ছেলের বিয়েতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা তুলেছেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী: আলাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তার ছেলের বিয়ে উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা তুলেছেন অভিযোগ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন ছেলের বিয়ের মধ্যে ১৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে থেকে চাঁদা তুলে সেই টাকা দিয়ে শিক্ষকদেরকে ফ্রিজ, টেলিভিশন গিফট দিতে বাধ্য করেছেন এবং সেই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখতেও বাধ্য করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এরা (আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা) এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে। আর তারা বলে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে। তারা বলে একটা, করে আরেকটা। আওয়ামী লীগের হাত দুইদিকে থাকে কাউকে ভয় দেখাতে হলে ঘাড় চেপে ধরে আর বিপদে পড়লে পা চেপে ধরে।
শনিবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে বিএনপির চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ আটক সকল দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করে আলাল বলেন, এই শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে সাথে নিয়ে ১৩ মাস আগে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিল। বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইভ লাইন চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল। হরতাল ডেকে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলেছিল। আজ সেই শেখ হাসিনাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে এবং উল্টাপাল্টা কথা বলছেন।
তিনি বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগ) ভালো হবে না এটা বলছি না। ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর কথা ছিল এখন ৭০ টাকা কেজি এটা ভালো লক্ষণ না। ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিল তারা ঘরে ঘরে মামলা দিয়েছে। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী জেলে। বিনামূল্যে সার দেওয়ার কথা বলেছিল সারের দাম শতগুন বেড়েছে। কৃষক ভাইয়েরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। বাসাবাড়ি থেকে যে ময়লা দেয়া হয় সেখান থেকেও তারা ট্যাক্স নেয়। রাস্তাঘাটে ভিক্ষুকরা ভিক্ষা করে তাদের কাছ থেকেও চাঁদা নেয় ছাত্রলীগ।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, কয়েকদিন প্রধানমন্ত্রী সংসদে ধমক দিয়ে বললেন আওয়ামী লীগকে কেউ ক্ষমতা থেকে নামাতে পারবে না। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই আপনার এতই যখন ক্ষমতা যখন আপনারা ইউরোপ, আমেরিকার লোকদের সাথে বসেন তখন আপনাদের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায় কেন?
আলাল বলেন, বিদ্যুতের বিল আবার বাড়াচ্ছেন। আবার ধমক দেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিবে। আপনি (শেখ হাসিনা) ধমক দিতে জানেন। আওয়ামী লীগ ঘাড় চেপে ধরে আবার যখন বিপদে পড়ে তখন পা ধরে। আপনাদের নৈরাজ্য বন্ধ করেন। বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে মুক্ত করে দেন। নাহলে জনগণের আন্দোলনের মুখে আপনাদেরকে বিদায় নিতে হবে।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন খান, ওমর ফারুকসহ ঢাকা উত্তর দক্ষিণ মৎস্যজীবী দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ