বিএনপির গণমিছিলের কর্মসূচিকে কোনো ছাড় দেবে না আ'লীগ - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:০৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপির গণমিছিলের কর্মসূচিকে কোনো ছাড় দেবে না আ’লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২২ ৪:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২২ ৪:১৯ অপরাহ্ণ

 

আগামী শুক্রবার রাজধানীতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর যুগপৎ গণমিছিল ঘিরে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ঢাকা শহরকে মিছিলের নগরীতে পরিণত করতে চায় বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। পাল্টা কর্মসূচিতে না গেলেও কোনো ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। ওই দিন রাজপথে সতর্ক অবস্থানে থাকবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী। এ পরিস্থিতিতে সহিংসতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে না গেলেও আগামী শুক্রবার বিএনপির গণমিছিলের কর্মসূচিকে কোনো ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। ১০ ডিসেম্বরের মতো ওই দিনও রাজধানীর রাজপথে সতর্ক অবস্থান নেবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কা দেখামাত্র প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নেতাকর্মীরাও প্রতিহত করার চেষ্টা করবেন।

নেতারা বলছেন, বিএনপি ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় যে গণমিছিলের ডাক দিয়েছে, সেখানে আগের মতো আবারও সংঘাত-সহিংসতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিএনপির সমমনা জোট ও দলগুলোও রাজধানীতে আলাদা আলাদা গণমিছিলের কর্মসূচি দেওয়ায় সংঘাত-সহিংসতা ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর বিএনপির সারাদেশে গণমিছিলের কর্মসূচিতে একজনের মৃত্যুসহ কয়েকটি স্থানে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এই অবস্থায় বিএনপির কর্মসূচিকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নীতিনির্ধারক কয়েকজন নেতা বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর গোলাপবাগে বিএনপি যে বিভাগীয় গণসমাবেশ করেছিল, সেটি ছিল একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু এবার তাদের গণমিছিলের কর্মসূচি নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হলেও বিভিন্ন পথ ঘুরে বাংলামটর গিয়ে শেষ হবে। আর ‘যুগপৎ আন্দোলন’-এর অংশ হিসেবে বিএনপির সমমনা সাত দলের জোট গণতন্ত্র মঞ্চ, ২০ দল ভেঙে গড়ে ওঠা ১২ দলীয় জোট, জামায়াত এবং এলডিপি রাজধানীর আলাদা আলাদা স্পট ও রুটে গণমিছিল করবে। ফলে এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি ও তার মিত্ররা ঢাকার সব রাজপথ অচল করে নিজেদের দখলে নিতে চায় বলেই মনে হচ্ছে। এ ছাড়া গণমিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা রাস্তায় রাস্তায় ভাঙচুর, হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সহিংসতায় জড়ালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে সেটা সামাল দেওয়া মুশকিল হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ১০ ডিসেম্বর ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে রাজপথে থেকে বিএনপিকে মোকাবিলা করেছেন, একই কৌশলে শুক্রবার তাদের মোকাবিলা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ওই দিন নেতাকর্মীরা রাজপথে সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। ঢাকা মহানগরীর উত্তর ও দক্ষিণ উভয় অংশের পাড়া-মহল্লা, অলিগলি এবং ছোট-বড় সড়ক সবখানে ছড়িয়ে থাকবেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
এদিকে, সোমবার দলের নবনির্বাচিত সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে বিএনপির কর্মসূচি মোকাবিলা করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে ১০ ডিসেম্বরের মতো মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে বিএনপি ও সমমনাদের গণমিছিলের কর্মসূচি মোকাবিলায় কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বিষয়ে কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক।

সভা শেষে ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির নেতৃত্বে অপশক্তি গণমিছিলের নামে সারাদেশে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ ৩০ তারিখ সারাদেশে সতর্ক পাহারায় থাকবে। আক্রান্ত হলে আওয়ামী লীগ পাল্টা আক্রমণ করবে কিনা, সেটা পরিস্থিতিই বলে দেবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাকে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই অবস্থায় বিএনপি আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। আর জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া যে কোনো সরকারের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও দায়িত্ব মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সরকার ও দল সেই দায়িত্ব পালনে যা যা করার দরকার সবই করবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপির কর্মসূচি মানেই সংঘাত-সংঘর্ষ ও নাশকতা-সহিংসতা। বিএনপি যাতে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও ও অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষের শান্তি নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আওয়ামী লীগ সব সময়ই মাঠে থাকবে।

যেভাবে ‘সতর্ক অবস্থান’ আওয়ামী লীগের

বিএনপি ও সমমনাদের গণমিছিলকে ঘিরে সম্ভাব্য ‘নাশকতা’ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গণমিছিলের দিন শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি ওয়ার্ডের রাজপথে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীর সতর্ক অবস্থান থাকবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, আজ বুধবার রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মেট্রোরেল উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার কর্মসূচি রয়েছে। এই জনসভায় লক্ষাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিশাল জনসমাগমে পরিণত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। এই কর্মসূচি শেষ করেই বিএনপির গণমিছিল মোকাবিলার কৌশল চূড়ান্ত করবেন তাঁরা। সে ক্ষেত্রে ১০ ডিসেম্বরের মতো শুক্রবারও মহানগর উত্তরের অধীন ২৬টি থানা, ৫৪টি ওয়ার্ড এবং একটি ইউনিয়নে নেতাকর্মীকে নিয়ে পাহারা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিজ নিজ থানা ও ওয়ার্ড সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে অবস্থান নেবেন নেতাকর্মীরা। দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এই অবস্থানে থাকবেন।

এ ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অধীন ৭৫টি ওয়ার্ডেই ওয়ার্ড সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নেতাকর্মীর সতর্ক পাহারা বসানো হবে। আর ২৪টি থানার মূল পয়েন্ট কিংবা মোড়ে থানা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা অবস্থান নিয়ে গোটা পরিস্থিতি তদারকি করবেন। ওয়ার্ড ও থানাওয়ারি অবস্থান তদারকি করতে মহানগর উত্তরের ৭৫ জন নেতাকে ৭৫টি এলাকা ভাগ করে দেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় সর্বস্তরের নেতাকর্মীর ‘সতর্ক পাহারা’ বসানোর মাধ্যমে বিএনপি ও তার দোসরদের সন্ত্রাস-সহিংসতার ষড়যন্ত্রকে রুখে দেওয়া হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ বলেন, আন্দোলনের নামে কাউকে ঢাকার ভেতর শান্তি নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এই কারণে আগের মতোই সব এলাকায় শান্তিপূর্ণ সতর্ক অবস্থান নেবেন তাঁরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ