গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনের নানা ঘটনার পর এ নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ইসি - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:৫৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনের নানা ঘটনার পর এ নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২২ ১:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২২ ১:১৯ অপরাহ্ণ

 

সাধারণ মানুষের খুব বেশি আগ্রহ না থাকলেও জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতির শেষ নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। গাইবান্ধার ভোট বন্ধের রেশ কাটতে না কাটতে সোমবার এই স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেজন্য সতর্ক রয়েছে ইসি।

প্রতি কেন্দ্রে সাতজন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। অন্যদিকে ভোটের আগে পরে ৪৮ ঘণ্টা ভোট কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরায় মনিটরিং করা হবে।

ভোটের সার্বিক নিরাপত্তায় থাকছে কয়েক প্লাটুন বিজিবি, কোস্টা গার্ড, র‌্যাব-এর মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এরমধ্যেই শেষ হয়েছে জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে এ প্রচারণা শেষ হয়।

এদিকে নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনের নানা ঘটনার পর এ নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর জানিয়েছেন, কোনও জেলায় যাতে স্থানীয় এমপি, মন্ত্রী বা প্রভাবশালী কোনও ব্যক্তি ভূমিকা রাখতে না পারে সেজন্য এরমধ্যেই তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন থেকে একাধিক নির্দেশনা দিয়ে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে।

ভোটকক্ষের গোপনীয়তা রক্ষা নিশ্চিতকরণ ও ভোট কক্ষে ভোটাররা যাতে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে প্রিজাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

৬১ জেলা পরিষদের তফসিল ঘোষণা করা হলেও সোমবার (১৭ অক্টোবর) দেশের ৫৭টি জেলায় একযোগে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্দলীয় এ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে। এরইমধ্যে নির্বচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার অধীনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই কেবল এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

তিনটি পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও দুটি জেলা ভোলা ও ফেনীতে সব পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় সেখানে ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না।

এছাড়া দুই জেলা নোয়াখালী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাচন আদালতের নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছে। আদালতের রায়ে স্থগিত নোয়াখালী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৭ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়াও সাধারণ সদস্য পদে ৬৯ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

ইসির তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনে, ৩৪টি জেলা পরিষদে মোট ৯০ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অপরদিকে সংরক্ষিত সদস্য পদপ্রার্থী ৬২০ জন আর সাধারণ পদে মোট প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৫০৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব মিলিয়ে তিন পদে মোট দুই হাজার ১২৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অবশ্য স্থগিত হওয়া এলাকা বাদ দেওয়া হলে এই সংখ্যা আরও কম হবে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৯৪ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা ভোটের আগে পরে তারা মোট ৫ দিন দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার ৬৩ হাজার ১৫৯ জন। এর মধ্যে নারী ১৪ হাজার ৯২৩ ও পুরুষ ৪৮ হাজার ২৩৬ জন। দেশের ৬১টি জেলার স্থানীয় সরকারের ৪টি প্রতিষ্ঠানের (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তথ্যের ভিত্তিতে এ ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদ ৪৬৩টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য পদ ১৭২টি। চেয়ারম্যান পদ রয়েছে ৬১টি। ৪৭৭টি ভোটকেন্দ্রের ৯৫৫টি ভোটকক্ষে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ