির সমালোচক

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬ ২:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬ ২:১৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন অব ফার্স্ট ক্লাস অ্যান্ড সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেনস অব এনসিপি (এনসিপির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকদের দৃশ্যমান উপস্থাপন)। ‘ব্যাটাগিরি মুর্দাবাদ’। ১১ দলীয় জোটের একটি ছবি শেয়ার করে ফেসবুকে তিনি লেখেন: এনসিপি এখন সেই পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। যদিও দলের শুরুর দিকে যে আদর্শিক অবস্থান ও প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে পরিস্থিতি সেদিকে পুরোপুরি এগোয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও চাপের কারণে দলের ভেতরেও পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক দল সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তন যেন বাহ্যিক চাপের কারণে না হয়ে নিজস্ব আদর্শ ও চিন্তার ভিত্তিতে হয়–এটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল।

নারীদের বিষয়ে জোটের ভেতরে একটি বিরূপ মনোভাব রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে এনসিপির নেতারা জোটের সংশ্লিষ্টদের কাছে নিজেদের অবস্থানও জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এনসিপির নারী নেত্রীরা রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সমাবেশে অংশ নেবেন। যদিও জোটের কর্মকাণ্ডে তার পরিবর্তন আসেনি।

কারণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে মৃদু ভাষায় আপত্তি জানালে হবে না। প্রয়োজন হলে আরও দৃঢ় ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া দরকার। আবার কড়া ভাষায় বলতে গেলেও নানা বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপি

সামনের সারির একটি আসনের বিনিময়ে সেই সব নীতি বিকিয়ে দিলেন, যা একসময় আমাদের বিশ্বাস করতে বলেছিলেন।
একটি আসন যেমন একদিনে দেওয়া যায়, তেমনই একদিনে কেড়েও নেওয়া যায়। কিন্তু আদর্শই একমাত্র জিনিস, যা কেউ দিতে পারে না আর কেউ কেড়েও নিতে পারে না; যদি না নিজেই তা হাতছাড়া করেন।
সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব, এনসিপি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আদর্শ ও চিন্তাধারার দল রয়েছে। সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আদর্শ, মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দলগুলোর সঙ্গেই জোট গড়ে তোলে। এনসিপি বর্তমানে যে দলগুলোর সঙ্গে জোটে রয়েছে, তাদের অধিকাংশই ডানপন্থি রাজনৈতিক ধারার। এটিও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে একটি বার্তা দেয়।

১১ দলীয় জোটের প্রধান শক্তি জামায়াতে ইসলামী। কোন অনুষ্ঠান কীভাবে পরিচালনা হবে–তা জামায়াতই ডিজাইন করে দেয়, যেমনটা বিএনপি জোটে বিএনপি করে। নারীদের ভূমিকা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে জামায়াতের বা ইসলামী দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি নতুন কিছু নয়। তাই গত মঙ্গলবার জোটের সমাবেশে নারী অংশগ্রহণকারীদের বসার ব্যবস্থা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। এসবের মাধ্যমে জোটের ভেতরে নারীদের গুরুত্ব কতটা সে সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দেয়। এর আগেও নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির এক নারী নেত্রীর উপস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের কটাক্ষ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছিল।

এনসিপি এখনো সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। ফলে দলটিকে জোটনির্ভর রাজনীতির পথেই এগোতে হচ্ছে। তবে নিজেদের মধ্যমপন্থি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে যে পরিচয় দলটি তুলে ধরতে চায়, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এনসিপিকে সমর্থন করা কঠিন, কারণ যে ধারণা থেকে আমরা পদত্যাগ করেছি, তা এখন স্পষ্ট হচ্ছে।

মধ্যমপন্থি ও গণতন্ত্র এবং সমঅধিকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা থেকে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হওয়া অনেকেই ইতোমধ্যে দল ছেড়েছেন। যারা এখনো দলে থেকে এনসিপির স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান এবং মধ্যমপন্থি হওয়ার প্রত্যাশা করছেন–তাদের জন্যও গত মঙ্গলবারের সমাবেশ বার্তা দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ও সাবেক মিডিয়া সেল সম্পাদক, এনসিপি

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ