বিএনপি’রজাতীয় স্থায়ীকমিটির ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত সমূহ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৭:১০, রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপি’র
জাতীয় স্থায়ীকমিটির ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত সমূহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ১, ২০২২ ৫:৪১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ১, ২০২২ ৫:৪১ অপরাহ্ণ

 

গত ৩১ অক্টোবর ২০২২ তারিখ, সোমবার, রাত ৮.০০ টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এর জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য যথাক্রমে—
১. ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
২. বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
৩. ড. আব্দুল মঈন খান
৪. জনাব নজরুল ইসলাম খান
৫. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
৬. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
৭. বেগম সেলিমা রহমান
৮. জনাব ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
সভায় আলোচ্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নিন্মে বর্ণিত সিদ্ধান্ত সমূহ গৃহীত হয়।
১। সভায় বিগত ২৪ অক্টোবর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ পঠিত ও অনুমোদিত হয়।
২। সভার শুরুতে মাননীয় চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাবেক সচিব ও সাবেক রাষ্ট্রদূত জনাব সাবিহ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
৩। সভায়, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানসহ দলের প্রায় ৩৫ লক্ষ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অনির্বাচিত সরকারের পদত্যাগের দাবীতে, জ¦ালানী ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যদির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং বিক্ষোভ মিছিলে ৪ জনকে পুলিশের গুলিতে হত্যা ও ১ জনকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে হত্যার প্রতিবাদে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় গণ-সমাবেশ গুলোতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশ গ্রহণের জন্য সেই সব বিভাগের জনগণকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে এই সকল সমাবেশ সফল করার লক্ষে বিএনপি’র সকল স্তরের নেতা-কর্মী যে অক্লান্ত শ্রম ও মেধা প্রয়োগ করে সম্মেলন গুলোকে সফল করেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়।
৪। সভায়, বিভাগীয় গণ-সমাবেশ গুলোতে বাধা প্রদান করার জন্য আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা ও নেতা-কর্মীদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ এবং পুলিশের কতিপয় অতি উৎসাহী সদস্যের শক্তি প্রয়োগ, নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা প্রদানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিশেষ করে যাত্রাপথে বাধা, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ কর্মজীবী মানুষের মেস, হোস্টেল ত্যাগে বাধ্য করা, বিভিন্ন নিপীড়ন মূলক অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। উপরন্ত বাস মালিক ও শ্রমিকদের দিয়ে বিনা কারনে সমাবেশের দুই দিন পূর্বে পরিবহণ ধর্মঘট পালন করায় জন-জীবনে যে অসহনীয় দূর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
সভা মনে করে, এই অনির্বাচিত সরকার অবৈধ ভাবে ক্ষমতাকে রাখার লক্ষে জনগণের সংবিধান সম্মত সভা, সমাবেশ পন্ড করার উদ্দেশ্যে এই অনৈতিক, অসাংবিধানিক পথ বেছে নিয়েছে। এটা সুস্পষ্ট ভাবে মানবাধিকার ও সংবিধান লংঘন। এই অনৈতিক অসাংবিধানিক কর্মকান্ড থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সরে এসে জনগণের সংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় এর দায়-দায়িত্ব সরকারকে বহণ করতে হবে।
৫। সভায়, সম্প্রতি গণ-মাধ্যমে প্রকাশিত অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর উক্তি ‘সামনের বছর দূর্ভিক্ষ হতে পারে’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় মনে করে এই উক্তিতে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে সরকার আপদকালীন খাদ্য মজুদ করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য শষ্য আমদানী গত চার মাসে প্রায় ৩৭ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভা মনে করে সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদপ্তরের নজীর বিহীন দূর্নীতি, উদাসীনতা ও অযোগ্যতার কারনে খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির সম্মুখীন। একই সঙ্গে দূর্নীতির কারনে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে ব্যয়ের ফলে ডলার সংকটের কারনে আমদানীর জন্য এলসি খুলতে না পারা আমদানীকে ব্যাহত করছে। ডলার সংকট সৃষ্টির জন্য সম্পূর্ণভাবে সরকারের দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হয়। রিজার্ভ থেকে অনৈতিক ভাবে ডলার সরিয়ে নেওয়া, প্রবাসীদের আয় বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশ থেকে বিদেশে হুন্ডি করে, প্রতি বৎসর প্রায় ৭/৮ বিলিয়ন পাচার করে এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে ফেলেছে।
সভায় গ্যাসের অভাবে সার কারখানা বন্ধ করে সারের মূল্য বৃদ্ধি, বীজের মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও ডিজেলের অভাবে সেচ কার্য ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যশষ্য উৎপাদন ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কৃষকেরা ধানসহ খাদ্যশষ্য উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এসবের মূল কারন হচ্ছে সরকারের দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা। সব মিলিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।
সভায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য এই অবৈধ সরকারকে দায়ী করা হয় এবং সংকটময় পরিস্থিতির সকল দায় নিয়ে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়।
৬। সভায়, সারাদেশে জ্বালানীর অভাবে প্রায় ৩৮.৭২ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর অচল হওয়া এবং প্রায় ৫০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর না থাকায় নিরবিচ্ছিন্ন লোডশেডিং এ স্বাস্থ্যসেবা চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জনগণের দূর্ভোগ চরমে পৌছেছে। সভা মনে করে, দূর্নীতি, অযোগ্যতা ও অব্যবস্থাপনা সমগ্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে ফেলেছে। সরকারী হাসপাতল গুলো দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতে চিকিৎসকের অভাবে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেনা গ্রামীণ জনগণ। বেসরকারী হাসপাতালে অতিরিক্ত ব্যয় ও অব্যবস্থাপনা স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। সারা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে এর দায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগ দাবী করা হয়।
৭। সভায় সম্প্রতি, অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ‘বিএনপি’র দশা হেফাজতের মতো হবে’ উক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। সভা মনে করে এই উক্তি, উদ্দেশ্য মূলকভাবে বিরোধী দলের সংবিধান সম্মত গণতান্ত্রিক কর্মসূচী গুলোকে বাধা গ্রস্থ করবার হুমকি।
সভা মনে করে ৫ মে ২০১৩ তাহলে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে এই নিপীড়নকারী কর্তৃত্ববাদী, একনায়কতান্ত্রিক ফ্যসীবাদী সরকার যেভাবে অসংখ্য আলেম ওলেমা ও মাদ্রাসার কিশোর ছাত্রদের হত্যা করেছে এবং পরবর্তীতে অসংখ্য হয়রানীমূলক মামলা দিয়ে অনেককে এখনও কারাগারে আটক রেখেছে এটা তারই স্বীকারোক্তি। এই ভয়াবহ হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার সংস্থা গুলোর কর্মকর্তাদের হয়রানি, মিথ্যা মামলা এবং নিবন্ধণ বাতিল করা হয়েছে। ইতিপূর্বেও বিএনপি এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ও প্রতিবাদ করেছে। শেখ হাসিনার এই উক্তির কারনে দেশে পুনরায় আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের আইন সম্মত কর্মসূচী বানচাল করার চক্রান্ত বলে প্রতীয়মান হয়।
বিএনপি হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর নির্মম হামলা ও হত্যাকান্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বেও দাবী করেছে এবং পুনরায় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী করছে। সভা এই অনির্বাচিত সরকারকে জনগণের সংবিধান সম্মত সকল কর্মসূচীতে কোন বাধা প্রদান না করার আহ্বান জানায়। অন্যথায় সকল দায় দায়িত্ব সরকারকে গ্রহণ করতে হবে।
৮। সভায়, বিস্তারিত আলোচনা শেষে সভাপতি উপস্থিত সদস্যবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ