বিএনপিসহ সমমনাদের দফা সমন্বয় করে শিগগির যুগপৎ আন্দোলনের 'যৌথ ঘোষণা - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:৫৪, রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপিসহ সমমনাদের দফা সমন্বয় করে শিগগির যুগপৎ আন্দোলনের ‘যৌথ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ৮, ২০২৩ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ৮, ২০২৩ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনের দাবিতে চলমান যুগপৎ আন্দোলনকে সফল করতে নানামুখী পরিকল্পনা করছে বিএনপিসহ সমমনা জোট ও দলগুলো। এবার যুগপৎ আন্দোলনের ‘যৌথ ঘোষণা’ দেবে তারা। এরই মধ্যে বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা, গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফাসহ অন্যান্য জোট ও দলের প্রস্তাবনাগুলোও এতে সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে বিএনপি ঘোষিত ‘রাষ্ট্র রূপান্তরের ২৭ দফা’র দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, টানা দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী না হওয়া এবং দু’জনের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যসহ মূল কয়েকটি বিষয়ও এ ঘোষণায়ও উল্লেখ করা হতে পারে। এরই মধ্যে ঘোষণার ‘খসড়া’ প্রণয়নে একটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে সমমনা সব দলের প্রস্তাবনা নিয়ে রাষ্ট্র রূপান্তরের একটি ‘যৌথ রূপরেখা’ ঘোষণারও পরিকল্পনা রয়েছে দলগুলোর।

দলীয় সূত্র জানায়, নব্বইয়ের স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ‘তিন জোটের রূপরেখা’র আদলের চলমান আন্দোলনের এ যৌথ ঘোষণাপত্রটি তৈরি হবে। অবশ্য তিন জোটের রূপরেখার চেয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আরও বিস্তারিতভাবে আন্দোলন ও ক্ষমতায় এলে পরবর্তী করণীয়গুলোও উল্লেখ থাকবে। ইতোমধ্যে বিএনপির সঙ্গে সমমনা গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলীয় জোটসহ মোট ৩৮টি রাজনৈতিক দল যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের সূচনা হলেও যৌথ ঘোষণাটি একই মঞ্চ থেকে দেওয়ার চিন্তাভাবনাও চলছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ গতকাল বলেন, বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের দফাগুলোকে সমন্বয় করে তাঁরা যৌথ ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। বিষয়টি এখনও একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। এটি চূড়ান্ত করতে তাঁদের আরও একাধিকবার বৈঠক করতে হবে। ওই সব বৈঠকে চুলচেরা বিশ্নেষণ করে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপি ও সমমনা নেতাদের দাবি, ইতোমধ্যে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন অনেকটা সফলতার পথে রয়েছে। বিশেষ করে প্রথমত, অবিলম্বে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনসহ অন্যান্য দাবিতে সরকারবিরোধী ৩৮ রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

দ্বিতীয়ত, দলীয়ভাবে বিএনপির আন্দোলনের ১০ দফা এবং ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র রূপান্তরের ২৭ দফা রূপরেখার সঙ্গে একমত হয়ে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। এই দুটি দফা অতিক্রম করাই ছিল তাঁদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন তাঁরা পর্যায়ক্রমে আন্দোলনের তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে যাবেন।

জোট ও দল সূত্র জানায়, আন্দোলনের তৃতীয় ধাপের অংশ হিসেবে সমমনা জোট ও দলগুলো নূ্যনতম ইস্যুতে যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে দলীয়ভাবে বিএনপি ১০ দফা ও গণতন্ত্র মঞ্চ ১৪ দফা ঘোষণা করেছে। তবে অন্যান্য জোট ও দলগুলো বিএনপি ঘোষিত দফাগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করেছে। তবে এ জোট ও দলগুলোর কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে। এখন তৃতীয় দফায় বিএনপিসহ সব জোট ও দল পৃথক মঞ্চ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের ‘যৌথ ঘোষণা’ দেবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণাপত্র তৈরির কাজ চলছে। তাঁরা একই দিন এবং একই মঞ্চ থেকে এই ঘোষণাপত্র দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। ঘোষণাপত্র একই মঞ্চ থেকে দিলেও আন্দোলনের কর্মসূচি পালিত হবে পৃথক মঞ্চ থেকে। তবে সবকিছু চূড়ান্ত হবে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে।

বিএনপি সূত্র জানায়, গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলোর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে আ স ম আবদুর রব আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐকমত্যের সরকারে ছিলেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ হলেও গণতন্ত্র ফেরেনি। আবার ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছেন। তাড়াহুড়া করে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করায় সেটি গঠনমূলক ও কার্যকর জোট হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ করেও কোনো সুফল আনতে পারেননি। অতীতের এ ধরনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে মানুষের আস্থা অর্জন পারে- সে ধরনের দফার ভিত্তিতে ‘যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণাপত্র’ তৈরি করতে চান তাঁরা।

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন না করলে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না। এ লক্ষ্যে আমাদের চলমান আন্দোলনকে বেগবান করতে যা যা করার, তা করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এবারের এই আন্দোলন দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরে স্বাধীনতার ৫০ বছরের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বিএনপির ১০ দফার মধ্যে সংসদ বিলুপ্ত করে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ; ১৯৯৬ সালে সংবিধানে সংযোজিত ধারা ৫৮-খ, গ ও ঘ-এর আলোকে দলনিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন বা অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন; বর্তমান কমিশন বিলুপ্ত করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন; খালেদা জিয়াসহ সব বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও আলেমদের সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধ ও সভা-সমাবেশে বাধা সৃষ্টি না করা; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ ও বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪সহ মৌলিক মানবাধিকার হরণকারী সব কালাকানুন বাতিলসহ আরও কয়েকটি দফা রয়েছে।

রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখার মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জয়লাভের পর বর্তমান ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকার হটানোর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে জাতীয় সরকার গঠন; বর্তমান ‘কর্তৃত্ববাদী’ সরকারের আমলে ‘ভেঙে পড়া’ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর রূপান্তরমূলক সংস্কার কাজগুলো গ্রহণ; পরপর দুইবারের বেশি কেউ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন না করার নিয়ম চালু; গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা; রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা; বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘উচ্চকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা’ প্রবর্তন; নানাবিধ সংস্কারের জন্য কমিশন গঠনসহ সংবিধানে গণভোট ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফার মধ্যে সংসদ বিলুপ্ত করে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, নতুন নির্বাচন কমিশন তৈরি, খালেদা জিয়াসহ ‘রাজবন্দিদের’ মুক্তি, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন, নির্বাচনে টাকার খেলা ও মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগকে পৃথককরণ, ন্যায়পাল ও সাংবিধানিক আদালত প্রতিষ্ঠাসহ আরও কিছু বিষয় রাখা হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ