নয়াদিল্লি সফরশেষে শনিবার রাতে ঢাকায় এসেছেন ডোনাল্ড লু
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ ৮:১৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ ৮:১৩ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ডোনাল্ড লু আজ শনিবার রাতে নয়াদিল্লি সফরশেষে ঢাকায় এসেছেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক নাঈম উদ্দিন আহমেদ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। সরকার ডোনাল্ডের এই সফরকে রুটিন জব বললেও লু হাওয়ায় ভাসছে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন অভিজ্ঞ কূটনীতিক লু। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত ছাড়াও তার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের আয়োজনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন। এসব বৈঠকে টানাপড়েনের ইস্যুগুলো সুরাহার মাধ্যমে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দিবে দুই দেশ। ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে বিশ্বের অন্য বড় শক্তিগুলোর মতোই সব অস্বস্তির দেয়াল ভেঙে বাংলাদেশকে পাশে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।
জানা গেছে, র্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জিএসপি পুনর্বহাল, যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারে রয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্যাটেজি, নিরাপত্তা সহযোগিতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে আকসা ও জিসোমিয়ার মতো চুক্তি সই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং প্রস্তাবিত ডাটা সুরক্ষা আইন। ঢাকা ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞা, ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের অপ্রীতিকর ঘটনা, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং শ্রম অধিকারসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অস্বস্তি হয়ে থাকা বিষয়গুলোও আলোচনার এজেন্ডায় থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে টানাপড়েন যাই থাকুক যুক্তরাষ্ট্র এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে চায়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে বিরোধী দলগুলোসহ রাজনৈতিক মহলও এ সফরকে সতর্কতার সঙ্গে নজরে রাখছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আশা করছে, ডোনাল্ড লু বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি না করতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডোনাল্ডের সঙ্গে বিএনপির বৈঠকের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রভাবশালী সহকারী মন্ত্রীর সফরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাংলাদেশ অনুরোধ করবে জানিয়ে শনিবার সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, র্যাব ইস্যুতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আশা করে বাংলাদেশ। আমাদের একটা অনুরোধ থাকবে যুক্তরাষ্ট্র যেন বিষয়টাকে বিবেচনা করে।
২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা করছে। ডোনাল্ড লু’র সফরেও এর ব্যতিক্রম হবে না। আগামীতেও বাংলাদেশের ওপর যেন কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা না আসে, সে বিষয়েও অনুরোধ জানাবে সরকার।
বাইডেনের বিশেষ দূত এলিন লোবাচের সফরের পর তার এ সফরকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশেষজ্ঞরাও। এ সফরকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি লেভেল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এলিন সফরে যে আলোচনা করেছেন এবং সফর শেষে ফিরে গিয়ে যে রিপোর্ট করেছেন তার ভিত্তিতেই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এগিয়ে নেবেন ডোনাল্ড। তবে তার পদক্ষেপ হবে রাজনৈতিক।
তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে কাজ করছেন ডোনাল্ড লু। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সফরশেষে রোববার রাতেই তার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ