আগামী ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ হবেই হবে: খসরু - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৪৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আগামী ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ হবেই হবে: খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০২২ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০২২ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

 

সরকারকে এবং পুলিশ বাহিনীকে হুঁশিয়ার দিয়ে বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস‌্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব‌লে‌ন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্দোলনে সরকার যেন তার পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে অন্যায় ভাবে কোনো বাধা প্রাপ্ত না করে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশ যে সমাবেশ গুলো করেছে এগুলো তাদের সাংবিধানিক অধিকার। সুতরাং ঢাকা শহরে ১০ তারিখে সমাবেশ হবেই হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হচ্ছে আমার সাংবিধানিক অধিকারকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তারা বিএনপি ও দেশের জনগণকে সুরক্ষা দিবে।’

শুক্রবার (২৫ ন‌ভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে জিয়া পরিষদ এর উদ্যোগে, ‘বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশ নায়ক তারেক রহমান এর ৫৮ তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশ নায়ক তারেক রহমান-এর ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘তারেক রহমান আগামী দিনের ভাবনার মূল ভিত্তি হল, তার বাবা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং তার মা খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে, বাংলাদেশকে নতুন করে গঠন করা। তন্মধ্যে বিভিন্ন প্রাকৃতিক টর্নেডো করোনা পরিস্থিতি এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্ব পরিস্থিতি যেমন উলট-পালট হয়ে গেছে, তেমনি করে রাজনীতিতে ও পরিবর্তন ঘটিয়ে সকল পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করে দেশকে নতুন করে গঠন করার ভাবনা তারেক রহমানের মাথায় রয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে জাতীয় সরকারের ঘোষণা দিয়েছেন, রাষ্ট্রের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইতিমধ্যে দেশের গণতন্ত্রকে আমি মানুষ একটি ধারার দিকে অতিবাহিত হচ্ছে।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘বিএনপি সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে যে, গর্তের মধ্যে ফেলে দিয়েছে , সেটাকে শুধু চেঞ্জ না তারেক রহমান রূপান্তর করতে চায়। এ সরকার শুধু বিএনপিকে দোষারোপ করে যে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশীদের কাছে তদবির করে, তাহলে বিদেশীরা তাদের কূটনৈতিক অফিস বানায় কূটনৈতিকদের বসিয়ে রেখেছে তাদের কোনো দায়িত্ব নাই? এদেশে কি হয় সরকার কি করে এগুলা কূটনৈতিকরা যার যার দেশে সরকারকে জানানোটাই তাদের দায়িত্ব। এই জিনিসটা সরকারের মাথায় আছে বলে আমি মনে করি না।’

তি‌নি আরও ব‌লেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের কোন নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে চাই না। কারণ জবাব দিতে হলে যে জায়গায় নেমে জবাব দিতে হবে সেই জায়গায় আমি নামতে পারব না। আমি শুধু একটি কথা বলতে চাই। বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল এই দলের জনগণের পক্ষে কাজ করা জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে আন্দোলন করা এটি একটি রাজনৈতিক দলের জন্য সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তাই সরকারকে এবং সরকারের পুলিশ বাহিনীকে হুঁশিয়ার দিয়ে বলতে চাই যে, আগামী ১০ ডিসেম্বর এর আন্দোলনে সরকার যেন তার এই পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে অন্যায় ভাবে কোন বাধা প্রাপ্ত না করে।’

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘তারেক রহমান এমনই একজন নেতা যে, তিনি মাঠ পর্যায় থেকে রাজনীতি করে এ পর্যায়ে এসেছেন, তারেক রহমানের বাবা শহীদ জিয়াউর রহমান মাত্র ১২ বছরের মধ্যে তিনি চাকরি করেছেন, যুদ্ধ করেছেন এবং দেশ স্বাধীন করে দেশকে নতুন করে গঠন করেছেন এবং দেশে গণতন্ত্রপূর্ণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আর সেই মহা বীরের ছেলে হল জনাব তারেক রহমান। তিনি হাজার হাজার মাইল দূর থেকে একটি রাজনৈতিক দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মণি কোঠায় পৌঁছে গেছে। যার নাম শুনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের এই মুহূর্তে বাঁচার একটি পথ রয়েছে সেটি হল তাদেরকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে হবে ।এছাড়া আন্দোলন সংগ্রামে দেশের যত ক্ষতি হবে তা এই সরকারের মাথায় দায় নিতে হবে। এ ছাড়া আর কোন ভালো পথ আমরা এ সরকারের জন্য দেখতে পাচ্ছি না।’

এ সময় জিয়া পরিষদের মহাসচিব ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘এ ফ্যাসিস সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় বসে থেকে আমাদেরকে বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষতি করতে করতে ক্যান্সারের রূপান্তরিত করেছে। তাই এর ক্ষতি থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপি যে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে এ সমাবেশের সামনে সারিতে থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে হবে। এবং এই ফ্যাসিজ সরকারকে ক্ষমতা থেকে পতন ঘটাতে হবে।’

এ সময় সংগঠনের সভাপতি বলেন, ‘এ সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের নেত্রীকে জেলে ঢুকিয়ে রেখেছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে বিদেশে পাঠিয়ে আমাদের থেকে অনেক দূরে রেখেছে, তাই আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এবং তারেক রহমানকে, মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। দেশের সকল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামী ১০ ডিসেম্বর এ ফ্যাসিস সরকারকে দেখিয়ে দিতে হবে।’

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. আবদুল কুদ্দুস সভাপ‌তি‌ত্বে আরও বক্তব‌্য রা‌খেন বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম‌্যান শামসুজ্জামান দুদু , জিয়া পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফসর ড. লুৎফর রহমান, মহাসচিব প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহিল মাসুদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (উত্তর) বিএনপি সাইফুর রহমান মিহির, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী প্রফেসর ড.কামরুল আহাসান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল আলম, ড.আকতার হোসেনসহ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ